২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাউফলে এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে নির্যাতন

বাউফলে এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে নির্যাতন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল ॥ বাউফলে একটি হাফেজি মাদ্রাসার শিক্ষকের মধ্যযুগিয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোঃ আনোয়ার নামের ১২ বছরের এক শিশু। ওই শিক্ষক শিশুটিকে শাররীক নির্যাতনের পর তার মাথার চুল বিকৃত করে কেটে দিয়েছে। শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাউফল হাসপাতালে ভার্তি করা হয়েছে। বগা ইউনিয়নের সবাপুরা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় রবিবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। জানাগেছে, একই ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের আবদুল খালেক হাওলাদারের ছেলে মোঃ আনোয়ার (১২) সাবপুরা হাফেজি মাদ্রাসায় থেকে পড়ালেখা করে। সে এ পর্যন্ত ১২ পাড়া কোরআন শরীফ মুখস্ত করেছেন। ঈদের ছুটিতে সে বাড়ি যায়। ঘটনার দিন রবিবার ১১টার দিকে শিশু আনোয়ার বাড়ি থেকে ওই মাদ্রাসায় তার জামা-কাপড় আনার জন্য যান। মে রুমের তালা খুলে জামা-কাপড় নিয়ে আবার বাড়ি চলে যান। এতে শিক্ষক হাফেজ মোঃ আল আমিন ক্ষুদ্ধ হন। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে তিনি আনোয়ারকে কোরআন খতমের মিথ্যা কথা বলে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় ডেকে এনে জোর করে মাটিতে উপুর করে শুইয়ে ফেলেন । এসময় তিনি ৫-৬জন শিক্ষার্থীকে আনোয়ারের হাত-পা ও মাথা চেপে ধরতে বলেন। এরপর তিনি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে আনোয়ারের পিটের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি ভাবে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক আনোয়ারকে চিৎ করে তার বুকের উপর পা দিয়ে চেপে ধরে মাথা ও গাড় মোচর দেন। এসময় আনোয়ার চিৎকার করলে ওই শিক্ষক তার মুখের মধ্যে পানি ঢেলে দেন। এ ভাবে ১৫-২০ ধরে তাকে মধ্যযুগিয় কায়দায় নির্যাতনের পর ব্লেড দিয়ে আনোয়ারের মাথার চুল বিকৃত ভাবে কেটে দেন। এরপর এ নির্যাতনের কথা কাউকে না বলার জন্য আনোয়ারকে সাশিয়ে দেন। খবর পেয়ে আনোয়ারের ভগ্নিপতি মোতালেব মিয়া এসে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি আজম আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।