২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নীলফামারীতে তিস্তার ভাঙ্গনে দিশেহারা শতশত পরিবার

নীলফামারীতে তিস্তার ভাঙ্গনে দিশেহারা শতশত পরিবার

স্টাফরির্পোটার,নীলফামারী॥ তিস্তার গর্ভে বিলিন হয়েছে শতাধিক একর আবাদি জমি। কেড়ে নিয়েছে শতশত পরিবারের বসতভিটা। তিস্তা নদীর এই ভাঙ্গন চলছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখরিবাড়ি,ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ভেন্ডাবাড়ি ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকায়। একদিকে তিস্তার দফা দফায় বন্যার ধকল সইতে না সইতেই আবারো ভাঙনের কবলে পড়েছে ওই সব এলাকার বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায় তিস্তাপাড়ের চরখড়িবাড়ি গ্রামের এক নম্বর ওয়াডে হাক্কি মিয়া (৫৫) তিনদফায় বসতভিটা সরিয়ে নদী থেকে বেশ দুরে সুন্দর করে টিনের বাড়ি ঘর নির্মান করেছিলেন। সেটি এখন ভাঙ্গনের মুখে তাকে পুনরায় অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে। গত দুইদিনে এই এলাকার ৭০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। যেভাবে তিস্তা ভাঙ্গছে তাতে পুরো এলাকা শেষ করে দিবে। চরখড়িবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পটিও হুমকীর মুখে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন ৭০ পরিবারের বসতভিটা তিস্তা চলে গেছে চোখের সামনে। পরিবারগুলো এখন অসহায়।

অপর দিকে ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়িতে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফলে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের শিকার অসহায় মানুষজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি করে তুলছে। গত দুই দিনে ৫৫টি পরিবারের বাড়ির ভিটা ও ফসলী তিনশত বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে ও দুইশত পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী জানান।

এদিকে লালমনিরহাটের গড্ডিমারী ইউনিয়নের নিজ গড্ডিমারী এলাকায়, শফিকুল ইসলাম (৩৫), কাশেম আলী (৪০), আবেদীন মিয়া (৫০), আয়নাল হক (৩০), মোহর মিয়া (৩৪), ইউনুস মিয়া (৩২), মোজাম্মেল হক তিস্তা ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।তিস্তার তীব্র ভাঙনে শুধু তাই নয়, বসতভিটাসহ কয়েকশ একর আবাদি জমিও ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় একের পর এক জনপদ বিলীন হচ্ছে। বন্যা ও নদী ভাঙনের শিকার এসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো এখনো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বুলু জানান, প্রায় ৫০ পরিবারে ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলিন হয়েছে।