১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়ক নৌ ও রেলপথে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল

  • স্বরূপে ফিরছে ঢাকা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে ফেরত মানুষের ভিড় বাড়ছে। সড়ক-নৌ ও রেলপথে এখন ঢাকামুখী মানুষের ঢল। শিকড়ের টানে যারা ঈদ উৎসব উদযাপনে গ্রামে গিয়েছিলেন তাদের চোখেমুখে কিছুটা কষ্টের ছাপ। কারণ স্বজনদের ছেড়ে জীবিকার টানে ফেরত আসতে হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক। এদিকে মঙ্গলবারও রাজধানীর অফিসপাড়া ছিল শান্ত। গাড়ির চাপ বেড়েছে, তবে যানজট নেই। সিগন্যাল কার্যকর শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে। আজ থেকে খুলছে স্কুল কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহেই স্বরূপে ফিরবে রাজধানী।

কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানী ফেরত মানুষের ভিড় সোমবারের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাওয়ার সময় মানুষ যেমন ট্রেনের ছাদে, দরজায় ঝুলে বাড়ি যাচ্ছিলেন, রাজধানীতে ফেরার সময়ও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। ঝুঁকি নিয়েই কর্মস্থলে ফিরছেন ঘরফেরা মানুষদের অনেকে। ট্রেনের ছাদে যারা রাজধানী ফিরেছেন তাদের ভাষায়, যে কোনভাবে রাজধানীতে ফিরতে হবে। যাত্রীর তুলনায় টার্মিনালগুলোতে বাসের সংখ্যা নগণ্য। তাছাড়া ট্রেনের ভেতরে ভিড় থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ছাদে উঠেছেন। এদিকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ফিরতি প্রায় সব ট্রেনই নির্দিষ্ট সময়ে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছেছে। কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, মঙ্গলবার ফিরতি সব ট্রেনই নির্দিষ্ট সময়ে এসেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুন্দরবন, তূর্ণা, ধূমকেতু, উপবন, রংপুর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে কমলাপুর স্টেশনে এসে ঠিক সময়েই ছেড়েছে। ঈদে যাওয়া এবং ফেরার পথে কোন ট্রেনে যাত্রীদের তেমন ভোগান্তি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

কমলাপুর স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মতে, গত দু’দিন স্টেশনে রাজধানী ফেরত মানুষের ভিড় তেমন ছিল না। গত দু’দিনের তুলনায় মঙ্গলবার কিছুটা ভিড় রয়েছে। সকাল থেকেই চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেন কমলাপুরে এসে পৌঁছেছে। ফেরার পথে নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে সময়মতো ট্রেন ছেড়েছে বলেও জানান যাত্রীরা।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৩৫ জেলার মানুষ নগরীতে আসতে শুরু করেছেন। কোন লঞ্চে স্বাভাবিক আবার কোন লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়। সড়ক পথে ঘরে ফিরতে এবারও সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে উত্তরাঞ্চলের ২৩ জেলার যাত্রীদের। যানজটের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ৬ ঘণ্টার রাস্তা পৌঁছাতে সময় লাগে ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরু রাস্তা, বাড়তি গাড়ির চাপ, লক্কড় ঝক্কড় গাড়ি চলা, নিষিদ্ধ পরিবহন চলাচলের দৌরাত্ম্য, সড়ক দুর্ঘটনা ও অব্যবস্থাপনাই এর মূল কারণ। যাত্রাপথে ভোগান্তি হলেও ফিরতে সেরকম কোন চিত্র নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-ময়মনসিংহ মহাসড়কও এখন যানজটমুক্ত। নির্বিঘেœ ঢাকা ফিরছেন কর্মমুখী মানুষ।

দুপুরে রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি বাসেই যাত্রী চাপ বেশ। সিটিং সার্ভিসগুলোতেও মোড়া বসিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। মহাখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, দেশের কোন মহাসড়কে যানজটের খবর আসেনি। যাত্রীরা নিরাপদে ফিরতে পারছেন।

মঙ্গলবারও রাজধানী ছিল অনেকটাই ফাঁকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেটকারের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে যাত্রীবাহী বাস, অটোরিক্সা, ট্যাক্সিও। তবে বিভিন্ন গন্তব্য থেকে টার্মিনালে নেমে বাসায় যেতে যাত্রীরা পরিবহন সঙ্কটের শিকার হচ্ছেন। বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে যাত্রীদের। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এখন ঢাকার পরিবেশ সবচেয়ে সহায়ক। এ কথা একেবারেই নির্দ্বিধায় বলা চলে। সুযোগও হাতছাড়া করছেন না অনেকে। হাতিরঝিল, বসুন্ধরা সিটি, সংসদ ভবন, শিখা অনির্বাণ জাদুঘর, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বিজ্ঞান জাদুঘর, নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, শিশুমেলা, শিশু পার্ক, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল থেকে শুরু করে সবখানেই ভ্রমণ পিপাসুদের উপস্থিতি বেশ।

যারা রিক্সা দিয়ে বেড়াতে পছন্দ করেন তারাও বসে নেই। সব রাস্তা দিয়েই এখন রিক্সা চলাচল করতে পারছেন। মিটছে বেড়ানোর পিপাসা। ফুসকা খাওয়া কিংবা একটু ভাল হোটেলে খাবার দাবার এতেও কমতি নেই। স্টার সিনেপ্লেক্স কিংবা বলাকা। ইচ্ছামতো হলগুলোতে ছবি দেখতে ঢু দিচ্ছেন নগরীর মানুষ। তবে আজ বুধবার থেকে হয়ত এ আশায় গুড়েবালি। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলছে। আবারও সরব হবে রাজধানী। বাড়বে গাড়ির চাপ। দেখা যাবে যানজট। শব্দ দূষণের প্রতিযোগিতা বাড়বে ঘণ্টায় ঘণ্টায়।