২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পহেলা অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চালু হচ্ছে

  • নিয়ম-কানুন উপেক্ষিত

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন অনিয়মের মধ্য দিয়ে আগামী পহেলা অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালে (এনসিটি) অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে সকল নিয়মনীতি, এমনকি আদালতের স্থগিতাদেশের নির্দেশনাও। শর্তের বেড়াজালে এমন একটি প্রতিষ্ঠান এনসিটিতে নিয়োগ পেয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়া অন্য কোন বার্থ অপারেটরের যোগ্য বিবেচিত হওয়ার কোন সুযোগই ছিল না। বন্দরে প্রায় সাত শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল দীর্ঘ আট বছর পর সচল হতে যাচ্ছে। আমদানি-রফতানিকারক তথা বন্দর ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে এনসিটি চালুর দাবিটি দীর্ঘদিনের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে তাদের শঙ্কা কাটছে না। বরং আদালতের স্থগিতাদেশ লঙ্ঘন করে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় অপারেটর নিয়োগের কাজটি সম্পন্ন করায় বিষয়টি ফের আইনী জটিলতায় ঝুলে যাচ্ছে কিনা সে আশঙ্কাও রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দর এনসিটির বার্থ সংখ্যা পাঁচটি। তন্মধ্যে এক নম্বর বার্থ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে পানগাঁও আইসিডির পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য। বাকি চারটি বার্থে অপারেটর নিয়োগের জন্য দুটি টেন্ডার আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। একই দিনে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও দরপত্র দাখিলের জন্য তারিখ নির্ধারিত হয় দুটি। এর মধ্যে টেকনিক্যাল ও আর্থিক প্রস্তাবে চার ও পাঁচ নম্বর বার্থের জন্য যৌথভাবে যোগ্য বিবেচিত হয় তিনটি প্রতিষ্ঠান। এই তিন প্রতিষ্ঠানের একটি বাকি দুই বার্থের (দুই ও তিন নম্বর) দরপত্রেও যোগ্য বিবেচিত হয়। ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে। অপারেটর নিয়োগ হয়ে যাওয়ায় এনসিটি চালু এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এতে বন্দর ব্যবহারকারী মহলে স্বস্তি এলেও শঙ্কা এখনও কাটেনি। কারণ এক্ষেত্রে সংঘটিত হয়েছে মস্তবড় অনিয়ম। এনসিটির চার ও পাঁচ নম্বর বার্থের জন্য আহ্বান করা টেন্ডারে এমনভাবে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়, যাতে শুধু পছন্দের প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য অপারেটরদের যোগ্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ না থাকে। সুতরাং যা হওয়ার তাই হয়েছে। এমতাবস্থায় জনস্বার্থে একটি মামলা দায়ের হয় আদালতে।

জনস্বার্থে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ অপরাপর বার্থ অপারেটরদেরও টেন্ডারে অংশগ্রহণে সুযোগ দিয়ে দরপত্র আহ্বানের আদেশ দেন। এরপর স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজের কাছে একটি আবেদন করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার জজ বিচারপতি নাঈমা হায়দারের বেঞ্চের আদেশটি স্থগিত করে বিষয়টি আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এর শুনানি হয় গত ২১ জুন। এতে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী বেঞ্চে মামলাটির শুনানির আদেশ হয়। একই সঙ্গে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অপারেটর নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, আদালতের সে আদেশের তোয়াক্কা না করে বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে।

বন্দর সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রক্রিয়া স্থগিত থাকার কথা থাকলেও ২২ জুন টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রদান করে। ২৩ জুন মন্ত্রণালয়ের সে রিপোর্ট অনুমোদিত হয়। এরপর ২৪ জুন বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বিবেচনায় যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব এ্যাওয়ার্ড প্রদান করে এবং পরদিন ২৫ জুন এনসিটির চার ও পাঁচ নম্বর বার্থে অপারেটর নিয়োগের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যায়।