২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যবসায় পরিবেশে দেশ দু’ধাপ এগিয়েছে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায়

  • সার্বিকভাবে বড় ধরনের উন্নতি হলেও কয়েকটি খাতে সংস্কার প্রয়োজন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যবসায় পরিবেশে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সূচকে দু’ধাপ এগিয়েছে। একই সূচকে গতবছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৯ তম স্থানে আর এবছর তা উঠে আসে ১০৭তম অবস্থানে। গতবছর যাতে অংশ নিয়েছিল ১৪৪টি দেশ। নির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবেশন না করার কারণে যাদের ৮টি দেশকে এবার জরিপের বাইরে রাখা হয়। এছাড়া আরও নতুন ৪টি দেশ এতে যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে এবছর মোট ১৪০টি দেশের ব্যবসায় উদ্যোক্তারা এই মতাতম জরিপে অংশ নেয়। তবে বাদ পড়া ৮টি ও নতুন ৪টি দেশকে বাদ দিয়ে ১৩৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। প্রথম একশ’ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬তম। গত বছরও একই স্থানে ছিল। তবে, এই স্থিতিশীল অবস্থানের মাঝেও বিভিন্ন সূচকে অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা প্রতিবেদন-২০১৫-১৬’ এ তথ্য উঠে এসেছে। যা বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় উদ্যোক্তাদের মতামতভিত্তিক জরিপ প্রতিবেদন।

বুধবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রসঙ্গত, ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম একই সঙ্গে বিশ্বের ১৩৯টি দেশে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন সিপিডির পরিচালক (সংলাপ ও যোগাযোগ) আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ। জেনেভা থেকে স্কাইপিতে আলোচনায় অংশ নেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে জানান হয়, মোট ১৫টি সূচকে এই জরিপ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। যার মধ্যে মৌলিক চাহিদা হিসেবে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা। দক্ষতা উন্নয়নের সূচক হিসেবেÑ উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, পণ্য বাজারের দক্ষতা, শ্রমিকের দক্ষতা, অর্থনৈতিক বাজার উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রাপ্যতা ও বাজারের আকার আর উদ্ভাবন ও উৎকর্ষ সাধনের নিয়ামক সূচক হিসেবে ছিল ব্যবসায় উৎকর্ষ ও উদ্ভাবন। প্রতিবছর বাংলাদেশের ৩শ’ ব্যবসায় উদ্যোক্তার কাছে এই জরিপের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। এবার ৫৬ জন ব্যবসায়ী এর জবাব দিয়েছেন। যাদের প্রত্যেকের বিনিয়োগ ১০ কোটি টাকার বেশি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা প্রতিবেদন-২০১৫-১৬’ সিপিডির নিজস্ব কোন প্রতিবেদন নয়। এটি ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রতিবেদন। এটি ব্যবসা, শিল্প আর ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের জরিপ মতামত প্রতিবেদন। তবে, এর বিশ্লেষণ করে ‘বাংলাদেশের ব্যবসায় পরিবেশ সমীক্ষা-২০১৫’ অংশটি তৈরি করে সিপিডি। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান সামান্য এগিয়েছে। এটা তত বড় নয়। যতটা আমরা প্রত্যাশা করি।’ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদনের মৌলিক ভিত্তি হলো- পুঁজি, শ্রম আর জমি। বাংলাদেশে এসব বিষয়ে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।