২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে নবম শ্রেণীর ছাত্রকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ২৭ সেপ্টেম্বর ॥ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাউর রহমান সরকারের একমাত্র পুত্র আশিকুর রহমান সাম্যকে (১৬) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পৌর মেয়রের ৬নং ওয়ার্ডের ঘোষপাড়ার বাড়ি থেকে তার বন্ধু ও সহপাঠী বর্ধনকুঠি এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার খান হৃদয় ডেকে নিয়ে যায়। এর ১৪ ঘণ্টা পর কমিউনিটি সেন্টারের পেছন থেকে শুক্রবার সকালে তার হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র।

এব্যাপারে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাৎক্ষণিক তার বন্ধু হৃদয়, রাবেয়া, রুনা, সুজন, রফিকুল, আল-আমিন, জাকির হোসেন, শিমুলকে আটক করেছে। পিতা পৌর মেয়র আতাউর রহমান বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ওই খুনের মূল পরিকল্পনাকারি হিসেবে পৌর কাউন্সিলর জয়নাল আবেদিনসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। এ খুনের ঘটনা ও লাশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই গোবিন্দগঞ্জ এলাকাজুড়েই শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে পৌরসভার ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের কোরবানি ঈদের আনন্দ মেলান হয়ে যায়। তারা শোকে ওইদিন কোরবানি থেকে বিরত থাকেন।

এই নির্মম খুন ও এর মূল পরিকল্পনাকারী পৌর কাউন্সিলর জয়নাল আবেদিনসহ অন্য ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ পলাতক আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং পুলিশের কর্তব্য অবেহলার অভিযোগ এনে শনিবার রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক সকাল ১০টা থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় সড়কের দু’পাশে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনতাকে আশ্বস্ত করা হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে। এতে শনিবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলামকে পুলিশ সুপার অফিস কার্যালয়ে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল ইসলাম সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে গোবিন্দগঞ্জের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অন্য জেলায় বদলির জন্য সুপারিশও করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এ খুনের মূল কারণ নিহত সাম্য ও তার বন্ধু হৃদয়ের সঙ্গে একটি দামী মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বিষয়ে নানা দ্বন্দ্বের সুত্রপাত হয়। এই সূত্র ধরেই হৃদয়ের নেতৃত্বে জাকির ও সজিব এই দুই বন্ধু মিলেই সু-পরিকল্পিতভাবে সাম্যকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করে।