২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরত সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হলো হাসির নাটক ‘রাজার নতুন জামা’

শরত সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হলো হাসির নাটক ‘রাজার নতুন জামা’
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সত্য কথা বলতে যেন সবারই আপত্তি। মিথ্যা আর ছলচাতুরিতে রাজার মন ভোলানোই যেন চাটুকারদের প্রধান কাজ। এমন তেলবাজি ও সত্যহীনতার মাঝে আবির্ভূত হয় দুই তাঁতি। সূক্ষ্ম কৌশলের আশ্রয়ে তারা উন্মোচন করে দেয় ধুরন্ধর মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের আসল চরিত্র। এমন গল্পকে উপজীব্য করে নির্মিত হাসির নাটক রাজার নতুন জামা। সোমবার শরত সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হলো প্রয়োজনাটির তৃতীয় মঞ্চায়ন। গৌড়নাট নাট্যদল পরিবেশিত নাটকটি লিখেছেন হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন। বাংলা রূপান্তর করেছেন কবি আসাদ চৌধুরী। নির্দেশনা দিয়েছেন মেহেদী ইসলাম সুমন।

নাটকের কাহিনীতে উঠে এসেছে রাজার পোশাকপ্রীতি। প্রতিদিনই চাই তার নতুন পোশাক। রাজ্য গোল্লায় যাক। তাতে কিছু আসে-যায় না। চাই শুধু নিত্য নতুন পোশাক। রাজার এই অতি বিলাসিতার কাজে সহায়তা করেন কিছু চাটুকার মন্ত্রী ও রাজপরিষদবর্গ। মহারাজ যাতে জনসেবার কথা চিন্তা না করে কেবল নিজ স্বার্থ আর রাজদরবারে নিয়োজিত ব্যক্তিবগের কল্যাণের কথাই ভাবেন- সে ব্যাপারে বুদ্ধির পুরোটাই খরচ করেন এরা। ঘটনাক্রমে রাজার জন্মদিনের নতুন পোশাক তৈরির কথা শুনে দুই চালাক তাঁতি হাজির হন রাজদরবারে। অযোগ্য রাজা আর তার ধুরন্ধর মন্ত্রিপরিষদবর্গের আসল চেহারা অতি সূক্ষ্ম কৌশলে প্রজাদের সামনে উপস্থাপনের এই তো সুযোগ। বুদ্ধির জোরে তাঁতিরা রাজাকে তাদের তৈরি পোশাক পরতে রাজি করাতে সক্ষম হন। রাজার এই পোশাকই বলে দেবে রাজ্যের কারা যোগ্য আর বোকা। এমন অভিনব পদ্ধতির কথা শুনে রাজামশাই তো বেজায় খুশি। নানা ঘটনার ঘনঘটার মধ্য দিয়ে এগুতে থাকে নাটকের কাহিনী। হাস্য-রসাত্মক উপাদানের মাধ্যমে সমাজ তথা রাষ্ট্রে মুখোশের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা রাঘববোয়াল আর তেলবাজ ব্যক্তিবর্গের চেহারা ফুটে ওঠে এতে। কমেডি নাটকটিতে হাসির আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একটি চরম সত্যÑ ‘সত্য বলার সাহস সবার থাকে না।’ নাটকের শেষ দৃশ্যে নির্বোধ রাজার বস্ত্রহীন মিছিলে অংশগ্রহণ সবাইকে হাসালেও দৃশ্যটি আমাদের সমাজ বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের আনন্দ উৎসব ॥ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে সোমবার আনন্দ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। সকালে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের কেক কেটে আনন্দ উৎসবের সূচনা করেন একাডেমির চেয়ারম্যান বরেণ্য কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন। আনন্দ আয়োজনে শিশুরা নেচে-গেয়ে উদ্্যাপন করে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। এ সময় শিশুদের মাঝে কেক ও চকোলেট বিতরণ করা হয়।

আনন্দ উৎসবে শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী শিশুসহ শেখ রাসেল শিশু সংসদ, ঐকতান সঙ্গীত একাডেমি, তক্ষশীলা ও স্বপ্নঘর শিশু সংগঠনের শিশু বন্ধুরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। কয়েক শত শিশুর আনন্দ উৎসব ও কলরবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ। হাসি, গান আর আনন্দে শিশুরা তাদের প্রিয় নেতার জন্মদিন উদ্যাপন করে।