১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ অনিশ্চিত!

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ অনিশ্চিত!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমগুলো কোন আশার বাণী দিতে পারছে না। উল্টো সিরিজ বাতিল, এমন দুঃসংবাদই দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার হেরাল্ড সান ও ফক্স স্পোর্টস আতকে ওঠার মতো শিরোনামই করেছে। তাদের দাবি, ‘বাংলাদেশ সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।’ দ্য গার্ডিয়ানও দুঃসংবাদই দিয়েছে। জানিয়েছে, ‘অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দলের পাঠানো প্রতিবেদনে জঙ্গীগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করা হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়ে যেতে পারে। বোঝাই যাচ্ছে, অনিশ্চয়তার মধ্যেই পড়ে গেছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। এরপরও আশা থাকে। সেই আশাতেই আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে বিসিবি। আর সিএ তাকিয়ে আছে দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে। বিসিবি ও সিএ এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষাতেই আছে। আজই আসতে পারে সেই সিদ্ধান্ত।

সোমবার বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশ সফর পিছিয়েছে। তবে সফর বাতিল করেনি। কিন্তু এখন সেই শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। সোমবার বাংলাদেশ সফরের নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারল, অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজার গেভিন ডভে ও দলের নিরাপত্তা ম্যানেজার ফ্রাঙ্ক ডিমাসি। মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়ে তারা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। ঢাকা ছাড়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল কিছুই জানাননি। দেশে ফিরে বুধবার তারা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক অধিদফতর (ডিএফএটি), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপরই বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এ সিদ্ধান্তের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ডিএফএটি ও বিসিবি তাকিয়ে আছে সিএ’র দিকে।

অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর নিয়ে যে অনিশ্চয়তা আছে, সেটি আসলে তৈরি হয়েছে সোমবারই। রবিবার অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। সোমবারও তারা ঢাকায় থাকে। সেদিনই ঘটে গেল একটি ঘটনা। গুলশানে কূটনৈতিকপাড়ায় ৫০ বছর বয়সী সিজার তাভেলা (৫০) নামে ইতালির বংশোদ্ভূত এক বিদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কে গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর সিজার তাভেলাকে রাজধানীর ইউনাইডেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জঙ্গী হামলার আশঙ্কা আরও জোরালো হওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়।

যদিও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তারা গেল কয়েকদিন ধরে আসন্ন টেস্ট সিরিজের বিষয়ে তাদের তীব্র আকাক্সক্ষার কথাই জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সিএ’র এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই বিষয়ে (বাংলাদেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি) আমাদের অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয়নি। গতকালের বৈঠক শেষে আমাদের নিরাপত্তা প্রধান, টিম ম্যানেজার ও টিমের নিরাপত্তা ম্যানেজার বাংলাদেশ থেকে দেশের (অস্ট্রেলিয়া) পথে রয়েছেন। তারা দেশে ফিরলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বোর্ড, ম্যানেজম্যান্ট ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

নিরাপত্তা দলটি দেশ ছাড়ার পর বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘সফরকারী দলটিকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সঙ্গে থাকছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দেয়া নির্ধারিত নিরাপত্তা। আর এই নিরাপত্তা ঢাকার মতোই থাকবে আরেক ভেন্যু চট্টগ্রামেও। র‌্যাব, পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে আর বিশেষজ্ঞ দলটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।’

৯ অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট ও ১৭ অক্টোবর মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য প্রথম টেস্টের দলও ঘোষণা করে দিয়েছে বিসিবি। কিন্তু সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। শুধু অস্ট্রেলিয়া যদি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলত, তাহলে ঠিক ছিল। এরসঙ্গে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দিয়েছে। এটি বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার আসার বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে।

ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রর পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার বিষয়ে কড়া হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার তাদের বুলেটিনের উপর ভিত্তি করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ধারণা করছে বাংলাদেশে পশ্চিমা লোকদের উপর জঙ্গী হামলা হতে পারে। আর এই কারণেই, সিরিজ বাতিল করার ঘোষণা দেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ); দাবি করেছে হেরাল্ড সান ও ফক্স স্পোর্টস। সোমবার ইতালিয়ান নাগরিকের হত্যাকা- হওয়া এবং তার দায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ে নেয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, ‘সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে পশ্চিমা লোকদের টার্গেট করছে জঙ্গীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও নাগরিকদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।’ তবে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে বার্তা দেয়া হয়েছে সেটাই অস্ট্রেলিয়ানদের সিরিজ বাতিল করতে বেশি প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট বলেছে, ‘বিশ্বাসযোগ্য নতুন তথ্য বলছে যে, জঙ্গী সংগঠন বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের টার্গেট করছে।’ নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোই যদি এমন কথা বলে, তাহলে কী আর অস্ট্রেলিয়া তাদের ক্রিকেটারদের খেলতে বাংলাদেশে পাঠাবে?