২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অমীমাংসিত বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • মন্ত্রী ১ অক্টোবর সমন্বয় সভা ডেকেছেন

বিভাষ বাড়ৈ ॥ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কাজে গতি আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চিহ্নিত করা হয়েছে অন্তত ১২ বিষয়কে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত সমাধান ও সরকারের নেয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রী আগামী ১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় সভা আহ্বান করেছেন। একই সঙ্গে ৪ অক্টোবর সকল প্রকল্প পরিচালক ও উইং প্রধানদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্ত সকল দফতর প্রধানরাও উপস্থিত থাকবেন বৈঠকে। জানা গেছে, শিক্ষক অসন্তোষ, শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন, বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগে আলাদা কমিশন গঠন, শিক্ষা আইন ও পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করতে চায় সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, দুটি বিশেষ বৈঠকের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার কাছে অনানুষ্ঠানিক নোট দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। যেখানে মন্ত্রী তুলে ধরেছেন, দেশের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা। তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শিক্ষার উন্নয়নে নেয়া কাজগুলোর কথাও। মন্ত্রী সকল কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত প্রায় পৌনে সাত বছরে জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে এক বিরাট ও যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। উন্নত দেশ গঠন এবং উন্নয়নের যে প্রক্রিয়া চলছে তার মাধ্যমে আমাদের জাতির সামনে এক অভূত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এই উন্নয়ন, আরও উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবেই নতুন নতুন ও জটিল অনেক সমস্যা সামনে উঠে আসছে। এ সকল সমস্যা হচ্ছে উন্নয়নের সমস্যা, এমন কি বলা যেতে পারে কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ‘বেদনা’। উন্নয়নের জটিল প্রক্রিয়া উপলব্ধি করে তা মোকাবিলা ও সমাধান করা এবং জনগণকেও এসব বিষয়ে সচেতন করে সম্পৃক্ত করা জরুরী। তাই আমাদের শিক্ষা পরিবারের দায়িত্বশীল সকল সদস্যের এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হবে এবং সকল সদস্যকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল মহলকে প্রস্তুত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেছেন, বিগত কয়েক বছরে কম্পিউটার শিক্ষা, আইসিটির ব্যবহার, সকল ক্ষেত্রে তা প্রয়োগের অব্যাহত চেষ্টাসহ আমাদের সার্বিক কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখুন সঙ্গে সঙ্গে অনেক নতুন ও জটিল সমস্যাও আসছে, আমরা তা সমাধান করে এগিয়ে যাচ্ছি। এটা স¦াভাবিক। এটা অগ্রগতি ও উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট সমস্যা। উন্নতির নতুন পর্যায়ে নতুন সমস্যা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই এগিয়ে চলা অব্যাহত রাখতে হবে। তা হলেই আমাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য- নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। সেক্ষেত্রে সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই হলো বড় চ্যালেঞ্জ। এটা রাতারাতি সম্ভব নয়। এটা হলো ধারাবাহিকভাবে একটি দীর্ঘ কর্মযজ্ঞের ফল। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। আসন্ন বৈঠকের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ১ অক্টোবরের বৈঠকে প্রত্যেক উইং, দফতর, শাখা প্রধানকে তাদের নির্ধারিত কাজের অগ্রগতি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা এবং কাজের নতুন পরিকল্পনা সংক্ষিপ্ত আকারে (বুলেট পয়েন্ট) লিখিতভাবে নিয়ে আসবেন।

এছাড়া ৪ অক্টোবর সকল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের সভায় প্রত্যেক প্রকল্পের অগ্রগতি ও নতুন প্রকল্প সম্পর্কে আলোচনা হবে। সেখানেও প্রকল্প পরিচালক তাদের প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নতুন কাজ সম্পর্কে লিখিতভাবে (সংক্ষিপ্ত) রিপোর্ট নিয়ে আসবেন।

ভাল কাজে পুরস্কৃত করার ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, যারা কাজে সফল হবেন আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন তাদের সম্মানিত করা হবে। যার ব্যর্থ হবেন তাদের জবাবদিহি করতে হবে। মন্ত্রীও এই জবাবদিহিতার উর্ধে নন।

জানা গেছে, দুদিনের বৈঠকের জন্য অন্তত ১২ বিষয়কে চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যার প্রথমেই আছে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন। এরপর আছে বেসরকারী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নন গবর্নমেন্ট টিচার্স সিলেকশন কমিশন (এনটিএসসি) গঠন এবং দেশের শিক্ষক/শিক্ষা প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন এবং কার্যকর কোয়ালিটি ইস্যুরেন্স সিস্টেম প্রর্বতন নিশ্চিতকল্পে গঠিত জাতীয় শিক্ষক/শিক্ষা কাউন্সিলের (এনটিইসি) কাজ দ্রুত শেষ করা। আছে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিসিএস শিক্ষকদের মধ্যে চলমান অসন্তোষ নিরসন ও শিক্ষকদের পদোন্নতি দ্রুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ।

বৈঠকে স্থান পাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষা আইন, ইউজিসি আইন, এক্রিডিটেশন কাউন্সিল আইন প্রণয়নের বিষয়টি। আছে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সার্বিকভাবে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে এ বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত একটি এবং আগামী ২০১৬-এর জুন পর্যন্ত পৃথকভাবে একটি করে কার্য ক্যালেন্ডার তৈরি করারও উদ্যোগ নেয়া হবে বৈঠকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ প্রচারের জন্য একটি ছোট বুকলেট/ প্রচারপত্র তৈরি করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশসমূহের বাস্তবায়নের অগ্রগতি কতদূর তারও পর্যালোচনা করা হবে বৈঠকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, মন্ত্রীর উদ্যোগে উইং প্রধানদের বৈঠক নতুন নয়। তবে এবার যেভাবে সকল বিষয় চিহ্নিত করে চিঠি নিয়ে মন্ত্রী বৈঠকের আহ্বান করেছেন তাতে স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্টরা বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়ে কাজ করবেন। কাজের বোঝা চাপলেও মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সকল দফতরের কর্মকর্তারাই বিশেষ এ বৈঠকের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।