১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকার দেশকে বড় কারাগারে পরিণত করেছে

  • লন্ডনে খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ক্ষমতা ছাড়ার ভয়ে বর্তমান সরকার নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থেই আমরা নির্দলীয় সরকারের দাবিতে লড়াই করছি। এ লড়াইয়ে প্রবাসীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে ‘বৃহৎকারাগারে’ পরিণত করেছে। বিএনপির যত নেতাকর্মী আছে, সবার নামে মামলা দিয়েছে। দেশের মানুষকে মুক্ত করতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। পুরো জাতি এখন বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তির অপেক্ষায়। ঈদের দিন (বৃহস্পতিবার) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের ফেয়ারলপ ওয়াটার পার্ক অডিটরিয়ামে প্রবাসী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে লন্ডনে প্রবাসীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে একদিকে অডিটরিয়ামে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোকের উপস্থিতি এবং অপরদিকে খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী নেতাকর্মীরা ধাক্কাধাক্কিসহ চরম বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত হয়। এ সময় খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমানও অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। ২৫ মিনিটব্যাপী খালেদা জিয়ার বক্তব্য চলাকালে নেতাকর্মীদের হৈ চৈ আর চিৎকার চেঁচামেচি চলতে থাকে। একপর্যায়ে খালেদা জিয়া দলের নেতাকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের সভ্য পরিবেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তারা যেন শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজন বোঝেন।

ক্ষমতায় গেলে দেশে যুক্তরাজ্যের মতো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা চায় না। দেশের মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। দেশে কোন মৌলিক অধিকার নেই, মানবাধিকার নেই, আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কিছুতেই গদি ছাড়বে না। তারা এত লুটপাট ও খুনখারাবি করেছে যে, ক্ষমতা ছাড়লে তারা পার পাবে না।

আওয়ামী লীগের মধ্যেও ভাল লোক ও দেশপ্রেমিক আছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং তাতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের সঙ্গে নিয়েই তিনি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চান। তিনি বলেন, দেশে এখন সরকারবিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কাউকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশের মাধ্যমে এ সরকারকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। ‘অনির্বাচিত সরকারের দমন-পীড়ন আর অত্যাচারে দেশের মানুষ আজ অতিষ্ঠ। দেশে মৌলিক অধিকার নেই, মানবাধিকার নেই, আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীদের ওপর বিশ থেকে এক শ’টির মতো মামলা রয়েছে। সরকার আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধানকে পরিবর্তন করে নিজেদের মতো করেছে। দেশে সেই বাকশালের মতো অবস্থা চলছে। তাই বিএনপির পেছনে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা আশাবাদী, মানুষ একদিন এ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। কিছু হলেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নাম। ‘একদলীয় পার্লামেন্টে’ বসে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমানকে গালিগালাজ করা ছাড়া তাদের আর কোন কাজ নেই। বিএনপির জনসমর্থন অনেক বেড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপিরই জয় হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, এই প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে ঈদ করছি। কিন্তু এখানে সবাইকে কাছে পেয়ে মনে হচ্ছে, আমি যেন দেশেই আছি। দীর্ঘদিন পর যেমন পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাত পেয়েছি, তেমনি এই অনুষ্ঠানে এসেও ভাল লাগছে। কারণ আপনারা আমার পরিবারের সদস্যের মতোই আপন। তিনি বলেন, দেশে সংবাদপত্রের কোন স্বাধীনতা নেই। সাংবাদিকরা সত্যি কথা লিখতে পারেন না। সত্যি কথা লিখলে তাদের নামে মামলা হয়, জেল হয়। যারা টকশোতে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের সমালোচনা করেন তাদের টকশোতে আসতে দেয়া হয় না। সংবাদপত্রে বা টেলিভিশনে বিরোধী দলের কিছু প্রচার করতে দেয়া হয় না। তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ তারেক রহমানের সত্য বক্তব্যে তাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়। খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। চলছে অত্যাচার, অনাচার আর গুমনীতি। কোন উন্নয়ন নেই। দেশের মানুষ এসবের পরিবর্তন চায়। চায় শান্তি, উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেনÑ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য