২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাগরিক পদচারণায় মুখর উদ্যান ও বিনোদন কেন্দ্র

  • রাজধানীতে ঈদ বিনোদন

মনোয়ার হোসেন

উৎসবে উদ্্যাপনে জুড়ি নেই বাঙালির। তাই তো ধর্মীয় উৎসবও হয়ে ওঠে সর্বজনীন। আনন্দ অবগাহনে মিলে যায় ধর্মের বিভাজন। সেই সূত্রে সম্প্রীতির বন্ধনে বর্ণিল হয়ে ওঠে ধর্মীয় উৎসব। আনন্দের সন্ধানে এক ধর্মের উৎসবে শামিল হন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও। এবারের ঈদ-উল -আযহাতেও ঘটেনি তার ব্যতিক্রম। মূলত বেশিরভাগ মুসলিমের ত্যাগের মহিমান্বিত পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে শুক্রবার। তাই দ্বিতীয় দিন শনিবার থেকেই যেন বয়ে গেছে উৎসবে মেতে ওঠার আনন্দযজ্ঞ। সেই হিসেবে রবিবার শেষ হয়েছে তিন দিনের ঈদ উৎসব। যদিও রবিবার থেকে কর্মদিবস শুরু হলেও রাজধানীতে রয়ে গেছে ঈদ আনন্দের রেশ। উৎসবপ্রিয় মানুষ নির্মল আনন্দের সন্ধানে ছুটে বেরিয়েছে শহরের নানা প্রান্তজুড়ে। ফাঁকা হওয়া ঢাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরাজ করেছে উচ্ছ্বাসের আবহ। উৎসব উপলক্ষে নিরিবিলি হওয়া নগরে দেখা মিলেছে শুধুই আনন্দের উদ্যাপন। আকাশে-বাতাসে ভেসে বেরিয়েছে সুখময়তার বারতা। ঈদ ছুটির সুযোগে কোলাহল ও যানজটের যান্ত্রিক শহরে সকাল থেকে রাত অবধি চলেছে রিক্সাবিলাস। ফাঁকা শহরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ লুফে নিতে উতলা নাগরিক মন চড়ে বসেছে তিন চাকার বাহন রিক্সায়। স্বল্পসংখ্যক মোটরচালিত বাহনের উপস্থিতির ফলে কানে লেগেছে রিক্সার বেল বাজানো সুমধুর ক্রিং ক্রিং শব্দ। উৎফুল্ল মনে শহরবাসী রিক্সাভ্রমণ করেছে নগরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। বাবার সঙ্গে মেয়ে, মায়ের সঙ্গে ছেলে অথবা এক রিক্সায় পুরো পরিবার, প্রেমিকের সঙ্গে প্রেমিকা, বন্ধুর সঙ্গে বান্ধবীÑ এমন নানা সম্পর্কের মানুষ শামিল হয়েছে এই রিক্সাভ্রমণে। রিক্সাবিলাসের পাশাপাশি ঈদের তিনটি দিন শুক্র, শনি ও রবিবার সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা-রাত পর্যন্ত ব্যস্ত ছিল রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। সারা ঢাকা যে ফাঁকা হয়ে গেছে তা বোঝার উপায় ছিল না এসব বিনোদন কেন্দ্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুরে বেড়িয়েছেন এসব পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রে। কেউ বা আবার সেলুলয়েডের গল্পে বিভোর সময় কাটাতে হাজির হয়েছেন বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। অন্ধকার ঘরে বসে বিশাল পর্দায় নিমগ্ন চিত্তে উপভোগ করেছেন ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন কোন বাংলা সিনেমা অথবা সাম্প্রতিক মুক্তি পাওয়া হলিউডি মুভি। সেই সূত্রে স্টার সিনেপ্লেক্স, মধুমিতা, অভিসার, বলাকা সিনে ওয়ার্ল্ড, ব্লকবাস্টার সিনেমাসসহ রাজধানীর প্রেক্ষাগৃহগুলো সরব ছিল সিনেমাপ্রেমীদের পদচারণায়। তিন দিনের সরকারী ছুটি শেষে রবিবার সরকারী-বেসরকারী অফিস খুলেছে। তবে স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় এখনও খোলেনি। সেই হিসেবে উৎসবের আমেজ বিরাজ করবে আরও কয়েকদিন।

ঈদ আনন্দের রেশ ধরে রবিবারও শাহবাগের শিশু পার্ক ও জাতীয় জাদুঘর, মিরপুরের চিড়িয়াখানা, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, শ্যামলীর শিশু মেলা, পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা কিংবা আহসান মঞ্জিল, বারিধারার যমুনা ফিউচার পার্ক, আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্কসহ বিনোদনকেন্দ্রগুলো মুখর ছিল বিনোদনপিপাসু নাগরিকের আগমনে। রোদ পড়া বিকেলে দারুণ ভিড় জমেছিল হাতিরঝিলে। একটু স্বস্তি আর শান্তির অন্বেষণে শহুরে ভ্রমণবিলাসীরা বেছে নিয়েছিলেন মনোরম এই স্থানটিকে। হেঁটে পুরো জায়গাটি ঘুরে দেখতে দেখতে চলেছে গল্প-গুজব আর আড্ডা। কেউ বা এসেছিলেন ঘরের শিশুটিসহ পুরো পরিবার নিয়ে। অনেকেই এসেছিলেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দিতে। ঘোরাঘুরির আঙিনায় দেখা গেছে নববিবাহিত দম্পতি বা প্রেমিক জুটিকেও। একইরকম দৃশ্যকল্পের দেখা মিলেছে সংসদ ভবন লাগোয়া চন্দ্রিমা উদ্যানে। বৃক্ষরাজি শোভিত সবুজ ঘাসে আবৃত রমনা পার্ক ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানেও আনন্দপিপাসু মানুষের দেখা মিলেছে। বিকেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও শাহবাগের জাদুঘরের সামনের আঙিনায়ও দেখা গেছে তরুণদের জম্পেশ আড্ডা। ঢাকাবাসীর ঘোরাঘুরির তালিকায় বাদ যায়নি পুরান ঢাকার বলধা গার্ডেন থেকে শুরু করে গুলশান পার্ক, ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর, গুলশান লেক, বুড়িগঙ্গা ব্রিজসহ বিভিন্ন স্পট।

শনিবারের মতো ঈদের তৃতীয় দিন রবিবারও সমানতালে শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়েছে সোনামনিদের তীর্থস্থান শিশুপার্ক। এখানে সকাল থেকেই ভিড় জমে শিশুদের। তবে বিকেলের পর থেকে খুদে বন্ধুদের সেই ভিড়ভাট্টা হয়ে ওঠে আরও জমজমাট। এক একটি রাইডে চড়ার জন্য শিশুদের বিশাল লাইন লেগে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে একটি রাইডে চড়ে যেন এক নিমিষেই দূর হয়েছে সোনামণিদের সকল ক্লান্তি। রোমাঞ্চ চক্র, আনন্দ ঘূর্ণি, উড়ন্ত বিমান, উড়ন্ত নভোযান, ঝুলন্ত চেয়ার, লম্ফঝম্ফ, ব্যাটারি কার, এফ সিক্স জঙ্গি বিমান, রেলগাড়ি ও বিস্ময় চক্র এমন ১০টি রাইডার নিয়ে শিশুদের মনোরঞ্জনে ব্যস্ত ছিল শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে শিশু পার্কের দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, পশু কোরবানির কারণে ঈদের প্রথম দিন শুক্রবার বন্ধ ছিল শিশু পার্ক। দ্বিতীয় দিন শনিবার থেকে খুলে দেয়া হয় শিশুদের এই তীর্থস্থান। এদিন শিশুদের সঙ্গে অভিভাবক মিলিয়ে ৩৪ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। রবিবার এই সংখ্যাটা আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

ঈদের প্রথম দিন ব্যাপক জনসমাগম না ঘটলেও শনিবার ফাঁকা থাকেনি বিনোদনপিপাসুদের প্রিয় প্রাঙ্গণ চিড়িয়াখানা ও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান। সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছেন বাঘের গর্জন, বানরের চেঁচামেচি, বেবুনের ভেংচি কাটা, উটপাখির দৌড়াদৌড়ি, জলহস্তির ডুবসাঁতার বা ময়ূরের নাচ দেখার আশায়। বানরের দুষ্টুমি দেখতে খাঁচার সামনে ছিল শিশুদের ভিড়। অনেকেই শিশু-কিশোরসহ পরিবারের বিভিন্ন বয়সের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দিনভর চিড়িয়াখানার পশুপাখি দেখে কাটিয়েছেন নির্মিল আনন্দময় সময়। আর চিড়িয়াখানা দেখতে এসে অনেকেই ছুটে গেছেন জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। মন ভরে নানা বিন্যাসের বৃক্ষরাজি, কৌতূহলভরে কেউ বা জেনে নিয়েছেন সেই গাছের নামটি।

৯৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা চিড়িয়াখানায় রয়েছে দেশী-বিদেশী অসংখ্য প্রজাতির পশুপাখি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খাঁচার সামনে। শ্যামলী থেকে সপরিবারে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন ব্যবসায়ী রইসুল আলম। তিনি বলেন, ব্যবসার কাজে সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। নাতি-নাতনিদের সময় দিতে পারি না। ঈদের ছুটিটা তাই কাজে লাগাতে ব্যাকুল থাকি। এ কারণেই নাতি-নাতনিদের নিয়ে এসেছি চিড়িয়াখানায়। ওদের আনন্দে ভরে গেল নিজের মনটাও।

ঈদের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল থেকে খোলা ছিল জাতীয় জাদুঘর। সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ^সভ্যতা বিভাগের কীপার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জাতীয় জাদুঘর আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে। এখানে এসে নিজেকে জানার সুযোগ পায় মানুষ। বিশেষ দিবসগুলোতে জাদুঘর বন্ধু থাকলে অনেকেই এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ দিকটি বিবেচনা করেই বিশেষ বিশেষ দিবসগুলোতে জাতীয় জাদুঘর খোলা রাখা হয়। শিশু-কিশোরদের বিনোদনে বিনোদনে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা জাদুঘরে শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রথম দিন শনিবার দেখানো হয় ফরিদুর রেজা সাগরের ছবি ‘রাজশাহী রসগোল্লা’। রবিবার দেখানো হয় মোরশেদুল ইসলামের ‘আমার বন্ধু রাশেদ’। আজ সোমবার দেখানো হবে হুমায়ূন আহমেদের ছবি ‘নয় নম্বর বিপদ সঙ্কেত’। বিনা দর্শনীতে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীর সময়সূচী সকাল ১১টা ও বেলাই আড়াইটা। আগে আসলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে আয়োজন করা হয়েছে এই প্রদর্শনী।

পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা এখন রাজধানীবাসীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ঈদের প্রথম দুই দিন শুক্র ও শনিবার ইতিহাসের সাক্ষী এই স্থাপনাটিতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। সকাল দশটা থেকে খুলে দেয়া হয় কেল্লার প্রবেশদ্বার। দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হয় টানা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কৌতূহলীয় দর্শনার্থীরা কেল্লার বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে জেনে নিয়েছেন ১৬১০ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক স্থাপনার নানা বিষয়। রবিবার ছিল সাপ্তাহিক বন্ধ।

রাজধানীর নিসর্গভূমি হাতিরঝিল প্রকল্পে ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বর্তঃস্ফূত উপস্থিতি। ঈদের ছুটির প্রতিটি দিনই উপচে পড়া ভিড় ছিল হাতিরঝিলে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে মা ও বোনের সঙ্গে হাতিরঝিল আসেন দশম শ্রেণীর ছাত্রী নদী। হাতিরঝিলে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখে অবাক হয়ে তিনি বললেন, ঈদের ছুটিতে ভেবেছিলাম হাতিরঝিল ফাঁকা থাকবে। কিন্তু আজকে তো অন্যান্য সময়ের চেয়েও বেশি ভিড়। তবে তারপরও জায়গাটা অনেক সুন্দর। খুবই ভাল লাগছে এখানে এসে।

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, ওয়াটার কিংডম, এক্সট্রিম রেসিং গো কার্ট ও হেরিটেজ পার্কÑ এই চারটি বিশ^মানের বিনোদনকেন্দ্র আনন্দপিপাসুদের জনতার সমাগমে জনসমুদ্রে পরিণত হয় ঈদের দ্বিতীয় দিন শনিবার। এসব স্পটে দর্শনার্থীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় কনসার্টসহ ড্যান্স, ডিজে শো। ছিল সেলফি জোন। আশুলিয়ার আরেক বিনোদনকেন্দ্র নন্দন পার্কেও ছিল বিনোদনপ্রিয় মানুষের ভিড়। অন্য বছরের মতো ঈদের পরের দিন থেকে পার্কের ওয়াটার রোলার কোস্টর, কেবল কার, টালটি কার, আইসল্যান্ড, রেকারসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় রাইডে ওঠার জন্য ছিল দর্শনার্থীর প্রচ- ভিড়। বারিধারার যমুনা ফিউচার পার্কে গড়ে ওঠা আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রও ছিল দর্শনার্থীতে সরব।

এদিকে ঈদে মুক্তি পেয়েছে চারটি চলচ্চিত্র। শনিবার থেকে সিনেমা হলগুলো ছিল বিনোদনপ্রিয় দর্শকে জমজমাট। ঢাকাই সিনেমার পাশাপাশি স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসে হলিউডের থ্রিডি ছবি দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন তরুণ-তরুণীরা।

এছাড়া রমনা পার্ক, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ, ছবির হাট, চন্দ্রিমা উদ্যানসহ সর্বত্রই ছিল উৎসবমুখর চোখজুড়ানো দৃশ্যপট। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাম্পাস পরিণত হয় বন্ধুদের আড্ডার মিলনকেন্দ্রে। এখানে বসেছিল খ- খ- হয়ে আসন করে নেয়া বন্ধুদের জমাটবাঁধা আড্ডা। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ছিল নানা বয়সী মানুষের পদচারণা। পুরান ঢাকার ওয়ারীর বলধা গার্ডেনের চিত্র ছিল একইরকম। ছোটরা দৌড়ঝাঁপ করে ছুটে বেড়িয়েছে উদ্যানজুড়ে। আর বড়রা প্রকৃতির সান্নিধ্যে আড্ডা জমিয়েছেন। বাদাম চিবুতে চিবুতে পেরিয়েছে মধুর সময়। কোলাহলমুখর যান্ত্রিক একঘেয়ে জীবনের বাইরে একটু বিনোদন একটু আনন্দ পেতে শহরটা যেন চষে বেড়িয়েছে ঢাকাবাসী। আর এমন মধুর দৃশ্যগুলো মনে করিয়ে দিয়েছেÑ ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে অসীম উচ্ছ্বাস।