২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হঠাৎ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্র কি-না খতিয়ে দেখা হচ্ছে

  • সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে গোয়েন্দারা তৎপর

শংকর কুমার দে ॥ হঠাৎ করেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো একের পর এক ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী পরিকল্পিত কোন গভীর ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন স্থিতিশীল তখন আবার অশান্ত-অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য পর্দার অন্তরাল থেকে কেউ কলকাঠি নাড়ছে কিনা তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। হঠাৎ করেই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত, রাজধানী ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ায় ইতালীয় নাগরিক খুন, খুনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দায় স্বীকার, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ ইত্যাদি ঘটনাগুলোর মধ্যে কোন ধারাবাহিকতা বা যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, গত বছর ’১৪ সালে সেপ্টেম্বরে এই সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যান তখনও গোয়েন্দা সংস্থার খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘হুমকির মুখে’ রয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে হুমকির বিষয়গুলো অবহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার সরকারের উৎখাতের সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন ভারত সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে নিশ্চয়তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তখন পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার খবরটি ফাঁস করে দেয়ার পর তা ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত সংবাদে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করা সংক্রান্ত খবরের তথ্যের কথা বলা হয়। গত বছর পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এই তথ্যগুলো অবহিত করার জন্য আলোচনার টেবিলে আসছে বলে জানানো হয়। ভারতীয় গোয়েন্দারা সে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে যে তথ্য দিয়েছে তাতে পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর একটি অংশকে ব্যবহার করে হাসিনা সরকারকে উৎখাতের চেষ্টায় আছে বলে তাদের কাছে তথ্য আছে।

তখন পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করে, এই ঘটনার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছেন পশ্চিমা দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা যিনি কূটনীতিক হিসেবে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অংশকে ব্যবহার করার গোয়েন্দা সংস্থারটি দাবির বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনার নেপথ্যে কারা কিভাবে নীলনক্সা তৈরি করার ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে তাও এখনও রহস্যবৃত। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র বলেন, গত বছরের ঘটনাবলীর সঙ্গে এক অদ্ভুত সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া গেল, এবারের ঘটনায়ও।