২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাশিয়ার উদ্যোগে বিস্মিত যুক্তরাষ্ট্র

  • আইএস মোকাবেলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে ইরাক, সিরিয়া ও ইরানের সঙ্গে চুক্তি

রাশিয়া চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো সিরীয় সংঘাতে তার রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দিয়ে রাশিয়া এবার ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ব্যাপারে ইরাক, সিরিয়া ও ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। রবিবার ওই সমঝোতার কথা ঘোষণা করা হয়। সিরিয়ার লাতাকিয়ার কাছে একটি ঘাঁটিতে যুদ্ধ বিমান ও ট্যাঙ্ক মোতায়েন দ্বারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের শক্তি বৃদ্ধি করার রাশিয়ার আগেকার উদ্যোগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অজ্ঞাতে এই গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানতেন যে, একদল রুশ সামরিক কর্মকর্তা বাগদাদে অবস্থান করছে। তবে রবিবার যখন ইরাকী সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট অপারেশন কমান্ড গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করার চুক্তির বিষয় ঘোষণা করে তখন স্পষ্টতই তারা বিস্মিত হন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন যে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওবামা প্রশাসন থেকে পৃথক একটি সুনির্ধারিত কর্মকৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এটি তারই আরেকটি ইঙ্গিত। সোমবার জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে পুতিন ওই উদ্যোগের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যে মস্কোর দীর্ঘকালীন মিত্র আসাদের প্রতি সমরিক সাহায্যদানের রাশিয়ার অবস্থানকেই তুলে ধরে না বরং আসাদের ক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য বিদায়ের ঘটনায় তাঁর একজন উত্তরসূরি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও ক্রেমলিনকে প্রভাব বিস্তাবের সুযোগ করে দিতে পারে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ ওবামা প্রশাসনের জন্য কঠিন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। প্রশাসন সিরিয়ার সংঘাতে আমেরিকার সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে ব্যাপক বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। রুশ সামরিক বাহিনী এবং আইএসের বিরুদ্ধে বিমান হামলা পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ‘সংঘাত বিযুক্ত’ থাকবে এবং পরস্পরের সামনা-সামনি হওয়া এড়িয়ে যাবে এটি সমস্যার একটি অংশ মাত্র। ওবামা প্রশাসন এবং ক্রেমলিন এমনকি লড়াইয়ের প্রধান কারণ সম্পর্কেও দৃশ্যত একমত হতে পারেনি। আমেরিকান কর্মকর্তারা, যারা দীর্ঘদিন ধরে আসাদকে সিরিয়ার অস্থিরতার মূল উৎস বলে দাবি করে আসছেন, তারা জোর দিচ্ছেন যে, সিরীয় নেতার নির্মম দমন অভিযান জিহাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার সূত্রপাত ঘটিয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক উত্তরণে না পৌঁছানো পর্যন্ত সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না, যার জন্য প্রয়োজন আসাদের ক্ষমতা ত্যাগ। তবে রুশ কর্মকর্তারা সিরীয় সরকারকে আইএস এবং নুসরা ফ্রন্টের মতো জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোর অধিকতর সাফল্য অর্জনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বর্ম হিসেবে বিবেচনা করে এবং কখনও কখনও এই ধারণাও দেয় যে, আলোচনার মাধ্যমে সিরীয় সংঘাত সমাধানের পূর্বে আইএসকে পরাজিত করার বিষয়টি আগে আনা উচিত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া সঙ্কটে রুশ সহযোগিতা গ্রহণ করার ব্যাপারে চেষ্টা চালানোর একটি কূটনৈতিক কর্মকৌশলের ওপর ভরসা করলেও ক্রেমলিন তার একতরফা সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রকে অব্যাহতভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে চলেছে। এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং তাঁর মার্কিন প্রতিপক্ষ বারাক ওবামা সোমবার সিরীয় সঙ্কট প্রশ্নে বৈঠকে মিলিত হলেও বাশার আল-আসাদের ভবিষ্যত ভূমিকার ব্যাপারে তাদের মতবিরোধ নিরসনে ব্যর্থ হন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভাষণে ওবামা সিরীয় নেতাকে শিশু হত্যাকারী স্বৈরাচারী শাসক আখ্যায়িত করেন। অপরদিকে, পুতিন বলেন, বিশ্বের উচিত আইএস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আসাদকে সাহায্য করা। রুশ নেতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদস্য দেশগুলোর প্রতি জিহাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে দেন যে, তিনি আসাদের সেনাবাহিনীর প্রতি সাহায্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন এবং বিমান হামলার সম্ভাবনা বাতিল করছেন না।

মার্কিন ও রুশ প্রেসিডেন্টরা তাঁদের ভাষণের পর পরস্পর পানীয়র গ্লাস ঠোকাঠুকি করেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজনের সময় করমর্দন করেন। তবে কোনকিছুই তাঁদের অবস্থানগত দূরত্ব গোপন করতে পারেনি। পুতিন ও ওবামা পরে ৯০ মিনিটব্যাপী বৈঠকে মিলিত হন। রুশ নেতা বৈঠককে ‘গঠনমূলক ও কার্যকর’ বলে অভিহিত করেন তবে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বৈঠককে কার্যকর আগানো-পিছানো বলে বর্ণনা করেন। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস ও এএফপি