১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেইসবুক সদরদফতরে কাঁদলেন মোদী

অনলাইন ডেস্ক ॥ নিজের জীবনে মায়ের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেইসবুক সদরদপ্তরে এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে মোদী মা হিরাবেনের ত্যাগের কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে থেমে থেমে বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠার সময়ে তাকে প্রতিবেশীদের বাড়িতে থালাবাসন ধোয়া, পানি ভরাসহ বিভিন্ন কষ্টকর কাজ করতে হয়েছে।

৯৫ বছর বয়সী হিরাবেন এখন গুজরাটের আহমেদাবাদে বাস করেন।

প্রত্যেকের জীবনে মায়ের ভূমিকা অসামান্য উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাউকে স্মৃতিকথা লিখতে বললে সে অবশ্যই সবার আগে তার মা ও শিক্ষকের নাম উল্লেখ করবে।

মোদী জানান, আমার মা পড়াশোনা জানেন না। কিন্তু এখনো টেলিভিশনের মাধ্যমে দুনিয়ার সব খবর রাখেন।

একঘণ্টার এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেইসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ । অনুষ্ঠানটি ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ভারতের লাখ লাখ মা সন্তানদের স্বপ্ন পূরণের জন্য এখনো তাদের সমগ্র জীবন বিসর্জন দিচ্ছেন এবং বিনিময়ে ‘পার্থিব’ কিছু চান না উল্লেখ করে মোদী বলেন, “আপনি কি হচ্ছেন সেটা একজন মা কখনোই দেখতে চান না, তিনি দেখতে চান আপনি ‘পরিণত’ হচ্ছেন কি না।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাকারবার্গের মা-বাবাকে অভিনন্দন জানান মোদী। তাদের উদ্দেশ্যে মোদী বলেন, আপনারা একজন গুণী ছেলের জন্ম দিয়েছেন, যিনি দুনিয়াকে ‘সংযুক্ত’ করেছেন।

নিজের দারিদ্রপীড়িত জীবনের কথা উল্লেখ করে মোদী তার মতো একজন ‘চা ওয়ালাকে’ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করায় ভারতের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মোদী বলেন, ভারতের ১২৫ কোটি জনগণ তাদের নেতা হিসেবে এমন একজনকে বেছে নিয়েছেন, ছোটবেলায় যাকে চা বিক্রি করতে হতো। বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এটি ভারতের এক ‘অনন্য অর্জন’।

মোদী ফেইসবুক, ট্যুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে বলেও মন্তব্য করেন।

মোদী বলেন, “বিশ্বের সমস্ত নেতৃবৃন্দকে আমি বলছি- আপনারা চাইলেও এখন আর সামাজিক মাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারবেন না।”

সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব সম্বন্ধে বলতে গিয়ে মোদী আরো বলেন, আগে নির্দিষ্ট সময় পর নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে তাদের নেয়া সিদ্ধান্তের পরীক্ষা দিতে হলেও সামাজিক মাধ্যমে এখন ৫ মিনিট পরপর এই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সরকারের ভুল ধরিয়ে দিতে পারে এবং সরকারকে ভুল পথে যাওয়ার পথ থেকে ফেরাতে পারে”, যোগ করেন তিনি।

ফেইসবুক ও ট্যুইটারে নিয়মিত সময় দেন উল্লেখ করে মোদী ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ নির্মাণে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে তার আগ্রহের কথা জাকারবার্গকে জানান।

সিলিকন ভ্যালি ভ্রমণের অংশ হিসেবে মোদী ফেইসবুক সদরদফতরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এছাড়ও অ্যাপল, গুগল এবং অন্যান্য কোম্পানির শীর্ষকর্তাদের সঙ্গেও মোদীর বৈঠকের কথা রয়েছে।