২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মঙ্গলে পানির প্রবাহ, প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে আশার আলো

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা ন্যাশনাল এ্যারোনেটিকস ও স্পেস এ্যাডমিনেস্ট্রেশনের (নাসা) বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহে পানির প্রবাহ রয়েছে। একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সোমবার এ ঘোষণা দেন তারা। খবর সিএনএন ও ওয়েবসাইটের।

বিজ্ঞানীরা সোমবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যাতে বলা হয়েছে তাঁদের মহাকাশযান মার্স রিকনিসনস অরবিটার গ্রীষ্মকালে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠভাগে লোনা পানির প্রবাহ দেখতে পেয়েছে। গ্রীষ্মকালে সেই ধারা বাড়ে, আর ক্ষীণ হয়ে আসে শীতের সময়। তবে এর পৃষ্ঠভাগে লোনা পানির প্রবাহ থাকার প্রমাণ এটাই প্রথম। এতে করে গ্রহটি প্রাণের অস্তিত্ব থাকার উপযোগী বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার বিজ্ঞানবিষয়ক সহযোগী প্রশাসক জন গ্রুনসফিল্ড বলেন, ‘মঙ্গল শুষ্ক বা ঊষর গ্রহ নয়, যেমনটি আমরা ভেবে আসছি।’বিজ্ঞানীরা মহাকাশযান থেকে পাওয়া মঙ্গলের পৃষ্ঠদেশের রাসায়নিক মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে নতুন একটি কৌশল তৈরির মাধ্যমে এই সফলতা পেয়েছেন। তাঁরা গ্রহটির নিরক্ষীয় অঞ্চলের কিছু সরু চ্যানেলে লবণের এমন কিছু উপাদান দেখতে পান, যা কেবল পানির উপস্থিতিতেই গঠিত হয়।

মঙ্গলের শুষ্ক পৃষ্ঠের নীচে লুকিয়ে আছে জমা বরফের বিশাল ভা-ার। আগেই তার প্রমাণ পেয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। কোন কৌশলে সেই বরফ গলিয়ে মঙ্গলের বুকে জলস্রোত তৈরি করা যায় কিনা, সে নিয়েও ভাবনা-চিন্তা করছিলেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের দাবি, মঙ্গলে এখনও বয়ে চলে জলের ধারা। সেই ধারা অবশ্য লবণাক্ত জলের। মঙ্গলের মাটিতে অস্তিত্ব রয়েছে উপত্যকা ও জ্বালামুখের। উপগ্রহ থেকে পাঠানো ছবিতে ধরা পড়েছে, সেই সব এলাকার উঁচু জায়গায় রয়েছে জলপ্রবাহের চিহ্ন। বিজ্ঞানীদের দাবি, মঙ্গলে যখন গ্রীষ্মকাল তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে লবণাক্ত জলের ধারা। ধারাগুলি ক্রমশ দীর্ঘ এবং স্পষ্ট চেহারা নিতে থাকে।

আবার গ্রীষ্মকাল কেটে গেলে আগের ক্ষীণ অবস্থায় ফিরে যায় জলের ধারাগুলি। তবে এই জলধারার উৎস কোথায় সে নিয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। দুটি সম্ভাবনার কথা বলছেন তারা। হতে পারে মঙ্গলের ভূস্তরের নীচে জমে থাকা বরফ গলে ওই জলস্রোত তৈরি হয়। অথবা, মাটির নীচে জমাট অবস্থায় থাকতে পারে নোনা জলের ভা-ার। গরমে সেটাই গলে জলধারা হয়ে বয়ে চলে মাটির ওপর।

নির্বাচিত সংবাদ