২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাম কম হওয়ায় ঢাকার বাইরে থেকে আসছে না চামড়া

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দাম কমে যাওয়ায় ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া আসছে না ট্যানারিগুলোতে। গত তিন বছর ধরে কাঁচা চামড়ার দাম কমানো হচ্ছে। কিন্তু এই নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি দেশের কোথাও। নির্ধারিত দামের চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বেশি দামে কেনাবেচা হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। আবার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিতে চাচ্ছেন না ট্যানারি মালিকরা। এই অবস্থায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা পূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ বেশি দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় চামড়া পাচার হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া সময়মতো লবণ মাখানো ও সঠিক নিয়মে সংগ্রহ না হওয়ায় এ বছর সবচেয়ে বেশি পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট চাহিদার ৪৫-৫০ শতাংশ চামড়া কোরবানির সময় সংগৃহীত হয়ে থাকে। আর বাকি ৫০ ভাগ চামড়া সারা বছরে পাওয়া যায়। সাধারণত মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। আড়ত হয়ে এগুলো কিনে নেন ট্যানারি মালিকরা। ইতোপূর্বে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করা হলেও এ বছর সবচেয়ে কম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে শুরু থেকে ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। চামড়ার উপকারভোগী মসজিদ, মাদ্রাসা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও চামড়ার সঠিক দাম নির্ধারণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্যানারি মালিকরা নিজেদের পছন্দমতো দাম নির্ধারণ করেন। গত তিন বছর ধরে একই কায়দায় কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিতে হলে তাদের লোকসান গুনতে হবে। আর কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের বেশি মূল্যে কিনতে হয়েছে। এ অবস্থায় ট্যানারি মালিক ও এ শিল্পের বড় উদ্যোক্তারা চামড়া ক্রয়ে ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করেছেন। এতে করে চামড়ার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস এ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবু তাহের জনকণ্ঠকে বলেন, মাঠ পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি চামড়া কিনে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ভুল করেছেন। ট্যানারি মালিকরা ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনলে নিশ্চিত লোকসানের মুখে পড়বেন। এই কারণে নির্ধারিত দামের চেয়ে এক টাকাও বেশি দিয়ে চামড়া কিনবেন না মালিকরা। ঢাকার বাইরের চামড়ার দাম আরও কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো ট্যানারিতে এখনও আসা শুরু হয়নি। তবে কিছুদিনের মধ্যে আসবে।

এদিকে, বেশি দামে চামড়া কিনে ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেয়া দামে বেচতে হলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে জানান কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া খবরে এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচার এ চিত্রই উঠে এসেছে।

এ পরিস্থিতির জন্য ট্যানারি মালিকদের দায়ী করে ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নিয়েও প্রতিবছর কোরবানির সময় চামড়া কেনা নিয়ে টালবাহানা করেন মিল মালিকরা। আবার তারাই চামড়া পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে আহাজারি করেন। চামড়ার কেনাবেচায় সরকারী তদারকির দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, তা না হলে চড়া সুদে ধার নিয়ে চামড়া কেনাবেচা করতে গিয়ে পথে বসবেন সারাদেশের প্রান্তিক ও মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে বিপর্যস্ত হবে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ প্রক্রিয়া, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী এবার দেশের কোথাও নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি না রেখে কম মূল্য নির্ধারণ করায় বেশি দাম দিয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের চামড়া কিনতে হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকায়। যা নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৩০ টাকা বেশি। এ অবস্থায় আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়ে খুচরা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন, চামড়া সশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যবসায়ী, ব্যাপারী, আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের প্রতি। তারা বলছেন, মাঠপর্যায় থেকে তারা খুব বেশি দামে নয়, বরং ন্যায্য মূল্যে চামড়া কিনেছেন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া। ওই হিসেবে আমরা যে দাম দিয়েছি তা বেশি নয়। কিন্তু ব্যাপারীদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে এসে তাদের কেনা দামের কাছাকাছি দামও পাচ্ছেন না। আড়তদার, ব্যাপারী ও ট্যানারি মালিকরা লবণের বাড়তি দাম, কেমিক্যালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের ধুয়ো তুলে চামড়ার কম মূল্য হাঁকাচ্ছেন।

নির্বাচিত সংবাদ