২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ হাসিনা কাল সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। তিনি জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ পুরস্কার গ্রহণ করে বৈশ্বিক পরিম-লে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রভাবশালী পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে পেয়ে খুশী।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের খসড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, শাসন ব্যবস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য, অভিবাসী শ্রমিক, জলবায়ু পরিবর্তন ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ জাতিসংঘে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তাঁর বক্তৃতায় ব্যাপক প্রাধান্য পাবে। খবর বাসসর।

চলতি বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্যে জাতিসংঘে তিনি এ ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান গত এক সপ্তাহে কয়েকটি ধারাবাহিক রিপোর্টে তাঁর নেতৃত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছে, বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ চালকের আসনে তাঁকে পেয়ে খুশী।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণ দেয়ার আগে ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান গত ২৭ সেপ্টেম্বর অনলাইন সংখ্যায় বলেছে, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সাফল্যের নজির। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসডিজি নিয়ে উচ্চাকাক্সক্ষা পোষণ করছেন। তবে তিনি বলেছেন, দাতাদের এক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আরেকটি রিপোর্টে ব্রিটিশ দৈনিক বলেছে, যখন দেশে অর্থনীতি বার্ষিক প্রায় ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, অধিকাংশ জনগণের জীবন যাত্রার মান যখন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অতীতের সকল উত্তাল পরিস্থিতির তুলনায় দেশ যখন অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল রয়েছে, তখন অধিকাংশ বাংলাদেশী শেখ হাসিনাকে দায়িত্বে পেয়ে খুশী।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) একটি জরিপে ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশী জবাবদাতাদের অধিকাংশের সমর্থন পেয়েছে’ বলে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করার কয়েক মাস পর গার্ডিয়ানের এই স্বীকৃতি প্রকাশ পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা গ্রুপটি আরও বলেছে, আইআরআই জরিপের ফলাফলে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জনগণের ইতিবাচক মনোভাব, জবাবদাতাদের ও দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত সম্পর্কে আশাবাদ প্রতিফলিত হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক তাদের রিপোর্ট তৈরির আগে শেখ হাসিনার সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছে। পত্রিকাটি তাঁর প্রধানমন্ত্রীর অধীনে বাংলাদেশের সাফল্যের বিবরণ দিয়ে বলেছে, তিনি জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং দেশে ব্যাপক সমর্থন ভোগ করছেন।

গার্ডিয়ান শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয়, দীর্ঘ সময় ধরে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালনকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। গার্ডিয়ান সাংবাদিক সাইমন টিসডাল ও এ্যানা রিডুটের সঙ্গে দেয়া সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করা। আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য, আমার জন্য নয়।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জনগণ এখন গণতন্ত্র উপভোগ করছে। জনগণ চায় তাদের মৌলিক অধিকার। তাই আমি জনগণের মৌলিক চাহিদা অর্থাৎ খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, চাকরির সুযোগ এবং একটি উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং জনগণ সন্তুষ্ট ও এগুলো উপভোগ করছে।

বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক ও লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদির টেলিফোনে বাসসকে বলেছেন, গার্ডিয়ান রিপোর্টে পশ্চিমা বিশ্বের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে এবং পত্রিকার রিপোর্টে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব এখন একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখতে চায় এবং তারা প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর নেতৃত্বের জন্য সমর্থন করছে।

গার্ডিয়ান আরও লিখেছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মৌন সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ বস্ত্র শিল্প খাত নিয়ে উদীয়মান একটি শক্তির গুরুত্ব স্বীকার করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ‘পশ্চিমা কর্মকর্তার’ উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি আরও লিখেছে, ‘যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এই আশা করছে বলে মনে হচ্ছে যে, ২০১৯ সালে একটি ভাল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামী চরমপন্থা মোকাবেলায় পশ্চিমের জন্য অংশীদার হিসেবে শেখ হাসিনার গুরুত্ব গণতন্ত্রের ঘাটতি সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ প্রশমিত করেছে।

পত্রিকায় আরও বলা হয়েছে, ভারত ও চীন যুগপৎভাবে সরকারের সমর্থক এবং উভয় দেশ তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশে বাড়াতে চাইছে।

গার্ডিয়ান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে সমালোচনার দৃষ্টিতে উল্লেখ করেছে যে, বিএনপি ২০১৪ সালে নির্বাচনে যোগ দেয়নি এবং নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে ‘তাদের বিতর্কিত ইসলামপন্থী জোট’ জামায়াতে ইসলামী দলের সঙ্গে মিলে কিছুদিন সহিংস বিক্ষোভ ও দেশব্যাপী হরতাল করেছে যা কোন ফল বয়ে আনেনি।