২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজ ভাবনা ॥ সাইবার অপরাধ মোকাবেলার জন্য সচেতনতা এবং সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

  • -সুমন আহমেদ সাবির;###;তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ

এবারের বিষয় ॥ সাইবার অপরাধ

সাক্ষাতকার নিয়েছেন মারুফ রায়হান

জনকণ্ঠ : বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার খুব বেশি দিনের নয়। আর সাইবার অপরাধও শুরু হলো এই কিছুকাল। দেশে সাইবার ক্রাইমের বাস্তবতা কী? কতগুলো ক্ষেত্রে এ অপরাধ হচ্ছে?

সুমন আহমেদ সাবির : খুব অল্পদিনও নয় কিন্তু। ১৯৯৬ সাল থেকেই পূর্ণোদ্যমে শুরু, যদিও প্রথমদিকে অল্প কিছু মানুষের মধ্যে এটা সীমাবদ্ধ ছিল। গত সাত-আট বছর যাবত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের ব্যবহার হচ্ছে। তবে এখনও খুব হাইটেক হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহৃত হচ্ছে না। সাধারণ যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ এবং বিনোদন- এ দুটোই প্রধান। এর সঙ্গে অল্প কিছু অনলাইন ব্যাংকিং এবং ই-কমার্স হিসেবে কেনাকাটার কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। গোটা দুনিয়া সাইবার অপরাধ নিয়ে যতটা সতর্ক ও সচেতন, আমরা তেমন নই। তার মানে এই নয় যে, আমরা নিরাপদ। আসলে আমরা সেভাবে ব্যবহার করি না। গত দু-তিন বছর ধরে দেশে যেসব সাইবার অপরাধ আমরা দেখছি, তার ভেতরে প্রধান হচ্ছে ব্যক্তিগত হয়রানি। কারও সম্পর্কে মানহানিকর বা আপত্তিকর কথা ও ছবি পোস্ট করা। সামাজিক মাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের ফলে এই অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাচ্ছে। অনেকে লজ্জা বা সংকোচের জন্য সেটাও করছে না। এখানে লক্ষণীয় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না যে কী করবে। কারণ তারা সেভাবে প্রশিক্ষিত নয়। ব্যাংকের এক বা একাধিক এ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ লোপাট করা, ব্যবসায়ীদের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, এসব সীমিত আকারে হলেও চলছে। ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু কিছু জালিয়াতির ঘটনা ধরাও পড়েছে।

জনকণ্ঠ : বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করে বলবেন?

সুমন আহমেদ সাবির : এখন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশ সংরক্ষিত ও ব্যবহৃত হয়। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে হয় লেনদেন। ধরুন, আমি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা, আপনি ঋণ নিলেন আমার ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা। এক বছর পরে আপনি গোটা লোনটাই শোধ করে দিতে চাইলেন। কারণ অন্য ব্যাংক থেকে আপনি হয়ত আরও কম সুদে লোন পেয়েছেন। আপনার ফেরত দেয়া টাকাটা আমি ব্যাংকে শোধ না দিয়ে আপনার নামের কাছাকাছি একটা নামে লোন এ্যাকাউন্ট ওপেন করে সেই টাকা নিজের পকেটে নিলাম। আপনি জানলেন যে, আপনার লোনটা শোধ হয়ে গেছে। আপনার সমস্যা নেই। এখন আপনার ওই টাকা আমি ব্যবসায় লাগালাম বা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে লোন দিলাম। এ রকম চারটা কেস হলেই বিশ কোটি টাকার পুঁজি আমার হাতে এসে পড়ল। বিশাল একটা টাকা। সেটা দিয়ে বিলাসী জীবনযাপনের সুযোগ পেলাম। পাশাপাশি কিছু কিছু করে লোন শোধও করতে থাকলাম। আর যদি ভেগে যেতে পারি, তাহলে তো কথাই নেই।

জনকণ্ঠ : এমন ঘটনা দেশে ঘটেছে?

সুমন আহমেদ সাবির : হ্যাঁ, বেশ কিছু ঘটেছে। কয়েকজন ধরাও পড়েছে।

জনকণ্ঠ : সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের জন্য আমাদের সক্ষমতা কেমন?

সুমন আহমেদ সাবির : এখানে দুটো বিষয় লক্ষণীয়। যিনি ইউজার বা ব্যবহারকারী তার সচেতনতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেন ফাঁদে পা না দেই- এই সচেতনতা গড়ে তোলার জায়গায় তেমন একটা কাজ হচ্ছে না। সরকার ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ যদি ভোক্তাদের সচেতন করার কাজটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিত, তাহলে সাইবার অপরাধ অনেকখানিই কমিয়ে আনা যেত। ধরুন কোন ব্যাংক যে ওয়েবসাইট তৈরি করাল, সেটি সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত ও নিরাপদ কিনা, সেটা প্রধান বিবেচ্য। এর পরের ধাপ হলো যদি কোন সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয় তাহলে অপরাধীকে শনাক্ত করা এবং তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। এখানেই সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা থেকে গেছে। এই ফিল্ডে অভিজ্ঞকর্মীর অভাব রয়ে গেছে। এখানে বিশেষজ্ঞ টিম যেমন থাকবে, তেমনি থাকতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের সমন্বয়। তাদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা থাকাও জরুরী। দেশে অনলাইন ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। তাই দেশের প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তার এই সাইবার অপরাধ সম্পর্কে বেসিক জ্ঞান থাকা উচিত। কোন থানার অধীনস্থ এলাকায় যদি খুনের মতো কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধের আলামত সংগ্রহের। তেমনি সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও কিছু অত্যাবশ্যক ব্যবস্থা নিতে হয়। সেসব ব্যাপারে আমাদের পুলিশ এখনও সচেতন নয়।

অনলাইন ব্যবস্থাপনা একটি বিশেষায়িত কাজ। একটি উদাহরণ দিয়ে বলি। সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরের কাজ হচ্ছে রোগীর সেবা করা। যুদ্ধক্ষেত্রে গেলেও তারা চিকিৎসাসেবাই দেবেন, গোলাগুলিতে অংশ নেবেন না। তেমনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে যারা সাইবার ক্রাইম দেখবেন, তাদের সেটাই হবে কর্তব্যের পরিধি, অন্য কিছু নয়। আগেই বলেছি, এটা বিশেষায়িত কাজ।

জনকণ্ঠ : সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আপনারা কী ধরনের কাজ করছেন?

সুমন আহমেদ সাবির : ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা তিনটে বড় ওয়ার্কশপ করেছি। পুলিশ, র‌্যাব, এনএসআই, সিআইডি, এসবি প্রভৃতি সংস্থার সদস্যদের অংশগ্রহণে হয়েছে ওয়ার্কশপগুলো। কিন্তু এর কার্যকর ফল আমরা পাইনি। তার কারণ হলো, যারা এসব কর্মশালা ও ট্রেনিংয়ে যোগ দেন, পরবর্তীকালে তাদের আর এই কর্মক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। তারা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান এবং দুঃখজনক হলো, পরে তাদের কেউই আর সাইবার অপরাধ দমনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন না।

জনকণ্ঠ : তাহলে দেখা যাচ্ছে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সার্ভিসের জন্য বিদ্যমান সংস্থাগুলোর ভেতরেই পৃথক শাখা করা দরকার। এ ব্যাপারে বিটিআরসির ভূমিকা কেমন?

সুমন আহমেদ সাবির : কিছুটা ভূমিকা রয়েছে। যেসব অপারেটর ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইড করে থাকেন, তারা সাইবার অপরাধ শনাক্ত ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করছে কিনা সেটা বিটিআরসি নজর রাখতে পারে। বিটিআরসি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়। যদিও তারা এই দায়িত্ব কিছুটা নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়ার কথা বলছে।

জনকণ্ঠ : তাহলে কি সাইবার অপরাধ দেখার জন্য একেবারে স্বতন্ত্র একটি সংস্থা দরকার বলে মনে করেন?

সুমন আহমেদ সাবির : নিশ্চয়ই। সেটাই যুক্তিযুক্ত হবে। এটি অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরেই হতে হবে। তবে সাইবার ইনসিডেন্স দেখার দায়িত্ব পালন করতে পারে বিটিআরসি। যেমন কোরিয়া এখন কোরিয়ান ইনফরমেশন সিকিউরিটি এজেন্সি করেছে। এখানে দুটো ব্যাপার লক্ষ্য করার বিষয়। আমরা টেকনিক্যাল টার্ম ব্যবহার করে বলি- সাইবার ইনসিডেন্ট এবং সাইবার ক্রাইম। ইনসিডেন্ট মানে পরিকল্পিত অপরাধ নয়, ভুলক্রমে কম্পিউটারে কোন কমান্ডের কারণে টোটাল সিস্টেমে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হওয়া। একেবারে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য কোন বাটনে চাপ লেগে অনলাইন সার্ভিসে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলো এবং এতে বহু মানুষ আর্থিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হলো। এটা কিন্তু সাইবার অপরাধ নয়।

জনকণ্ঠ : বাংলাদেশের কোন নাগরিক বা সংস্থার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অপরাধীর লোকেশন বিবেচ্য নয়। অপরাধী দেশের বাইরে বসেও সে অপরাধ সংঘটন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক কোন সংস্থার প্রয়োজনীয়তা কতখানি? যেমন অন্যান্য অপরাধের বেলায় অপরাধী বিদেশে অবস্থান করলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া যায়।

সুমন আহমেদ সাবির : ঠিক তাই। সাইবার অপরাধ সংঘটিত হতে পারে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে বসেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার অপরাধীদের ধরার জন্য সম্মিলিত ব্যবস্থা গ্রহণের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। সে চেষ্টাও করছে বিভিন্ন দেশ। আমাদের এখানে অনেক সংস্থা সার্ভার বানিয়ে কাজ করছে। বাইরের হ্যাকাররা সেখানে ঢুকে যাচ্ছে। এ জন্য কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম থাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আমাদের এখানে ইন্টারনেট সেক্টরের ব্যবসায়ীরা সরকারের আশায় বসে না থেকে নিজেরাই সেটি গঠন করেছেন। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটনা ঘটছে। আমরা নিজেরাই সেসব সমাধানের ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। বাংলাদেশে এমন মেশিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে সেটা আমরা চিহ্নিত করি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিন্তু বাইরের ওই উদ্যোগটি যদি অপরাধের পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে আমাদের অবশ্যই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হতে হবে। সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সভাগুলোতে আইনরক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সদস্যদের ডাকা হয়। গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট, ইয়াহুর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা থাকেন। গত বছর লন্ডনে এ ধরনের একটি মিটিংয়ে আমি গিয়েছিলাম। দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল সেই সভাটি। একটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত, অপরটি শুধু আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যদের সভা। দ্বিতীয়টিতে থাকার অধিকার ছিল না। প্রথমটিতে যোগ দিয়ে যে অভিজ্ঞতা হলো তাতে স্পষ্ট দেখতে পেলাম, এক দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই দেশটির অভ্যন্তরে অপর দেশটির সাইবার অপরাধীদের তৎপরতা সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের গোচরে আনছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সমাধানের সূত্রও দেয়া হচ্ছে। এই যে সামনাসামনি বসে সরাসরি সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আলোচিত হচ্ছে এবং সমাধানের পথ বের করে আনা হচ্ছে- এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমরা যদি মনে করি, ই-মেইলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হব, তাহলে ভুল হবে। সেটা সবক্ষেত্রে সম্ভব নয়। মুখোমুখি বসে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা সমাধানে আসা সহজ ও কার্যকর। এখন সমস্যা হচ্ছে, বিশ্বের উন্নত কোন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে না আমাদের দেশের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কার সঙ্গে কথা বলবে।

জনকণ্ঠ : সেজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা কিংবা দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি থাকা চাই। আমরা ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তি করতে পেরেছি কি?

সুমন আহমেদ সাবির : আসলে আমরা এসব জায়গায় যাচ্ছি না। উন্নত দেশের সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের পার্থক্য রয়েছে। সেখানকার কোন মেয়ের নগ্ন ছবি অনলাইনে প্রকাশিত হলে, তারা পাত্তা দিচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দেশে এমন অবস্থা হলে সেই মেয়েটির জীবন ভীষণ বিপন্ন হয়ে ওঠে। অপরাধীকে ধরার জন্য তাই ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তি থাকা জরুরী।

জনকণ্ঠ : ধরা যাক, অস্ট্রেলিয়ার কোন নাগরিক সে দেশে বসে আমাদের দেশের কোন নাগরিক বা সংস্থার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে লিপ্ত হলো। তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব কি?

সুমন আহমেদ সাবির : না, এখন পর্যন্ত পারছি না। আমরা এই সংযোগটা এখনও গড়ে তুলিনি, পারস্পরিক চেন অব ট্রাস্ট তৈরি হয়নি। আমাদের এখানে সিস্টেমের দীর্ঘসূত্রতাও রয়েছে। পুলিশ বিভাগ থেকে চিঠি যাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, তারা উদ্যোগ নেবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, তারপর সংশ্লিষ্ট দেশে সে অভিযোগ যাবে, অনেক সময়ের ব্যাপার।

জনকণ্ঠ : সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দমনের জন্য আমাদের আইন রয়েছে। নতুন আরও আইন প্রণীত হবে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

সুমন আহমেদ সাবির : আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সাইবার অপরাধের জন্য আলাদাভাবে কোন আইন করার দরকার নেই। সাইবার মাধ্যমে যে অপরাধগুলো করা হয়, মোটা দাগে বলা যায়, মানহানি ও হয়রানি, ব্যক্তির ভাবমূর্তি নষ্ট করা, অর্থ হাতিয়ে নেয়া ইত্যাদি- এসব অপরাধ সমাজে অহরহ হচ্ছে। আমাদের সমাজে যেসব আইনে এসব অপরাধের শাস্তি দেয়া হয়, একইভাবে একই ধরনের সাইবার অপরাধের জন্যও শাস্তি দেয়ায় অসুবিধে কোথায়? আমাদের আসলে যেটা করতে হবে তা হলো- সাইবার অপরাধ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সচেতনতা, সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ। সাইবার অপরাধের মাত্রা ও ধরন সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে এবং তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। আদালত এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই বিচার করবেন এবং শাস্তি প্রদান করবেন।

জনকণ্ঠ : সাইবার অপরাধ আসলে ভার্চুয়াল জগতে থাকছে না, বাস্তব জীবনেও চলে আসছে। তিন বছর আগে কক্সবাজারের রামুতে যেটা হয়েছিল। অনলাইনে মত প্রকাশের সূত্র ধরে বৌদ্ধদের ওপর আঘাত হানা হয়েছিল। বৌদ্ধবিহারে চালানো হয়েছিল ধ্বংসযজ্ঞ।

সুমন আহমেদ সাবির : এটাকে আমি সাইবার অপরাধ বলব না। সেটা ছিল অপরাধ। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোকের ওপর আক্রমণ।

জনকণ্ঠ : সূত্রপাত কিন্তু সাইবার জগতে। যা হোক, সাইবার অপরাধ দমনের জন্য আমরা আর কী করতে পারি?

সুমন আহমেদ সাবির : একটা কথা আমরা বলি- সবার জন্য শিক্ষা। সাইবার অপরাধ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যেরই প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। আমাদের যাবতীয় তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষিত হচ্ছে। ভোটার লিস্টে ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকছে। বাইরের দেশে জেনেটিক ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এসব বিষয় এত সংবেদনশীল এবং প্রভাব বিস্তারে সক্ষম যে, সে সম্পর্কে এখনও আমাদের পুরোপুরি ধারণা নেই। সায়েন্স ফিকশন মুভিতে যেসব ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে দেখি, তা বাস্তবে রূপ নিতে বেশি সময় লাগবে না।

আমি একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই, কম্পিউটার ও অনলাইনের ওপর আমাদের শতভাগ নির্ভরতা ঠিক হবে না। আমরা যেন অনলাইনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে না পড়ি। কম্পিউটার এবং অনলাইন ব্যবস্থা আমাদের জীবনকে উন্নত করার জন্য প্রয়োজন, জীবনকে জটিল করার জন্য নয়। মানুষকে বিপদে ফেলার জন্য নয়। বিশেষ করে শিশুদের জগত এখন অনলাইনভিত্তিক হয়ে পড়ছে। মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ নিয়ে সে প্রচুর ব্যস্ত থাকছে। এটি শিশুর মনোজগতে বড় প্রভাব ফেলছে। স্কুলশিক্ষা তার সম্পন্ন হচ্ছে না যথাযথভাবে। এ নিয়ে আমাদের অভিভাবক বা শিক্ষকদের মাথাব্যথা আছে কি? এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ