২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঁচাও বনভূমি

রক্ষক যখন হয়ে যায় ভক্ষক, তখন তক্ষক আর পারে না থাকতে নির্লিপ্ত। বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা মানেই দাপটের বাহাদুরি খেলা। তস্করবৃত্তির সহযোগীরা থেমে থাকে না। কাঠুরিয়ার কুড়ালের আঘাতে বৃক্ষের গোড়ায় এক ধরনের আর্তনাদের শব্দ রণিত হতে থাকে আর তক্ষক ডাকে বুঝি সতর্কতার সঙ্কেত জানাতে। রাতের অন্ধকার আর দিনের আলো একাকার হয়ে যায় বৃক্ষ নিধন, বন্যপ্রাণীর জীবন সংহারে। মূল্যবান বৃক্ষ কর্তন করে তা পাচার করার রেওয়াজ অনেককাল ধরেই চলে আসছে নির্বিবাদে। যেন কেউ নেই বলার, নেই এই অনাচার বন্ধ করার। চোরাকারবারিদের সংঘবদ্ধ দল উজাড় করে দিতে চায় বনভূমি। তাই কেটে নেয় নানা প্রজাতির মূল্যবান গাছ। সেই সঙ্গে তাদের ফাঁদে আটকা পড়ে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। আর এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে জীববৈচিত্র্যের ওপর। দেশজুড়ে থাকা বনভূমিগুলোর আয়তন তাই দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। বন্যপ্রাণীর সংখ্যাও কমে আসছে। যাদের দায়িত্ব প্রাণী ও বৃক্ষ সংরক্ষণ, চুরি বন্ধ রাখা, তারাই যদি হয়ে ওঠে সহযোগী, তখন ভয়, শঙ্কার, কারণ ঘটে বৈকি। সর্বজনবিদিত যে, বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত বনের মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারীভাবে গাছ কাটা নিষিদ্ধ থাকলেও মোটা অর্থের বিনিময়ে বন রক্ষকরা এ ব্যাপারে সহায়তা দিয়ে আসছেন। আর এভাবে মূল্যবান কাঠ পাচার করে তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। নিষেধ মানে না কেউ, তাই বৃক্ষ কর্তন চলছে অবাধে। বনভূমি ক্রমশ পরিণত হচ্ছে বিরাণভূমিতে। মাঝে মধ্যে চোরাকারবারি আটক হয়। কিন্তু উৎকোচের বিনিময়ে তারা ছাড়াও পেয়ে যায়। এদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দেয়ার নজির বিরল।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর অর্থনৈতিক উৎস ছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনের গুরুত্ব সব দেশে, সবকালে মানুষের কাছে অপরিসীম। অথচ এই বন উজাড় করার জন্য উদগ্রীব যারা, তারা প্রকৃতির বিরুদ্ধে, বিশ্ব ভূখ- অরক্ষিত করার কার্যে সক্রিয় ও সচেষ্ট। তারা মানবকুলের ধ্বংসই অনিবার্য করে তুলছে জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে। প্রকৃতি ধ্বংসের এই অপতৎপরতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের কবলে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বন রক্ষার বিষয়টিকে রাষ্ট্র বা সরকারও যে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে, মানুষকে সচেতন করে তুলছে তা নয়। বরং এসব দেখেশুনে ও নির্লিপ্ততার ভান করে আছে যেন! বন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা তথা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কোন সংবাদই মেলে না। অথচ এই বনভূমি সামগ্রিক পরিবেশ বিপর্যয় থেকে সবসময়ই রক্ষা করে আসছে ভূখ-কে। কিন্তু রক্ষক আর তস্কররা মিলে দীর্ঘ সময় ধরেই বনকে উজাড় করার নেশায় মত্ত। যার ফলে ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হচ্ছে বনভূমি। হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির অসংখ্য বন্যপ্রাণী। পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গাছেও মড়ক দেখা দিচ্ছে। মড়ক আক্রান্ত গাছগুলো লালচে রং ধারণ করে এবং ধীরে ধীরে পাতা ও ডালপালা শুকিয়ে মরেও যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের উপকারী পোকামাকড়ও একই কারণে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাখির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পাচ্ছে। বনে বনে এখন কুসুম ফুটলেও নেই সেই পাখিরা। যাদের গানে ঘুম ভাঙ্গে সে কলকাকলির পাখিরাও উধাও। বনকে রক্ষা করা, বনবৃক্ষ, প্রাণীসহ পাখিদের সুরক্ষার জন্য চাই কার্যকর উদ্যোগ ও জনসচেতনতা। আর তা না হলে বিপর্যয়ের খ—েগর নিচে আত্মাহুতি দেয়ার বিকল্প থাকবে না আর।