১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সবাইকে ’২১ সালের আগেই টেলিযোগাযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা

  • নীতিমালা সংশোধন হচ্ছে

ফিরোজ মান্না ॥ ২০২১ সালের আগেই টেলিযোগাযোগ ও অর্ধেক মানুষকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ কারণে সংশোধন হচ্ছে বর্তমান টেলিযোগাযোগ নীতিমালা। নতুন নীতিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। গত আগস্টে নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রেখে জনগণের মতামত নেয়া হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় থাকছে গ্রাহকসেবার মান ও গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা, স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয় হয়ে সংসদে পাস হবে। নীতিমালায় গ্রাহক স্বার্থ রক্ষাসহ নানা বিষয় রয়েছে। সংশোধিত নীতিমালা পাস হলে টেলিযোগাযোগ খাতের অনেক অসঙ্গতি দূর হবে। আবার এই খাতের অনিয়ম দুর্নীতিও অনেকাংশে কমে যাবে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ টেলিযোগাযোগ সেবার আওতায় রয়েছে। খসড়া নীতিমালায় ২০১৮ সালের মধ্যেই তা ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা ধরা হযেছে। আর মধ্য মেয়াদে ২০২১ সালের আগেই দেশের সব মানুষকে টেলিযোগাযোগ সেবার আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে ২০২১ সালের আগেই দেশের অর্ধেক মানুষকে ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২৭ শতাংশ বা ৪ কোটি ৮৩ লাখ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ইন্টারনেটের ব্যবহার মধ্য মেয়াদে ২০২১ সালের আগেই ৫০ শতাংশ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ২০২৫ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। একই সময়ে দেশে ব্রডব্যান্ড বা উচ্চগতির ইন্টারনেটের ব্যবহার যথাক্রমে ৩০ ও ৬০ শতাংশে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১০ জনকে টেলিযোগাযোগ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই লক্ষ্যমাত্রা পেছনে ফেলে ২০১০ সালেই দেশের টেলিঘনত্ব ৪০ শতাংশ অতিক্রম করে। খসড়া নীতিতে টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম বা পণ্য উৎপাদন ও সেবার মান উন্নয়নে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই ১৯৯৮ সালে প্রণীত টেলিযোগাযোগ নীতিমালাটি সংস্কারের দাবি করে আসছেন। এর আগে দুবার সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগের নতুন নীতিমালা পাস হওয়ার আগেই দেশে আইটি খাতে অনেক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। হাতে নেয়া হয়েছে অনেক নতুন প্রকল্প। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গড়ে তোলা হচ্ছে আইটি আইটিইস, হাই-টেক শিল্প ও এই শিল্পের বিকাশ উন্নয়নে হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। হাই-টেক শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে ১৮ হাজার ১৩২টি সরকারী সংস্থা অবিভক্ত নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরির জন্য ৩৪ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের আওতায় এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি তথ্য প্রযুক্তিবিদ তৈরি করা হয়েছে। তারা বিশ্ব মানের সনদ পেয়েছেন। এই সনদ বিশ্বের সব দেশেই সমান গুরুত্ব বহন করবে। ২০১৬ সালের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ ফাইবার অপটিক্যাল কেবলের আওতায় চলে আসবে। ‘বাংলা গব নেট ও ইনফো সরকার’ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় সব উপজেলা বর্তমানে ফাইবার অপটিক কেবলে সংযুক্ত হয়েছে। ফলে দেশের ১৮ হাজার ১৩২টি সরকারী সংস্থা অচিরেই অবিভক্ত নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।

এদিকে, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে ডেভেলপার নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যশোর হাইটেক পার্কের ১ম পর্যায়ের কাজ আগামী মার্চে শেষ হবে। হাইটেক পার্কগুলো স্থাপনের মাধ্যমে আগামী চার বছরে ৭০ হাজার দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অ্যাম্পলয়ি ইনসেনটিভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। আইটি, আইটিইএস ব্যবসা থেকে উদ্ভুত আয়কে আগামী ২০১৯ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি খাত থেকে বিদেশে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কেটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মোবাইল গেমস সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। মোবাইল অ্যাপস কর্মসূচীর বিকাশের স্বার্থে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। নতুন নীতিমালায় থাকছে যুগোপযোগী সাইবার সিকিউরিটি আইন। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিও। বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ তথ্যপ্রযুক্তির নানাবিধ ব্যবহারের ফলে প্রতিদিন আগের চেয়ে আরও অনেকগুণ বেশি তথ্য আদান প্রদান হচ্ছে। সারাদেশে ১০টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হবে। দেশে উৎপাদিত এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সফটওয়্যারগুলোর মান নির্ধারণের জন্য সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার জন্য ইনকিউবেশন স্থাপন করা হবে। সূত্র জানিয়েছে, আইসিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ফাস্ট ট্র্যাক ফিউচার লিডার (এফটিএফএল) প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের আইটি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডিজাইন, আউটসোর্সিং, এ্যানিমেশন, এ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিপণন, মার্কেটিংয়ে দক্ষ মানুষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। এফটিএলএল তার মধ্যে একটি।