১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুন্দরবন রক্ষায় মংলা-ঘষিয়াখালী এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুন্দরবন রক্ষায় ‘মংলা-ঘষিয়াখালী’ নৌপথ দ্রুত সচল করতে বাগেরহাটের রামপাল-মংলায় অবিলম্বে ‘স্টেট এমারজেন্সি’ (রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা) ঘোষণা ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি’ আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে তাঁরা এই দাবি জানান।

সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) রাষ্ট্রীয় কোষাগারের তথা জনগণের শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে বছরজুড়ে খনন কাজ অব্যাহত রাখলেও কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় কিছুসংখ্যক জনপ্রতিনিধি ও সরকারদলীয় লোক মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ সংলগ্ন সরকারী খালগুলো দখল করে শত শত বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে চিংড়ি চাষ করছে। ফলে নৌপথের দু’দিকে পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রচলিত আইন প্রয়োগ করে সেসব খাল অবৈধ দখলমুক্ত ও পরিবেশবিনাশী চিংড়িঘের উচ্ছেদে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সুন্দরবনকে বাঁচাতে প্রকল্প সংলগ্ন রামপাল ও মংলা উপজেলায় রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিদ্যমান সংকট নিরসন করতে হবে।

গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম বলেন, সুন্দরবন রক্ষা ও মংলা বন্দরকে অধিক গতিশীল করতে বিকল্প নৌপথ মংলা-ঘষিয়াখালীর গুরুত্ব সর্বজনবিদিত। কিন্তু পাউবো ও স্থানীয় কিছুসংখ্যক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ খননে বিআইডব্লিউটিএ-কে অসহযোগীতার অভিযোগ উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ দ্রুত সচলকরণে আন্তরিক হলেও নৌপথটি এতোদিনে চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, নৌপথটি খনন শুরুর দীর্ঘ ১৫ মাসেও কেনো সেখানকার খালগুলোর অবৈধ বাঁধ, পরিবেশবিনাশী চিংড়িঘের ও ফয়লাহাট স্লুইসগেট উচ্ছেদ করা হচ্ছে না তা জনগণ জানতে চায়। জোয়ার-ভাটার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে জনগুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সংলগ্ন সব নদী ও খালগুলো দ্রুত খননেরও তাগিদ দেন তিনি।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গনতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান তারিক চৌধুরী, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ডা. আব্দুল মতিন, পরিবেশসম্মত বাসযোগ্য ঢাকা বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্যসচিব হাজী মোহাম্মদ শহীদ, নিরাপদ সড়ক ও নৌপথ বাস্তবায়ন জোটের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সবুজ, সাংবাদিক রাজন ভট্টাচার্য, এইচ এম সিরাজ, মোহাম্মদ নাজিম প্রমুখ।