২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠছে রাজধানী-বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য

আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠছে রাজধানী-বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য
  • চিরচেনা চেহারায় ফিরছে ঢাকা

মোরসালিন মিজান

আর সব ছুটির কথা আলাাদা। ঈদের ছুটি বিশেষ। টানা তিনদিনের। এরপরও বাড়তি চাই। সেই বাড়তি ছুটিটা এখন চলছে। ঈদের পরও তাই ঈদের রেশ। আনন্দটা চোখে-মুখে লেগে আছে। মন ফুরফুরে। এরই মাঝে অধিকাংশ মানুষ কাজে ফিরেছেন। বাকি যারা, ফিরছেন প্রতিদিন। এভাবে ধীরে ধীরে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে রাজধানী শহর। আশা করা হচ্ছে, আর কয়েক দিনের মধ্যেই আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠবে রাজধানী। চিরচেনা চেহারায় ফিরবে ঢাকা।

ঈদে সরকার ঘোষিত ছুটি ছিল শনিবার পর্যন্ত। রবিবার থেকে যথারীতি খুলেছে অফিস-আদালত। বন্ধের পর প্রথম দিনটি মোটামুটি কুশল বিনিময় করে কেটেছে। দ্বিতীয় দিন সোমবার থেকে কাজকর্ম। তৃতীয় দিন মঙ্গলবার কিছুটা গতি বেড়েছে বলা যায়। তবে সবাই ফেরেননি। বড় ছুটি নিয়ে যাওয়া মানুষ এখনও গ্রামের বাড়িতে। এই অনুপস্থিতির প্রভাব দেখা যাচ্ছে কর্মস্থলে। মঙ্গলবার অফিসপাড়া মতিঝিল ঘুরে দেখা যায়, লোকজন বেড়েছে। তবে কর্মচাঞ্চল্য নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিঁড়ি কিংবা লিফ্্টে মানুষের চাপ সামান্যই। দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামানের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, একাই বসে অফিস করছেন তিনি। অন্য সময় টেবিলের সামনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ে। মঙ্গলবার তেমনটি দেখা গেল না। বললেন, ঈদের ছুটিটার জন্য সবাই আসলে প্রতীক্ষা করে থাকেন। আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখেন। সরকারী ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি নিয়ে গ্রামে যান। পরিজনের সঙ্গে ঈদ করেন। এবারও তা-ই হয়েছে। এখনও আমাদের অফিসের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকায় ফেরেননি। অচিরেই তারা ফিরবেন। তখন আগের মতোই ব্যস্ত হয়ে উঠবে গোটা অফিস।

উৎসব শেষে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ। অফিসের কর্তাদের জন্য দুপুরের খাবার সরবরাহ করতে শুরু করেছেন বুয়ারা। হোমমেড ক্যাটারিং সার্ভিস সচল হয়েছে। খাবার সরবরাহের সময় দিলকুশার রাস্তায় দেখা মেলে আকলিমা নামের এক গৃহিণীর। প্রথমে কথা বলতে রাজি ছিলেন না। বুঝিয়ে বলার পর ছোট্ট করে কথা হয়। জানান, তার বাসা কেরানীগঞ্জ। সেখান থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছেন। সারা বছরই বিভিন্ন অফিসে খাবার সরবরাহ করেন তিনি। তবে ঈদের ছুটিতে তা বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার থেকে ফের শুরু হয়েছে। একইভাবে স্বাভাবিক হয়ে আসছে খবার পানির সরবরাহ। বিভিন্ন রাস্তায় খাবার পানি বহনকারী ভ্যান দেখা যাচ্ছে। এসব ভ্যান ঈদের ছুটিতে বন্ধ ছিল।

ঢাকার অনেক মার্কেট শপিংমল এরই মাঝে খুলেছে। বেচা-বিক্রি সামান্য। তবে থেমে নেই। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকার প্রচুর মার্কেট মঙ্গলবার বন্ধ থাকে। ঈদের ছুটি সাপ্তাহিক এই বন্ধের দিন পর্যন্ত টেনে লম্বা করা হয়। আজ বুধবার থেকে নিয়মিত খোলা থাকবে এসব এলাকার দোকানপাট। ফুটপাথের দোকানপাটও অল্পস্বল্প করে খুলছে। যেখানে চারটি চায়ের দোকান সেখানে একটি বা দুটি খুলেছে। ফুচকা, ঝালমুড়ি, শরবত ইত্যাদি বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে। ফার্মগেটের হকাররা এমনকি পোশাকের দোকানগুলো খুলে বসেছেন। চলছে বিক্রি।

ঢাকার বর্তমান চিত্রটা বিশেষ ধরা পড়ে মূল রাস্তাগুলোয়। ঈদের কয়েকদিন রাস্তাঘাট যথারীতি ফাঁকা ছিল। মুহূর্তেই একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছা গেছে। নিজস্ব পরিবহনে মনের মতো ঘোরাফেরা করা গেছে। সিএনজি চালিত অটো রিক্সাও খুব দুর্লভ নয়। প্রধান সড়কগুলোতে চলতে দেখা গেছে রিক্সা। তবে ক্রমেই বাড়ছে গণপরিবহনের সংখ্যা। ট্রাফিক পুলিশও নিজের কাজে মনোযোগী হয়েছেন। অফিস সময়ে এবং সন্ধ্যায় তাদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।

রাজধানীর স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চালু হয়নি এখনও। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে। শুরু হয়ে যাবে আর সব কর্মকা-। তাই প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঢাকায় ফিরছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এই জনস্রোত বলে দেয়, অচিরেই চিরচেনা রূপে ফিরবে রাজধানী ঢাকা। আপাতত সেই অপেক্ষা।