১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইনের শাসন, দক্ষ প্রশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসনের পরিকল্পনা

  • আগামী মাসে এনইসিতে অনুমোদনের সম্ভাবনা

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ আগামী পাঁচ বছরে সুশাসন নিশ্চিত করতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার। এ পরিকল্পনায় বিচার ও আইনের শাসন, সরকারী প্রশাসনে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সুশাসন উন্নীত করার বিভিন্ন কৌশল নেয়া হচ্ছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় এ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া বিষয় বা দিক হলো ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জনগণের আয় বণ্টন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য হারে উন্নীতকরণ। এ পরিকল্পনায় গড়ে প্রতিবছর ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কৌশল ও কর্মপন্থাসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুশাসন নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমেই দেশকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ে এবং পরবর্তীতে উন্নত দেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে যেসব কৌশল নেয়া হচ্ছে সেগুলো হলো, বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে- সুপ্রীমকোর্টে বিচারক নিয়োগে সহজ ও স্বচ্ছ মানদ- ও প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগণের প্রবেশগামিতা চালু করতে কোর্টের মামলাসমূহের রেকর্ড এবং অনুসরণ পদ্ধতি কম্পিউটারভিত্তিক করা। ভূমি সংক্রান্ত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন কার্যকরী পদক্ষেপ প্রবর্তন করা হবে। সরকার ন্যাশনাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অর্গানাইজেশন (এনএলএএসও)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি সহায়তা করবে। উন্নয়ন অংশীদারিত্বে স্থানীয় সরকার নিজস্ব আয় বৃদ্ধি সাপেক্ষে অধিকতর শক্তিশালীকরণে পদক্ষেপ নেবে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকারি প্রশাসনে সুশাসন নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশলগুলো হচ্ছে, সরকারী কর্মচারী আইন-২০১৫-এর চূড়ান্ত অনুমোদন ও তা বাস্তবায়ন। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের বাস্তবায়ন। মন্ত্রণালয়গুলোর বার্ষিক কর্ম সম্পাদন ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণ। গ্রিভেন্স রিড্রেস সিস্টেম কার্যকর করা এবং পদের শূন্যতা ও নিয়োগের স্বচ্ছতা আনয়ন সেই সঙ্গে নিয়োগে সমযোগ্যতায় নারীদের প্রাধান্য দেয়া।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করতে যেসব কৌশল নেয়া হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেশাদারিত্বের উৎকর্ষ সাধনে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সরকারী ব্যাংকসমূহে তদারকি বৃদ্ধি। ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সুশাসন উন্নীতকরণ। মূলধন বাজার পরিচালন পদ্ধতি উন্নীতকরণ। কর ফাঁকি হ্রাসে পরিচালন পদ্ধতির উন্নয়ন করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ও ন্যায়পরায়ণতা সম্প্রসারণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সূত্র জানায়, সম্প্রতি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনের পথ নির্দেশ: অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ এবং সরকারী নীতির সার্থক প্রয়োগ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা বলেন, দুর্নীতি বন্ধ না হলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন হবে। সেই সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে সামনে রেখে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করে এক সংলাপের। এ সময় ড. শামসুল আলম বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে সবার আগে। এটি হচ্ছে দারিদ্র্য সৃষ্টির অন্যতম কারণ। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) উন্নয়নসহযোগীদের সহায়তার প্রয়োজন ছিল প্রতিবছর ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর এর বিপরীতে আমরা পেয়েছি মাত্র ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উন্নয়ন সহযোগীরা প্রতিশ্রুতি না রাখলেও আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে গেছি। যার সুফলও মিলেছে। এখন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রফেসর এমএম আকাশ বলেন, রাজনৈতিক বিষয়টি আগে মাথায় রাখতে হবে। কেননা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা না গেলে এসডিজির অনেক লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে না। বৈষম্য কমাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক বরাদ্দ বাড়াতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষায় আমরা কেন অর্থ দিচ্ছি তাদের সিলেবাস পরিবর্তন না করে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। বিদ্যুত খাতে ইনডেমনিটি আইন দুর্নীতির পথ তৈরি করেছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেছেন, দুর্নীতি হওয়ার কারণে একটি শ্রেণী ধনী থেকে আরও ধনী হচ্ছে অপরদিকে অন্য একটি শ্রেণী গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে। ফলে সমাজে বৈষম্য চরম আকার ধারণ করছে।