২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির নয়া গন্তব্য ভারত

  • প্রযুক্তিবান্ধব নয়াদিল্লী নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে

আমেরিকার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর রাকেশ পারাচুরি ও তার পরিবারের মতো লোকজনের আনুকূল্য লাভে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পারাচুরি ভারতের প্রযুক্তি শিল্পের প্রাণকেন্দ্র এ নগরীতে একটি নির্মাণ ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি তার স্মার্টফোনকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে বুকমাইশো’র মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আসন সংরক্ষণ এবং ডোমিনো থেকে পিৎসার অর্ডার দেয়ার জন্য ব্যবহার করেন। তার স্ত্রী বাসবী মুন্ত্র এবং আমাজন ডটকমে কাপড়ের অর্ডার দেন এবং তাদের ৪ বছর বয়সী কন্যাকে আনন্দ দিতে তিনি ইউটিউব এবং গুগল প্লে-স্টোর থেকে ভিডিও এবং গেমস্্ ডাউনলোড করেন। তার ভ্রাতৃবধূ সোনিকা ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করা উপভোগ করেন এবং ইন্দো-কানাডীয় কৌতুকাভিনেতা লিলি সিংয়ের ইউটিউব স্বগতোক্তি (মিউজিংস) উপভোগ করেন। খবর ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমসের।

তারা সকলে ফেসবুকের মালিকানাধীন ফ্রি মেসেজিং সার্ভিস হোয়াইটস এ্যাপের ওপর তাদের সেট করা একটি গ্রুপ চ্যাটের (দলবদ্ধ হয়ে খোশগল্প করা) মধ্য দিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। পারাচুরি গত মাসের বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের পাশে তার বাড়িতে বসে একটি সাক্ষাতকার দিতে গিয়ে বলেন, ‘পরস্পরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার কোন প্রয়োজন নেই।’ গৃহত্যাগের কোন দরকারই পড়ে না- মুদিপণ্য, জন্মদিনের কেক এমনকি একজন হেয়ারড্রেসারকেও একটি এ্যাপের মাধমে ডেকে আনা যায়। পারাচুরি পরিবারের প্রযুক্তি অনুরাগ এটি ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে যে, আমেরিকায় ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর জন্য ভারত এবং তার ১২৫ কোটি নাগরিকের দ্রুততম প্রবৃদ্ধির সুযোগ এনে দিয়েছে- এক নতুন চীনের দ্বার উন্মুক্ত করেছে।

চীনের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে কিংবা সে দেশের সরকারের কঠিন দাবিনামায় হতাশ হয়ে ফেসবুক, গুগল এবং টুইটার এবং সেই সঙ্গে নতুন শিল্পোদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীরা ভারতকে তাদের পরবর্তী সেরা গন্তব্য বলে গণ্য করছে। গুগলের একজন সাবেক নির্বাহী গুণিত সোনি বলেন, তারা ভারতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং ভাবছেন, ৫ বছর আগে এটি ছিল চীন এবং আমি সম্ভবত সেখানকার নৌকা মিস করেছি। এখন আমি সত্যিকারভাবে এটি করার সুযোগ পেয়েছি। গুণিতকে সম্প্রতি আমাজনের অনুরূপ ব্যাঙ্গালুরুর একটি ই-কমার্স শিল্পোদ্যোগ শুরু করার জন্য ফ্লিপকার্টের চীফ প্রডাক্ট অফিসারের পদে টোপ দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারতের ক্রমবর্ধমান আবেদন, বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম প্রধান বর্ধিষ্ণু অর্থনীতি হিসেবে সে দেশের গুরুত্ব পরিস্ফুট হয়ে উঠছে।