১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগাতে জানে বাংলাদেশ

  • নয়াদিল্লীতে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক্সন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। আর ভৌগোলিক অবস্থানগত সে সুযোগকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্ব অবহিত এবং তারা সে লক্ষ্যেই কাজ করতে চায়। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যানেট ডিক্সন আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরে ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাউথ এশিয়া ইকোনমিক কনক্লেভে তিনি এভাবেই এক দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন। এদিকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

নয়াদিল্লীর ললিত হোটেলে তিনদিনব্যাপী প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাউথ এশিয়া ইকোনমিক কনক্লেভ (এসএইসি) সম্মেলন শেষ হবে আজ বুধবার। হাই প্রফাইল এ সম্মেলন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করেছে কনফেডারেশন অব দ্য ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন প্যানেল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশের মন্ত্রীরা সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেন এবং বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেশনে অংশ নেন দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

‘এক দক্ষিণ এশিয়া’র স্বপ্ন নিয়ে সোমবার সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যত যদি হয় এশিয়া, তবে দক্ষিণ এশিয়া হচ্ছে এর হৃদয়। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জন্য জলবাযু পরিবর্তনজনিত প্রভাব হচ্ছে শত্রু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিত ব্যানার্জি বলেন, আমরা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অখ-তার জন্য আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চাই। এ সম্মেলন সে কাজটি করতেই সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা (যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং নয়াদিল্লীতে সাবেক হাইকমিশনার) তারেক করিম সম্মেলনে অংশ নেন। এছাড়া এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ডেপুটি মহাপরিচালক দিওয়েশ শরণ, খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ জয়ন্ত মেনন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাবেক ডেপুটি মহাপরিচালক হার্শা বর্ধনা সিং, কোস্টারিকার সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিচালক এ্যানাবেল গনজালেজ, কমনওয়েলথের সাবেক পরিচালক ড. ইন্দ্রজিত কুমারস্বামীর মতো ব্যক্তিরা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যানেট ডিক্সন। তিনি বলেছেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝামাঝি। এই ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে দেশটি ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের গতি অনেক বাড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা রাখে।

সম্মেলন শুরুর আগে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাতেও বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এ্যানেট ডিক্সন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জানে ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব বিষয়টি জানে। তারা সেভাবেই কাজ করতে চায়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে অধিকাংশ সমস্যাই মিটিয়ে ফেলেছে, যা পাকিস্তান পারেনি। নিজেদের অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশের মনোযোগ দেয়াও এখন বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শিতা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বড় উপাদান হিসেবে কাজ করবে। যেমন ভুটান ও নেপালের ক্ষেত্রে জলবিদ্যুত, বাংলাদেশের টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভারত, উৎস করিডর হিসেবে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা, পর্যটনে মালদ্বীপ এবং হালকা মেশিন উৎপাদনে পাকিস্তান বিশেষায়িত দেশ।

তিনি বলেন, বিশ্বের ৪০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের বসবাস দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। আমরা একটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি, যেখানে মানুষগুলো তার পণ্য, শিল্প ও কাজ নিয়ে খুব লাভজনক প্রক্রিয়ায় দেশগুলোতে মুক্তভাবে বিচরণের সুযোগ পাবে। বিশ্বব্যাংকের বর্তমান এক গবেষণা বলছে, মুক্ত বিদ্যুত অর্থনীতি ব্যবস্থা চালু করলে দক্ষিণ এশিয়ায় বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার বাঁচানো সম্ভব। এটা করলে দক্ষিণ এশিয়ার যে ৪শ’ মিলিয়ন মানুষ এখনও বিদ্যুত সুবিধার বাইরে আছে তারাও এর আওতায় আসবে।

তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সেক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, মিজোরাম রোডস রিজিওনাল কানিকভিটি প্রকল্পটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এটা পরিবহন কানেকটিভিটি বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডর হিসেবে কাজ করবে। এটা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি এর সুবিধা পাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ধনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। ভারত বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ভারত সাম্প্রতিক সময়ে পূর্বমুখী নীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। আর বাংলাদেশকে ছাড়া সেটা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যে বাণিজ্য হবে, তা থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের মূল ভূখ- ও উত্তর-পশ্চিম অংশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন থেকেও প্রচুর অর্থ আয় সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পণ্য উৎপাদন খাত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এখাতে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ