২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ জামালের নাম প্রত্যাহার

  • শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল;###;পরিবর্তে আফগান লীগ চ্যাম্পিয়ন শাহিন আসমায়ি, মোহনবাগানের বদলে কলকাতা মোহামেডান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবরে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য এ টুর্নামেন্টে ঘরোয়া ফুটবলের জনপ্রিয় তিন ক্লাবের সঙ্গে অংশ নেবে বিদেশের চার ক্লাব। দেশের পেশাদার লীগ চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে শেখ জামাল ধানম-িকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড। কিন্তু তাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ ফি নিয়ে বনিবনা না হওয়াতে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের প্রিমিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন শাহিন আসমায়ি ক্লাবকে নিয়েছে আয়োজকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টুর্নামেন্টের আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনীর টিম ম্যানেজার এবং টুর্নামেন্ট কো-অর্ডিনেটর শাকিল মাহমুদ চৌধুরী জানান, ‘শেখ জামালের স্থানেই নেয়া হয়েছে আফগানিস্তানের লীগ চ্যাম্পিয়নদের। এছাড়া ভারতের মোহনবাগানের বদলে টুর্নামেন্টে যুক্ত হয়েছে কলকাতা মোহামেডান।’

মূলত অংশগ্রহণ ফি বাড়িয়ে দেয়ার দাবিতেই ঘরের ক্লাবগুলো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। আয়োজকরা ক্লাবগুলোকে পাঁচ লাখ টাকা করে অংশগ্রহণ ফি দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের মতে অংশগ্রহণ ফি টা যথেষ্ট সম্মানজনক নয়। তাই সেটি বাড়িয়ে যেন ১০ লাখ টাকা করা হয়। অন্যথায় তারা নাম প্রত্যাহার করে নেবে টুর্নামেন্ট থেকে। সঙ্গে যোগ দিয়েছিল ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবও। তাদেরও দাবি ছিল অংশগ্রহণ ফি যেন ৫ লাখের বেশি করা হয়। পরে মোহামেডান খেলতে রাজি হয় এবং এ বিষয়ে তারা আয়োজকদের চিঠি পাঠিয়ে সম্মতি জানায়। আর আবাহনী প্রথমে রাজি না হলেও পরে খেলতে নিমরাজি হয়। শেষ পর্যন্ত আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে তারা টাকার পরিমাণ বাড়াতে পারবে না। বিদেশের ক্লাবগুলো যদি এই টাকায় অংশ নিতে রাজি থাকে তবে ঘরের ক্লাবগুলোর সমস্যা কোথায়! আয়োজকদের যুক্তি তাদের পক্ষ থেকে সব দলকেই পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা, বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা করে অংশগ্রহণ ফি-ও দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া চ্যাম্পিয়ন দলকে ২৫ হাজার ডলার ও রানার্সআপ দলকে দশ হাজার ডলার দেয়া হবে। টুর্নামেন্টের প্রাইজমানিটাও তো অনেক। তাহলে ঘরের ক্লাবগুলোর এত আপত্তি কেন?

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জানান, ‘শাহিন আসমায়ি ক্লাব রবিবার আমাদের এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে তাদের এই টুর্নামেন্টে খেলার বিষয়ে জানিয়েছে।’ এ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ থেকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড, ঢাকা আবাহনী লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড। আর বিদেশী দলগুলোর মধ্যে ভারতের ইস্টবেঙ্গল, নেপালের পুলিশ দল ও শ্রীলঙ্কার সলিড এসসি নিজেদের অংশগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। প্রথমে রাজি থাকলেও পরে আর আগ্রহ দেখায়নি ভারতের মোহনবাগান ক্লাব। তাদের জায়গায় যোগ হয়েছে ভারতের কলকাতা মোহামেডান ক্লাব। এ বিষয়ে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেডের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলাল জানান, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে শেখ কামালের নামে এত বড় একটি আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল আসর অনুষ্ঠিত হবে, আর সেই আসরে দলগুলোকে অংশগ্রহণ ফি দেয়া হবে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা করে, এটা কি করে হয়! শেখ জামাল এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্লাব। আমাদের অনেক খরচ আছে। বিদেশী খেলোয়াড়দের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ জন্য আমাদের ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদের দাবি জানিয়েছিলেন, অংশগ্রহণ ফি যেন কমপক্ষে দশ লাখ টাকা দেয়া হয়। বড়মাপের ফুটবল টুর্নামেন্ট, কাজেই বড় ধরনের অংশগ্রহণ ফি দেয়াটাই উচিত। এ বিষয়ে কার্পণ্য করলে চলবে কেন?’ এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টটি শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয় কি না।