২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চীন-মার্কিন বিরোধের নয়া ফ্রন্ট

  • জাতিসংঘে নারী অধিকার বিষয়ে শীর্ষ বৈঠক

দক্ষিণ চীন সাগর ও সাইবারস্পেসের পর মার্কিন-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক নতুন ফ্রন্ট খুঁজে পেয়েছে এবং তা হলো নারী অধিকার।

রবিবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নারী অধিকার বিষয়ক ঐতিহাসিক বেজিং সম্মেলনের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করেন। জাতিসংঘ এতে সহযোগিতা করে। তবে এ প্রসঙ্গে সমালোচকরা বলেন, চীন চলতি বছর পাঁচ বিশিষ্ট নারীবাদী কর্মীকে কারারুদ্ধ করেছে। প্রায় ৭৪ জন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাদের মধ্যে ছিলেন না। ওবামার বদলে জাতিসংঘে নিযুক্ত তার দূত সামান্থা পাওয়ার আমেরিকান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু একই সময়ে এমএস পাওয়ার নারী নেত্রীদের কারারুদ্ধ করার দায়ে চীন ও অন্য কয়েকটি দেশকে লজ্জা দেয়ার এক প্রচার অভিযানকে তুলে ধরতে ওই অনুষ্ঠানকে কাজে লাগান।

আমেরিকান ক্যাম্পেইন ফ্রিদি ২০ হ্যাশট্যাকে ২০ কারাবন্দীর পক্ষে বিদেশে প্রচার চালাচ্ছে। এর আগে ক্যাম্পেইন শীর্ষ বৈঠকের বক্তাদের মধ্যে মানবাধিকার কর্মীদের নাম অন্তুর্ভুক্ত করার পক্ষে লবিং করে অকৃতকার্য হয়। জেন্ডার সমতার প্রতি হোয়াইট হাউসের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানালেও নারী অধিকার কর্মীরা উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রও নারী সম্পর্কিত ইস্যুগুলোতে পিছিয়ে আছে এবং নারী ও বালিকাদের অধিকার সম্পর্কিত প্রধান বৈশ্বিক চুক্তিটি অনুমোদন করেনি। ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে রাজবন্দী নারীদের ছবি সংবলিত এক বিশাল পোস্টার আমেরিকান মিশন ভবনের সামনের সেঁটে দেয়া হয়েছে। এটি রাস্তা পেরিয়ে জাতিসংঘ ভবনে ঢোকার সময় নেতাদের চোখে পড়ে। ২০ নারী নেত্রীর মধ্যে তিনজনই চীনের। জাতিসংঘের ক্ষুদ্র সংস্থা ইউএন উইমেন ওই সম্মেলন সংগঠিত করে। সম্মেলনটি জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক বিশ্ব নেতৃবৃন্দের বৈঠক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বেজিং+২০ নামে পরিচিত। ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক ফুমাজিন মলাম্বো নগেউকা বলেন, এর লক্ষ্য হলো নারীর প্রতি সহিংসতা বিরোধী আইন কার্যকর করা, শিশুদের জন্য সেবা সহজলভ্য করা এবং শিশু বিবাহ রহিত করাসহ সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করার লক্ষ্যে বেজিং সম্মেলন বার্ষিকীকে কাজে লাগানো। দক্ষিণ আফ্রিকার এমএস মলাম্বো নগেউকা মার্কিন বৈদেশিক নীতি এজেন্ডায় শিশু বিবাহ রহিত করার বিষয়ে সক্রিয় উৎসাহ দেখানোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেন। বৈঠকের প্রথম অংশে শি সভাপতিত্ব করেন। মেক্সিকো, ডেনমার্ক ও কেনিয়ার নেতারা বৈঠকের পরবর্তী অংশগুলোতে নেতৃত্ব দেন। চীনের সহ-উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এমএস মলাম্বো নগেউকা বলেন, তিনি নিজে যাদের রাজি করাতে পারতেন, চীন তার চেয়ে আরও অনেক বেশিসংখ্যক নেতাকে শীর্ষ বৈঠকে আসতে রাজি করাতে সহায়তা করে।

কূটনীতিকরা বলেন, বন্দী নারী অধিকার কর্মীদের দুঃখ দুর্দশা শীর্ষ বৈঠকে তুলে ধরতে বা সেখানে তাদের কথা বলতে দিতে এক পৃথক সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য ইউএন উইমেনকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন আমেরিকান কর্মকর্তারা। কিন্তু জাতিসংঘ এতে অসম্মত হয়। জাতীয় নেতাদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি আদায় করাই শীর্ষ বৈঠকের লক্ষ্য বলে জাতিসংঘ জানায়। জনহিতৈষী মেলিন্ডা গেটসই ছিলেন সামান্য সংখ্যক বক্তার অন্যতম, যারা রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান ছিলেন না। চীন সরকার বিদেশের চাপ অনবরত অগ্রাহ্য করে এসেছে। পাঁচ নারী বাদীকে মুক্তি দেয়ার ক্রমবর্ধমান আহ্বানের প্রেক্ষিতে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্চ মাসে কড়া ভাষায় সমালোচকদের চীনের বিচার বিভাগের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে বলে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস