২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আগস্টে মোবাইলে লেনদেন কমেছে ৩২ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হিসাব খোলা ও হিসাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের ফলে গ্রাহকসংখ্যা কমছে। সেই সঙ্গে কমছে সক্রিয় গ্রাহক ও লেনদেনের পরিমাণ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ গ্রাহক কমে গেছে। শুরু থেকেই মোবাইলে লেনদেন বাড়লেও আগস্টে লেনদেন কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। টাকার লেনদেন কমেছে ৩২ কোটি টাকা। লেনদেনে সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যাও কমেছে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ। কমে গেছে বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নিবন্ধিত গ্রাহকসংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩২ হাজার। আর আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮২ লাখ ৫৭ হাজারে। সেই সঙ্গে লেনদেনে সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যাও কমেছে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ। গত জুলাই মাসে সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার। আর আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ লাখে। সেই হিসাবে মাসিক গ্রাহক সংখ্যা ১৯ শতাংশ কমে গেছে। সাধারণত যেসব হিসাবে একটানা তিন মাসের বেশি লেনদেন হয় না, সেসব হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে ধরা হয়। আর অন্ততপক্ষে তিন মাসের মধ্যে একবার লেনদেন করেছে এমন হিসাবকে সক্রিয় হিসাব বলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত আগস্টে গ্রাহক কমার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ওই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকার লেনদেন হয়; জুলাই মাসে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৮১২ কোটি টাকা। জুলাইয়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। আর আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২৮ কোটি টাকায়। সেই হিসাবে মাসিক ও দৈনিক লেনদেন ৭ শতাংশ কমে গেছে। এদিকে গ্রাহক ও লেনদেন কমলেও বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিনিধি বা এজেন্ট। জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে এজেন্টের সংখ্যা ২ হাজার ১৬৭ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯৮ জনে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আড়াই কোটি টাকা প্রবাসী-আয় লেনদেন হয় এই সেবার মাধ্যমে। জুলাই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে উত্তোলন করেছেন ৪ হাজার ৬৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। জুলাই মাসে উত্তোলন করেছেন ৫ হাজার ৪৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে অন্যের হিসাবে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ২৪৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের মাসে অন্যের হিসাবে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ৪২৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১১৯ কোটি টাকা। জুলাই মাসে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১৪৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছে ১১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের মাসে সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছে ১৪৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে অন্যান্য খাতে পরিশোধ হয়েছে ২৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের মাসে অন্যান্য খাতে পরিশোধ হয়েছে ২৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, এজেন্টদের ব্যক্তিগত হিসাব থেকে ব্যবসায়িক লেনদেন নিরুৎসাহিত করতে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অনেক এজেন্টের হিসাব বাতিল করা হয়েছে। গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে এখন সঠিক গ্রাহক ও লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা জানান।