২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ কিশোরগঞ্জের পাঁচ রাজাকারের শুনানি আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের দুই সহোদর এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহম্মেদ ও ক্যাপ্টেন (অব) নাসির উদ্দিন আহম্মেদসহ পাঁচ রাজাকারের পক্ষে শুনানি আজ শুরু হবে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন তাদের পক্ষে শুনানি শেষ করেছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এদিন নির্ধারণ করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো: শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। অন্যদিকে জামালপুরের আশরাফসহ আট রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ওপর শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ৫ রাজাকারের মধ্যে একমাত্র এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহম্মেদ গ্রেফতার হয়েছে। অন্যরা এখনও পলাতক রয়েছেন। উল্লেখ্য, এই আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগের (চার্জ) মধ্যে রয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৭ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানাধীন আয়লা গ্রামে নাছির উদ্দিন ও শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী লুণ্ঠন, আটক ও নির্যাতন করে মুক্তিযোদ্ধার পিতা আব্দুল বারেকসহ মো. হাবিবুল্লাহ, শেখ চান্দু মিয়া, শেখ মালেক, আফতাব উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন, আব্দুল জব্বার ও আব্দুল মালেককে গুলি করে হত্যা করে। পরে (সকলের) মোট আটজনের লাশ পাওয়া যায়। ১১ নবেম্বর এটিএম নাছিরের নেতৃত্বে করিমগঞ্জ থানাধীন আয়লা গ্রামে মিয়া হোসেন নামে একজনকে গুলি করে হত্যা করে। ২৬ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জের কলালি গ্রামে নাসির উদ্দিন ও শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী আব্দুল গফুর নামে একজনকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে খুদির জংগল ব্রিজে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। ২৩ আগস্ট করিমগঞ্জের বাজার ঘাট থেকে নাসির উদ্দিন ও শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী ফজলুর রহমান মাস্টার নামে একব্যক্তিকে আটক করে কিশোরগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পে প্রেরণ করে। সেখানে তাকে নির্যাতনের পরে হত্যা করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জের রামনগর গ্রামে শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে তার সহপাঠী পরেশ চন্দ্র সরকার নামের একজনকে আটক করে নির্যাতনের পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ মামলার তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ৬ জুন। তদন্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান গত বছরের ২৬ নবেম্বর নাসিরউদ্দিন-শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেও আরও অধিক তদন্তের জন্য ফেরত পাঠান প্রসিকিউশন। তাদের বিরুদ্ধে ১২ জনকে হত্যা, গণহত্যা, আটক, নির্যাতন ও লুণ্ঠনের ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল সে সময়। এরপর পুনঃতদন্ত শেষ করে গত ১৩ এপ্রিল তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেন তদন্ত সংস্থা ।

জামালপুরের ৮ রাজাকার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামালপুরের আট রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ওপর শুনানির জন্য বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আটজন হচ্ছেন, আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহম্মেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. আবদুল মান্নান, মো. আবদুল বারী, মো. হারুন, মো. আবুল হাশেম, শামসুল হক ওরফে বদর ভাই ও এস এম ইউসুফ আলী।