২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টি২০ ম্যাচে আজ লড়বেন সালমারা

টি২০ ম্যাচে আজ লড়বেন সালমারা
  • বাংলাদেশ-পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট সিরিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল পাকিস্তানে খেলতে যাবে, যাবে না; এমন শঙ্কা অনেক আগেই দূর হয়ে গেছে। এমনকি পাকিস্তানে গিয়ে করাচীর সাউদার্ন ক্লাব স্টেডিয়ামেও এখন অবস্থান করছেন সালমা খাতুনরা। আজ পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচেও খেলতে নামবেন তারা। বেলা ১১টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

এ ম্যাচ দিয়ে দুই ম্যাচের টি২০ ও দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও শুরু হয়ে যাবে। আজ একটি টি২০ হবে। শুক্রবার হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি২০। টি২০ সিরিজ শেষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। ৪ ও ৬ অক্টোবর যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে পাকিস্তান সফরও শেষ হবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের।

এ সিরিজ নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন। নিজেদের খুশির কথাও জানিয়েছেন। মঙ্গলবার পাকিস্তানের করাচীতে সিরিজের শিরোপা উন্মোচনের পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ক্রিকেটাররা স্বস্তিতেই আছে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমাদের বাড়ির মতোই। আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্য প্রস্তুত। জানি তারা শক্তিশালী দল।’

পাকিস্তান অধিনায়ক সানা মির অবশ্য এ সিরিজকে টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন। সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা পাকিস্তানে খেলতে আসায় ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘তাদের ধন্যবাদ। বাংলাদেশ দলটি খুবই শক্তিশালী। দলে কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান করছে। পাকিস্তান দল এখন ওয়ানডেতে ৫ নম্বরে আছে। আর টি২০তে আছে ৭ নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ে। দলের চার খেলোয়াড় ২০ জনের মধ্যে আছে। আমি চাই ৭ থেকে ৮ নম্বরে কিংবা তার উপরে যেতে। আমরা এ সিরিজটিকে টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছি।’

বাংলাদেশে যখন চলছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের আসা নিয়ে ভাবনা। এমন সময় পাকিস্তানের মতো নিরাপত্তাহীন দেশে অবস্থান করছেন সালমারা। সোমবারই চলে গেছেন পাকিস্তানে। দেশ ছাড়ার আগে সালমা খাতুন বলেছিলেন, ‘এশিয়ান গেমসের পর (২০১৪ সালের গেমস) আর কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়নি। অবশেষে কিছু প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলা হবে।’ সঙ্গে নিজেদের ইচ্ছাতেই যে পাকিস্তান যাচ্ছেন, তাও বলে দিলেন, ‘কেউ চাপ দেয়নি আমাদের। আমাদের ইচ্ছাতেই পাকিস্তান যাচ্ছি।’ ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলে বাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়নি পাকিস্তানে। অবশেষে জিম্বাবুইয়ে সেই দেশে খেলতে যায়। দুটি টি২০ ও তিন ওয়ানডে খেলে। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাকিস্তানে মহিলা ক্রিকেট দল পাঠাচ্ছে। পাকিস্তানে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের ম্যানেজার শফিকুল হক হীরা বলেন, ‘আমরা ভালভাবে জেনেছি মহিলা দলকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা দেয়া হবে। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে যে সুবিধা দেয়া হয়, সেই সুবিধাই দেয়া হবে।’ সেই সুবিধাই পাচ্ছেন সালমারা।

দেশের মহিলা ক্রিকেটাররা যে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে তা ঈদের আগেই নিশ্চিত হয়ে যায়। সরকার থেকেও সবুজ সঙ্কেত মিলে। বাকি থাকে শুধু বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার। সেই ঘোষণাও ঈদের আগেই আসে। এরপরই সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, ফারজানা হক পিঙ্কি, রুমানা আহমেদ, লতা ম-ল, আয়েশা রহমান শুকতারা, পান্না ঘোষ, শারমীন আক্তার সুপ্তা, ফাহিমা খাতুন, শামীমা সুলতানা, রিতু মনি, নিগার সুলতানা, খাদিজাতুল কুবরা, শারমীন সুলতানা ও নাহিদা আক্তার পাকিস্তানে খেলতে যান।