১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীর নিম্নাঞ্চল

কোন দেশের খোদ রাজধানীর একটি অংশ যদি বছরের বেশির ভাগ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে, ড্রেন আর স্যুয়ারেজ লাইন একত্রিত হয়ে পানি দূষিত হয় তবে সে এলাকার জনজীবনের দুর্ভোগ যে অপরিমেয় হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অবস্থায় নাগরিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও হয় প্রশ্নবিদ্ধ।

রাজধানীর একটি জনবহুল এলাকা জুরাইন ডিএনডি বাঁধ এলাকায় বছরের নয় মাস পানিতে তলিয়ে থাকা দুর্ভাগ্যজনক। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) দক্ষিণের এ এলাকায় বৃষ্টি বা বন্যা না হলেও জলাবদ্ধতা থাকে প্রায় সারা বছর। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা মোটেও গ্রহণযোগ্য অবস্থায় নেই। বর্জ্য ও পানি একই ড্রেনের মাধ্যমে নিষ্কাশনের কারণে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। নোংরা ও দূষিত পানি ওয়াসার লাইনে মিশে সে পানি যে ব্যবহারের উপযোগী থাকছে না তা বলাই বাহুল্য। এলাকার দুটি খাল ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় নিষ্কাশনের স্বাভাবিকত্ব বিঘিœত হচ্ছে এটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেও যেন জানে না এমনটাই স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। লক্ষাধিক এলাকাবাসীর এ ব্যাপারে ক্ষোভের অন্ত নেই। বিষয়টি এমন তো নয় যে, এসব চোখের আড়ালে-আবডালে বা নীরবে-নিভৃতে ঘটছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আছে, আছেন একাধিক জনপ্রতিনিধি। তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন কিনা এ প্রশ্ন তোলা অবান্তর নয়।

রাজধানী ঢাকার প্রায় প্রতিটি রাস্তা, অলিগলির যে বাস্তবতা তা নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি, আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। এ ক্ষেত্রে কেন যে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে না সেটা এক প্রশ্ন বটে। অবস্থাটা তথৈবচ থেকে যাচ্ছে। এটা অবশ্যই দুঃখজনক। সংশ্লিষ্টরা কুম্ভকর্ণ হয়ে আছেন বলেই ভাবার অনেক অবকাশ রয়েছে।

রাজধানীর উন্নয়ন নিয়ে কম বাগাড়ম্বর হয়নি। হয়েছে অনেক প্রকল্প, পরিকল্পনা। সেসব প্রকল্প-পরিকল্পনার বাস্তবায়ন যে হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় তা এগিয়ে গেলেও কিছু পরিকল্পক বা কর্মকর্তার কারণে পাচ্ছে শম্বুকগতি। এই শম্বুকগতি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে কোন শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে অন্তত এমন বাস্তবতা রোধ করা যেত।

ঢাকা শুধু জলাবদ্ধতার কারণেই ক্রমান্বয়ে বাসের অনুপযোগী হচ্ছে তা নয়। ঢাকার সমস্যা নানাবিধ। একটি দেশের রাজধানীর এমন বাস্তবতা কারও কাম্য নয়। বিশ্বের মধ্যে বসবাসের অনুপযোগী কয়েকটি শহরের তালিকায় শীর্ষের দিকে এর অবস্থান হওয়াটা নিশ্চয়ই সুখবর বা সুখকর নয়। ঢাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি সংসদীয় আসন, আছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ডিসিসির দু’জন নির্বাচিত মেয়রসহ আছেন শতাধিক কাউন্সিলর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঢাকাকে সবদিক দিয়ে চলাচল ও বসবাসের উপযোগী করতে আশু কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এটা ঢাকায় বসবাসকারীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।