২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা শত শত পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ তিস্তপাড়ের মানুষের দিন যতই যাচ্ছে ফিকে হয়ে আসছে তাদের জীবনধারা। এবারের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে তিস্তার ভাঙ্গন। তাদের মুখে হতাশার ছাপ। তিস্তার হিংস্র থাবায় ইতোমধ্যে তিস্তায় বিলীন হয়েছে শতাধিক একর আবাদি জমি। কেড়ে নিয়েছে শতশত পরিবারের বসতভিটা।

তিস্তা নদীর এই ভাঙ্গন চলছে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখরিবাড়ি, ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ভে-াবাড়ি ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকায়। একদিকে দফায় দফায় বন্যার ধকল সইতে না সইতেই আবারও ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ওই সব এলাকার বাসিন্দারা।

সরেজমিনে রবিবার দেখা যায় তিস্তাপাড়ের চরখড়িবাড়ি গ্রামের এক নম্বর ওয়ার্ডে হাক্কি মিয়া (৫৫) তিন দফায় বসতভিটা সরিয়ে নদী থেকে বেশ দূরে সুন্দর করে টিনের বাড়িঘর নির্মাণ করেছিলেন। সেটি এখন ভাঙ্গনের মুখে তাকে পুনরায় অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন এবার এই এলাকার ৭০টি পরিবারের ঘরে কোন ঈদ ছিল না। যেভাবে তিস্তা ভাঙছে তাতে পুরো এলাকা শেষ করে দিবে। চরখড়িবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পটিও হুমকির মুখে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের দেখা নাই। কিছুদিন আগে ভাঙ্গনরোধে তারা আড়াই লাখ খরচ দেখিয়ে ছোট একটা বাঁশের পাইলিং করেছিল। সেটিও তিস্তা খায়া ফেলাইছে। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, ৭০ পরিবারের বসতভিটা তিস্তায় চলে গেছে চোখের সামনে। পরিবারগুলো এখন অসহায়।

অপরদিকে ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ভে-াবাড়িতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার অসহায় মানুষের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি করে তুলছে। গত দুই দিনে ৫৫টি পরিবারের বাড়ির ভিটা ও ফসলী তিনশ’ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ও দুইশ’ পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী জানান। এ ছাড়া ছাতুনামা ফরেস্টের চরের শতশত মূল্যবান গাছ ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে ভেসে যাচ্ছে। এদিকে লালমনিরহাটের গড্ডিমারী ইউনিয়নের নিজ গড্ডিমারী এলাকায়, শফিকুল ইসলাম, কাশেম আলী, আবেদীন মিয়া, আয়নাল হক, মোহর মিয়া, ইউনুস মিয়া, মোজাম্মেল হক তিস্তার ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

বঙ্গোপসাগরে আটক ভারতীয় জেলের আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে নৌবাহিনীর হাতে আটক ৬১ ভারতীয় জেলের মধ্যে একজন আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সঞ্জয় (৩০) নামে ওই জেলে মংলার নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে বাথরুমে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। মৃত জেলে সঞ্জয় ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ উপজেলার প্রফুল্ল চন্দ্রের ছেলে। এর আগে সোমবার রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকা থেকে ইলিশ বোঝাই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ভারতীয় ৫টি ট্রলারসহ ৬১ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনী। মঙ্গলবার সকালে তাদের মংলার নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে আনা হয়। জেলা মংস্য কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র ম-ল জানান, ট্রলার থেকে তিন হাজার একটি মাছ জব্দ করা হয়েছে।

যা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর নিলামে বিক্রি করা হবে।

এদিকে, মংলা থানার এসআই মঞ্জুরুল এলাহী জানান, ওই জেলের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মংলা নৌবাহিনী ঘাঁটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।