১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্মস্থলে ফিরতে বিড়ম্বনা

  • দক্ষিণাঞ্চলে বাড়তি ভাড়া আদায়

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ ঈদ শেষে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের কর্মস্থলে ফিরতে এবার চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। লঞ্চ কিংবা বাসে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষ করে বাস যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পরও টিকেট যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন চলতি সপ্তাহজুড়েই যাত্রীদের ভিড় থাকবে।

সূত্র মতে, এবার সরকারী বন্ধের দিন ঈদ হওয়ায় মাত্র একদিন অতিরিক্ত ছুটি উপভোগ করেই গন্তব্যে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপরও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পেরে তারা মহাখুশি। ঈদের তিন দিনের ছুটির সঙ্গে যারা বাড়তি ছুটি নিতে পারেননি তারা গত রবিবারেই কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বুধবার সকাল থেকেও বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ও লঞ্চ টার্মিনালে কর্মমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহজুড়েই যাত্রীদের এ ভিড় থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার জানান, শনিবার থেকেই মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশে ১০টি লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। সপ্তাহজুড়ে লঞ্চ ও স্টিমারের স্পেশাল সার্ভিসও অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এলাকার বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। হানিফ পরিবহনের বরিশালের কাউন্টার ম্যানেজার রানা তালুকদার জানান, নিয়মানুযায়ী তিনদিন কোরবানি হওয়ায় একটু বিলম্ব করেই যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেছে। এ চাপ আগামী শুক্রবার পর্যন্ত থাকবে। সূত্রে আরও জানা গেছে, নথুল্লাবাদ থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ঢাকা ও উত্তরবঙ্গ মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন শতাধিক পরিবহন যাতায়াত করে। ঈদে যাত্রীদের চাপ বাড়ায় প্রতিদিন প্রায় চারশ’ পরিবহন এখান থেকে ছেড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার থেকে ঢাকার টিকেট কাটা মাহাবুব লাবু, সাইফুল ইসলামসহ একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে কাউন্টার শ্রমিকেরা বাড়তি ভাড়া নিয়েছেন। এসব যাত্রীর টিকেটের গায়ে সরকার নির্ধারিত ৫২০ টাকার স্থলে সাড়ে ৫শ’ টাকা করেই লেখা রয়েছে। সাকুরা এসি পরিবহনের যাত্রীরা অভিযোগ করেন, তাদের টিকেটে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে লিখে দিলেও আদায় করা হয়েছে এগারোশ’ টাকা করে। কোন যাত্রী বাড়তি ভাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের সঙ্গে কাউন্টার শ্রমিকরা অশোভন আচরণ এমনকি শারীরিক লাঞ্ছিত পর্যন্ত করেন বলেও অভিযোগ।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মোঃ আনিচুর রহমান বলেন, অনেক যাত্রীই বাড়িতে আসার সময় ফেরার টিকেট আগাম ক্রয় করে নিয়েছেন। এজন্য এখন সিট থাকলেও পেছনের দিকের সিট পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকার নির্ধারিত নন-এসি বাসে জনপ্রতি ৫২০ ও এসি বাসের ভাড়া এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক সময় নন-এসি বরিশাল-ঢাকা ভাড়া নেয়া হয় সাড়ে চারশ’ ও এসি বাসে নেয়া হয় ৬৫০ টাকা করে। ঈদ বা যে কোন উৎসবে বাড়তি ভাড়া নেয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, এ সময় আসা অথবা যাওয়ার কোন একটা পথে যাত্রী কম হয় বলেই পুষিয়ে নিতে এমনটা করা হয়।

বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বরিশালের কাউন্টার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা তাদের দেয়া হয়নি।