১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বগুড়ায় কোরবানির গোশত বেচাকেনার হাট

সমুদ্র হক, বগুড়া থেকে ॥ কোরবানির ঈদের গোশত বিতরণের সেই চেনা দৃশ্যের আজ অনেকটা পরিবর্তন। বছর ছয়েক আগেও শহরের বাসাবাড়িতে দুপুরের পর হতেই ভিক্ষুকদের পদচারণায় শোরগোল পড়ে যেত। নিয়মানুযায়ী কোরবানির গোশতের নির্দিষ্ট একটি অংশ পাড়া-মহল্লার গরিব পরিবার, দিনমজুরদের জন্য বরাদ্দ রেখে আরেক অংশ ভিক্ষুকদের বিতরণের জন্য থাকত। বর্তমানে ভিক্ষুকদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। গরিব ও মজুর শ্রেণীর বড় একটি অংশ পূর্বের অবস্থান থেকে অনেকটা এগিয়েছে। এরপরও যারা আছে কোরবানির গোশত প্রাপ্তির পরিমাণ তাদের বেড়ে যাওয়ায় মুফতে ব্যবসাও করে নিচ্ছে। এদের এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েছে তৃতীয় একটি পক্ষ। শেষ ধাপে মহাজন তো আছেই। শৃঙ্খলিত একটি শিকলের মাধ্যমে কোরবানির গোশত বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বগুড়া শহরের রেল স্টেশনের আশপাশে বিকেলের মধ্যেই চারদিক থেকে ভিক্ষুক ও মজুরদের একটি অংশ বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে পাওয়া গোশত ঝোলায় ভরে নিয়ে যায় বেচাকেনার ভাসমান হাটে। মিডলম্যান দরকষাকষি শুরু করে। দাম নির্ধারণের পর তাদের পালিত ফড়িয়ারা ক্যাশ পেমেন্ট করে গোশত পৌঁছে দেয় মহাজনদের কাছে। সবশেষে এই গোশত কিনে নিয়ে যায় যারা কোরবানি দিতে পারেনি এমন ব্যক্তিগণ। তবে বেশিরভাগ গোশতই চলে যায় হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছে। কোরবানির গরুর গোশত হাত বদলের প্রথম ধাপে বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা দরে। পরবর্তী পর্যায়ে কয়েক হাত বদলের পর মহাজনের বড় হাঁড়ি বা গামলায় জড়ো হয়ে ফাইনাল ক্রেতার কাছে বিক্রি হয় সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, গরুর গোশতের স্বাভাবিক দামের চেয়ে কোরবানির গোশতের দাম কিছুটা বেশি। মিডলম্যান ও মহাজনের কয়েক চেলা জানায়, সকলেই জানে কোরবানির গোশতের স্বাদ আলাদা, তাই দাম বেশি। মাঝারিমানের হোটেলগুলো (অনেক সময় কোন বড় হোটেলও) ঈদের পরের দিনকয়েক কোরবানির গরুর গোশত বলে তরকারি বিক্রি করে। পরিবর্তনের পালায় এমনই ধারায় কোরবানির ঈদের গোশত বিকিকিনির হাট বসেছে, যেখানে গরিবেরা বাড়তি কিছু রোজগারের আশায় এবং ফড়িয়ারা টুপাইস কামাতে ঈদের দিন দুপুরের পরই মাঠে নামে। রাতের প্রথম ভাগ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার বেচাকেনায় কোন পক্ষেরই লোকসান হয় না। কোরবানির গোশত খাওয়াও হলো বাড়তি দুটি পয়সাও মিলল।