২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ হাসিনা ধরিত্রীর আদরের কন্যা

  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাঙালীর হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের সন্ধান যেমন অলীক কল্পনাই থেকে যেত, তেমনি তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা ’৪৭-এ জন্মেছিলেন এবং ’৭৫-এর ঘাতক বুলেট থেকে বেঁচে আছেন ও ঝড়ো হাওয়ায় নিপতিত জাহাজের হাল ধরেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার ‘রোল মডেল’। ’৭১, ’৭৫ ও ২০০৪-এর ঘাতকরা পরাভূত। তাদের চক্রান্ত ক্যান্টনমেন্ট ও হাওয়া ভবনের নীলকুঠিতে সিকবেডে ঢুকিয়ে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ দেশরতœ শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে সদর্পে এগিয়ে চলেছেন। ঘাতকরা ১৯ বার তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করে; কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপা যে, তিনি তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে মধ্যম আয়ের দেশের শীর্ষ কাতারে নিয়ে যেতে শক্তি যুগিয়েছেন, এ যেন শক্তির উদ্বোধন। তাই তো জাতিসংঘ ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’-এর পর শনিবার সংঘ ‘টেলিকমিউনিকেশন এ্যাওয়ার্ড’-এও ভূষিত করল।

২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন। ৬৮ বছরের এক বর্ণাঢ্য অথচ যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অন্ধকারের জীবন এবং মৃত্যুর ঝুঁকি উপেক্ষা করে অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে ’৬৯-এ পা রাখলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু যেবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রী (১৯৪৭ সালে) অর্জন করার পর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও পাকিস্তান সৃষ্টিতে আহত হয়ে বাঙালীর আপন জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্কল্প নিয়ে ঢাকায় এলেন সে বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা জন্ম নিলেন তাঁরই জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। টুঙ্গিপাড়া তখনও জলে-স্থলে, বনে-বাদাড়ে আবহমান বাংলার এক ছায়া সুনিবিড় গ্রাম। বাংলার হাজার নদীর দুই নদী একদিকে মধুমতি অন্যদিকে বাঘিয়ার (স্থানীয় ভাষায় বাইঘার নদী) জল-প্লাবন ও পলিতে উর্বর কৃষকের ফসলি জমি সোনালি-সবুজে ভরা মাঠ আর খাল-বিল জলাভর্তি মাছের জলকেলি এই ছিল টুঙ্গিপাড়া। বছরের বেশিরভাগ সময় অনেক এলাকায় চলাচলের বাহন ছিল নৌকা। এখানেই শৈশব কেটেছে শেখ হাসিনার। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঢাকায় এসে আজিমপুর গার্লস হাইস্কুল, গবর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বদরুন্নেসা গার্লস কলেজ) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ‘হাসিনা শেখ’ (তখন এই নামেই পরিচিত ছিলেন) আজকের শেখ হাসিনা। ’৭৫-এর পর পদে পদে অন্ধকারের সরীসৃপ এবং মৃত্যুঝুঁকি মোকাবেলা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভাব-অনটন ক্ষুধার রাজ্যে সফল নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, ক্ষুধামুক্ত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে এনেছেন, যা আজ অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়। বলা যায়, শেখ হাসিনা বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে একটি দরিদ্র দেশকে সমৃদ্ধির মহাসড়কে তুলে আনা যায়। এক ডজনেরও বেশি খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট, সেরেস কন্যা, সাউথ-সাউথ কন্যা এবং সর্বশেষ জাতিসংঘ ঘোষিত ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ অর্থাৎ ‘ধরিত্রীর আদরের কন্যা’। আজ হতে শতবর্ষ পর যে তরুণ বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করবেন তার কাছে জাতির পিতার পাশে একটি নামই শোভা পাবে, সে নাম ‘ধরিত্রীর আদরের কন্যা’ শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার পিতার মতো কেবল একমাত্র এজেন্ডাÑ বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতি।

শেখ হাসিনাকে আজকের পর্যায়ে উঠে আসতে অনেক বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। আগেই বলেছি, এ পর্যন্ত তাঁকে হত্যার জন্য ১৯ বার হামলা করা হয়েছে। এমনকি বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া নিজ দলের মধ্য থেকেও বার বার আঘাত এসেছে। তিনি অটল থেকেছেন অভীষ্ট লক্ষ্যে। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রথমে মিজানুর রহমান চৌধুরীরা দল ভাঙ্গার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তিনি ১৯৮১ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ৬ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে তৎকালীন মিলিটারি জিয়ার বাধার তোয়াক্কা না করে দেশে ফিরে আসার পর প্রথমে আবদুল মালেক উকিল, আবদুর রাজ্জাকরা এবং আরও পরে ড. কামাল হোসেন এবং মোস্তফা মহসিন মন্টুরা দল ভাঙ্গার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বরং নিজেরাই ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছেন। দলীয় সাংগঠনিক নেতৃত্ব দানে যেমন সফল তেমনি দলে ও সরকারে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রেও একইভাবে সফল। যে আমেরিকা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে চক্রান্ত করেছে, এমনকি সম্প্রতি পদ্মা সেতু নির্মাণে বা জিএসপি সুবিধার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রচনা করেছে, সেই আমেরিকারই জরিপ প্রতিষ্ঠান আইআরআই, যা প্রধানত দেশে দেশে নেতৃত্ব, গণতন্ত্র, আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ওপর জরিপ করে, তারাও সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফলে বলতে বাধ্য হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রিয়তা শতকরা ৬২ শতাংশ এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা শতকরা ৬৭ শতাংশ। খালেদা জিয়াসহ অন্যরা তাঁর ধারে-কাছেও নেই। আমেরিকার জরিপ তো, তাই বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠী তাদের প্রভুর এই জরিপের বিরুদ্ধে তেমন সোচ্চার নয়।

খালেদা-তারেক বিদেশে বসে যত বড় বড় কথাই বলুন বাংলাদেশ আজ যে পর্যায়ে উঠে এসেছে তাতে তাদের ক্ষান্ত দেয়া ছাড়া উপায়ইবা কী? এখন বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭০ বছর, মাথাপিছু আয় প্রায় ১৫০০ মার্কিন ডলার, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলারের মতো, খাদ্যোৎপাদন ৪ কোটি টন, শিক্ষার হার ৬২ শতাংশ, মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৪র্থ, এমজিডি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে সবার আগে, জিডিপির হার ৬+, এবার আশা করছে ৭ শতাংশ হবে, বিদেশীরা বলছেন ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কী জনপ্রতিনিধিত্ব, কী শিক্ষা, কী প্রশাসন, কী জুডিসিয়ারিÑ সর্বক্ষেত্রে নারীরা শীর্ষস্থানে উঠে এসেছেন। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও বিরোধী নেতা নারী, বাংলাদেশের হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতির আসনে নারী, প্রশাসনের শীর্ষপদে সচিব নারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নারী, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীতে উচ্চপদে নারী, এ মুহূর্তে ৩৫০ আসনের পার্লামেন্টে ৭০ জন নারী, মেয়র, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ সর্বত্র নারীর পদচারণা। এসবই সম্ভব হয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা প্রদানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার আন্তরিক সদিচ্ছার কারণে। বস্তুত নারী শিক্ষা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুফিয়া কামালের সারিতে শেখ হাসিনার নাম এখন। এ মুহূর্তে ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি সেলফোন ব্যবহৃত হচ্ছে, সাফল্যজনকভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে শেখ হাসিনার সরকার। এই তো গেল একদিক, আরেকদিক হলো অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পল্লী বিদ্যুতায়নের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আজ যে কোন সময় ও কালের চেয়ে বেশি প্রাণচাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। আজ শহর-গঞ্জের দিন মজুরের চেয়ে গ্রামের কৃষি, অবকাঠামো ও পরিবহন শ্রমজীবীরা তুলনামূলকভাবে বেশি রোজগার করছে। গ্রামে এখন কামলা পাওয়া সহজ নয়, বরং দুর্লভই বলতে হবে। শেখ হাসিনা গ্রামীণ জীবনকে এমন পর্যায়ে তুলে এনেছেন যেখানে মানুষ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে যেমন দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন, অনলাইন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত স্বামী-সন্তানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারছেন, তেমনি ছাত্রছাত্রীরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা চাকরির দরখাস্ত বা ব্যবসায়ীরা গ্রামে বসে অনলাইনে টেন্ডার তথা ব্যবসায়ে অংশগ্রহণ করছেন। ৭-৮ বছর আগে যে উত্তরবঙ্গ ছিল ভয়াবহ মঙ্গাকবলিত, সেখানে ‘মঙ্গা’ শব্দটি আজ অতীত। মানুষ দু’বেলা পেটপুরে খেতে পারছে, আনন্দ-ফুর্তি করতে পারছে। আমাদের কৃষি এবং মৎস্য গবেষক ও বিজ্ঞানীরা বিলুপ্ত কৃষিপণ্য এবং মৎস্য পুনরুদ্ধার বা প্রজনন গবেষণায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে চলেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ রক্তপাত নেই, বরং কমলা, আঙ্গুর, আপেল, মাল্টা, স্ট্রবেরি প্রভৃতি বিদেশী ফলও প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হচ্ছে, বাজারজাত হচ্ছে। আমাদের বিজ্ঞানীরা দেশীয় বরই এবং পেয়ারাকে হাইব্রিডের মাধ্যমে এমন উন্নতমানের সুস্বাদু ফলে পরিণত করেছেন যে, এখন আপেল বা মাল্টার পাশাপাশি রাখলে মানুষ বাওকুল (ইঅট-বাংলাদেশ এ্যাগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি) এবং পেয়ারাই কিনে বাড়ি ফিরছেন। টেক্সটাইল এবং গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির প্রসারের সুফল হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের (শহর-গ্রাম উভয় ক্ষেত্রে) পোশাক-আশাকেও দারুণ পরিবর্তন এসেছে। এই কয়েক বছর আগেও শহরের ফুটপাথগুলোতে যেখানে পুরনো কাপড়ের (ব্যবহৃত) পসরা জমজমাট ছিল, আজ আর তা নেই। সেই পসরা এখন দখল হয়েছে গার্মেন্টসের নতুন পোশাক-আশাকে।

এসবের পুরো কৃতিত্বই শেখ হাসিনাকে দিতে হবে। যারা দেবে না তারা অন্ধ। নেতৃত্বে যেটুকু দুর্বলতা আছে তারও উত্তরণ ঘটেছে তাঁর সাহসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার হত্যার বিচারের উদ্যোগ এবং ৩৮ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের শহীদানের ঋণ পরিশোধ, জাতির আকাক্সক্ষা অনুযায়ী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনুষ্ঠান ও অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ‘জিরো টলারেন্স ডিক্লেয়ার’ করে যেভাবে সাহসিকতার সঙ্গে আল কায়দা, আইএস, বোকো হারাম, মুসলিম ব্রাদারহুড বা তালেবানদের এজেন্ট জামায়াত-শিবির, হিযবুল মুজাহিদিন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হামজা ব্রিগেডের মতো জঙ্গীদের মোকাবেলা করে চলেছেন, তা বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস বা জলবায়ু পরিবর্তনে তাঁর ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যে কারণে বিশ্বের খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে একটার পর একটা সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে সম্মানিত করছে, জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা সর্বশেষ ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’, ‘সেরেস’, ‘সাউথ-সাউথ’ ইত্যাদি পুরস্কারে ভূষিত করেছে। তবে এসবের একটা বিপদও আছে। একদিকে বেগম খালেদা জিয়া ও তার হেজাবি জোটকে অস্থির করে তুলছে এবং তা পেট্রোলবোমা বা আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ হত্যার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা শেখ হাসিনার সাহসী ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় নিরসন হয়। দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনার সাফল্যের সুযোগে দলের অনেক নেতাকর্মী, এমপি, মন্ত্রী তথা জনপ্রতিনিধির মধ্যে একটা ‘ভাব’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাদের কর্মকা- অনেক সময় শেখ হাসিনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, যদিও তা শেখ হাসিনা ও একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহানার শিক্ষা, সততা, শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং তাঁদের সন্তানদেরও একইভাবে শিক্ষা, সততা ও সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তোলা, এই আলোকবর্তিকার আলোর নিচে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। অবশ্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, যার মনোজগত হাওয়া ভবন সংস্কৃতিতে আবর্তিত, তার কাছে শেখ হাসিনার কোন কৃতিত্বই কৃতিত্ব নয়, কোন অর্জনই অর্জন নয়। কয়েকদিন আগে টিভিতে দেখলাম, খালেদা জিয়া লন্ডনে দলীয় এক সমাবেশে বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার দুর্নীতিতে নিমজ্জিত(!)। দেশের অর্থনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকার বড় বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে, টাকার অভাবে শুরু করতে পারছে না।’ কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ আনলেও তিনি একটিরও প্রমাণ দেখাতে পারেননি। কারণ যার অস্তিত্ব নেই বা যে কথার ভিত্তি নেই তার প্রমাণ দেয়া যায় না।

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষিত মানুষের অভাব আজকের বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া খালেদা জিয়া যখন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বক্তৃতা করছিলেন তখন তার পাশেই দাঁড়ানো ছিল দুর্নীতির বরপুত্র ফেরারি আসামি পুত্র তারেক রহমান। খালেদা জিয়া যখন বলেন অর্থাভাবে কোন প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারছে না সরকার তখন বলতে হয়, তিনি নিজস্ব অর্থে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ দেখেন না বা চার লেনে উন্নীত কোন মহাসড়কেও ভ্রমণ করেছেন বা সমাপ্তির পথে রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোও তার চোখে পড়েছে বলে মনে হয় না। যার চোখে দৃষ্টি অনুপস্থিত তার সামনে হাতি এনে দাঁড় করালেও তার কাছে মনে হবে অন্য প্রাণী।

সর্বশেষ যে কথা বলে লেখাটি শেষ করতে চাই তা হলো- জাতিসংঘ শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিনের একদিন আগে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’, অর্থাৎ ‘ধরিত্রীর আদরের কন্যা’ এবং ‘টেলিকমিউনিকেশন এ্যাওয়ার্ড’ দুটি তাঁর হাতে তুলে দেয়। এর চেয়ে বড় জন্মদিনের উপহার আর কি হতে পারে? হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ, ধরিত্রীর আদরের কন্যা শেখ হাসিনা।

ঢাকা ॥ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি

জাতীয় প্রেসক্লাব