২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রংপুরে চোলাই মদ খেয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আট, ৩ পুলিশ ক্লোজ

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ॥ রংপুরে বিষাক্ত চোলাইমদ পানে বুধবার দুপুরে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম জহুরুল ইসলাম। তিনি মাহীগঞ্জ বাজারের একজন কসাই। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ জনে। এদিকে ফাঁড়িসংলগ্ন এলাকায় মাদকের এই কেনাবেচার কাজ তদারকিতে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে মাহীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক আজিজুর রহমানসহ তিনজনকে ক্লোজ এবং অপর ৬ কনস্টেবলকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন জেলার পুলিশ সুপার।

অপরদিকে মাদক সেবনে মৃত্যুর ঘটনায় এক মৃতের ভাই আমিন উদ্দিন বাদী হয়ে ২৩ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালী থানায় হত্যা ও মাদক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ মাদক বিক্রেতার সঙ্গে জড়িত ২০ জনসহ ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া মাদক বিক্রেতাদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবিতে দুপুরে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে মাহীগঞ্জ বিহারীপাড়া এলাকাবাসী। ওই এলাকার শত শত নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মাহীগঞ্জ থেকে জিরো পয়েন্ট কাছারি বাজারে আসে। সেখানে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়। পুলিশ জানায়, তারা মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। মূল আসামি মাদক বিক্রেতা শহিদার রহমান ছইয়া, তার স্ত্রী হোসনে আরা, ছেলে মিঠু মিয়া প্রতিবেশী হাসিনা বেগমকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। যেসব পুলিশকে ক্লোজ করা হয়েছে তারা হলো ফাঁড়ি ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক আজিজুর রহমান, সহ-উপপরিদর্শক হাসান আলী এবং কনস্টেবল বকতার আলী। যারা মারা গেছেন তারা হলেনÑ মোঃ নাসিম (৪০), তার ছোটভাই মনু মিয়া (৩৫) চাচাত ভাই গফুর (৩০), মজিদ (৩৫), খুশি লাল (৩২), আব্দুল আজিজ (৩৫), আজমেরি (৩৫) এবং জহুরুল (৩৪)।

রাজশাহী মহিলা দলের নেত্রী লিজা ইয়াবাসহ গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগরীতে বিএনপির দাপুটে ‘নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত জেলা মহিলা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক লায়লা সুলতানা লিজাকে (৩৮) ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নগরীর সদর হাসপাতালের মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার দুপুরে মাদক মামলায় তাকে আদালতে চালান করা হয়েছে।

লিজার বাড়ি নগরীর পাঠানপাড়া এলাকায়। এলাকায় দাপুটে হিসেবে পরিচিত তিনি। রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার ঘনিষ্ঠ বলেও নগরীতে তার পরিচিতি রয়েছে। নাদিমের নাম করে নানা অপকর্মেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শহরে বসবাস করেও তার আচরণের কারণে নগর কমিটিতে ঠাঁই না পেলেও বিএনপি নেতা নাদিম মোস্তফা তাকে ঠাঁই দিয়ে জেলা মহিলা দলে ভেড়ান।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতেখায়ের আলম জানান, রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিজাকে বরেন্দ্র জাদুঘরের মোড় থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পরে তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে ২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রাজনীতির দাপটের কারণে তিনি মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মাদক নিরোধ আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার আদালতের মাধ্যেমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।