১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিনোদন স্পট

রবিকরোজ্জ¦ল নিজ দেশে চিত্তের বিকাশেও মনুষ্যত্ব সাধনায় সুস্থ চেতনার প্রসার জরুরী। অবসাদগ্রস্ত জীবনের ভার বয়ে যাবার ভেতরে যে গ্লানি, যন্ত্রণা, বেদনাবোধ জাগরূক থাকে তার বিপরীতে দাঁড়াতে হলে সুস্থ বিনোদন জরুরী। বিনোদন না থাকলে সুস্থ ও মুক্ত মনের বিকাশ হয় না, মানব জীবনে আসে না পূর্ণতা। অবসন্ন জীবন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যই মানুষকে উৎসব ও বিনোদনের আশ্রয় নিতে হয়। নিরাসক্ত জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা দুষ্কর। বিনোদন বলতে যেসব কর্মকা-কে বোঝায় তা মানুষের ক্লান্তি, একঘেয়েমি দূর করে আনন্দপূর্ণ জীবন পেতে সহায়ক হয়। খেলাধুলা, বনভোজন, দৌড়ঝাঁপ, নাচগানে অংশ নেয়া বিনোদনেরই অংশ। বিনোদনহীন জীবনে নানা কুচিন্তা, কুবুদ্ধি এসে জড়ো হয়। এমনকি মানুষকে খুনীতেও পরিণত করে। জীবনকে চাঙ্গা ও মধুময় করার প্রয়োজনে বিনোদনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এ চেতনাকে সামনে রেখে আসে নানা উৎসব। সেই উৎসবের মধ্যে মানুষ খুঁজে নেয় আনন্দ আর হৃদয়ের প্রশান্তিটুকু। আর উৎসব মানেই মানুষের মিলিত হবার, প্রাণে প্রাণ ছড়িয়ে দেয়ার আয়োজন। আর এর মধ্যেই মানুষের হৃদয়সঞ্জাত ভাললাগাগুলো পথ খুঁজে পায়। আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে মানুষকে অনুসন্ধান করতে হয় তার চিত্তের মননশীলতাকে। মানুষের জীবনের উত্তরণে বিনোদন তার অস্তিত্বকে সুসংবদ্ধ করে তোলে। বিনোদন মানুষকে ক্ষুদ্রতা ও অসহায়ত্ত থেকে উদ্ধার ও পরিপূর্ণ মানবসত্তার দিকে ধাবিত করে। মানবজীবনের পূর্ণতা ও সার্থকতার ক্ষেত্রে বিনোদন এক অপরিসীম ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই উৎসবে বা ছুটিতে দেখা যায় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ছুটির দিনগুলোতে নাগরিক জীবনে একটু বিনোদনের জন্য মানুষকে হাপিত্যেশ করতে দেখা যায়। আসলে ঘুরে বেড়ানো, পর্যটনের স্থান দর্শন, বনভোজন- সবই মানুষের ভেতর এক ধরনের আনন্দ ভাবালুতা এনে দেয়। রবীন্দ্রনাথ আক্ষেপ করেছিলেন সেকালে, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশির বিন্দু। ওই বিন্দুর ভেতর যে বিনোদনের উপাদান, তা চিত্তে সুখপ্রদ আমেজ এনে দিতে পারে। যে কোন মানুষ, হোক কঠিন, নির্মম মানসিকতার, তার চিত্তেও বিনোদন খেলা করতে পারে। কারণ এতটুকু সুখ মানুষকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে বিনোদনের বহু স্থান রয়েছে। কিন্তু বিনোদন স্পটগুলো যথাযথ মানসম্পন্ন বলা যায় না। যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন দুর্বল, তেমনি সড়কও খানাখন্দে ভরা। অনেক স্থানে নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অপ্রতুলতায় পূর্ণ বিনোদন স্পটগুলো দর্শক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম বলা যাবে না। এবারের ঈদের ছুটিতেও দেখা গেছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল।

উপচেপড়া ভিড়ের ভেতর মানুষ বন্ধু-বান্ধব পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছে আনন্দ। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের চিত্র ছিল এরকম। যেখানে পার্ক, চিড়িয়াখানা, সৈকত, নদীতীর রয়েছে, মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল সেসব স্থান। ঈদের ছুটিতে সব ধরনের নর-নারী ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল উচ্ছ্বল আনন্দে ঘুরে বেড়াতে। খোদ ঢাকায় মানুষ ঘুরে বেড়িয়েছে নানা স্থানে। এমনকি সংসদ ভবন এলাকাতেও। কিন্তু এসব স্থানে আয়োজন তেমন লক্ষণীয় ছিল বলা যাবে না। বাংলাদেশে বিনোদন স্পট যথেষ্ট রয়েছে কিন্তু সেগুলো সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও যথাযোগ্য করে তোলার কাজটি সুচারুরূপে করার বিষয়টিতে অবহেলাই রয়ে গেছে। বাঙালীর আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠার জন্য যথাযথ আয়োজন বা ব্যবস্থা করার কাজটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে খুব গুরুত্ব বহন করে বলে মনে হয় না। তাই উৎসব-পালা-পার্বণে মানুষের চিত্তকে জাগরূক করে তোলার কাজটি মানুষের অধরাই রয়ে গেছে। এই অবস্থা হতে দরকার উত্তরণের।