২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বর্তমান কাঠামোতেই বেতন বৈষম্য নিরসন চান কলেজ শিক্ষকরা

  • মন্ত্রীকে বিসিএস ক্যাডারদের স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আলাদা বেতন স্কেল নয়, বর্তমান বেতন কাঠামোতেই সকল স্তরে বেতন বৈষম্য নিরসন চান দেশের সরকারী কলেজের শিক্ষকরা। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য শিক্ষকরা বুধবার এ দাবি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন বেগম ও মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সচিবালয়ের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে অবিলম্বে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পুনর্বহাল করে বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষক নেতারা একই সঙ্গে শিক্ষক সমাজের দাবি পূরণে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন। বিসিএস শিক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার সম্প্রতি অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করেছে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। পে স্কেলের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিকে বিবেচনায় না এনে অধ্যাপক পদের বেতন স্কেল ও গ্রেড অবনমন করা হয়েছে। সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাতিল করে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপকসহ র্শিক্ষা ক্যাডারের সকল স্তরের বেতন বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শিক্ষা ক্যাডারের ১৫ হাজার সদস্য এটি উপভোগ করতে পারছে না।

শিক্ষকরা তথ্য প্রমাণ তুলে ধরে বলেছেন, এখনও বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পঞ্চম গ্রেড হতে পদোন্নতি পেয়ে তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হন। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের সহযোগী অধ্যাপকরা পঞ্চম গ্রেড হতে চতুর্থ গ্রেডে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান, যা বৈষম্যমূলক। ৫০ শতাংশ অধ্যাপক সিলেকশন গ্রেড পেয়ে তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হন। এ বৈষম্য নিরসনের দীর্ঘদিনের চেষ্টা, ১৯৮৪ সালের এনাম কমিশন, ১৯৮৭ সালের সচিব কমিটির সুপারিশ এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের চাকরি ও বেতন কমিশনের কাছে আবেদন সত্ত্বেও অধ্যাপকদের বেতন গ্রেড চতুর্থ গ্রেড হতে তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হয়নি। উল্টো সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বন্ধ করে দেয়ায় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ সর্বোচ্চ চতুর্থ গ্রেড হতে অবসরে যাবেন। অন্যদিকে পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় শিক্ষা ক্যাডারের অনেকেই সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসরে যান। সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল না থাকায় এখন সহযোগী অধ্যাপকদের পঞ্চম গ্রেড হতে অবসরে যেতে হবে। প্রাপ্য মর্যাদায় উন্নীত না করে স্কেল ও পদ অবনমনে শিক্ষকরা মর্মাহত। অন্যদিকে দুটি সুপার গ্রেডের ফলে বৈষম্য আরও তীব্রতর হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, পদ ও স্কেল অবনমনের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ চতুর্থ গ্রেডে নির্দিষ্ট করে, শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন অধিদফতর ও শিক্ষা প্রকল্পের তৃতীয়, দ্বিতীয় ও প্রথম গ্রেডে অন্য ক্যাডার হতে পদায়ন করার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

শিক্ষকরা আরও বলেছেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর পূর্বে কলেজ জাতীয়করণ হলেও এখনও ১৯৮৪ সালের এনাম কমিটির প্যাটার্ন অনুযায়ী অনার্স/মাস্টার্সের জন্য পদ সৃষ্টি হয়নি। ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষক নিয়ে ৪ বছরের অনার্স পড়ানো হচ্ছে। ২ বছরের ডিগ্রী কোর্স এখন ৩ বছরের। রয়েছে ইন্টারমিডিয়েট ও মাস্টার্স কোর্স। পদ সৃষ্টির সমীক্ষার নামে গত এক বছরের অধিক সময় পদ সৃষ্টির চলমান প্রক্রিয়া সুকৌশলে বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষকরা। ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির দাবি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করলেও দুই বছর সেটিও ফাইলবন্দী। পদ না থাকায় এবং বিষয় বৈষম্যের কারণে প্রতিদিনই শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসরে যাচ্ছেন।

এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারের ২৪তম বিসিএসের এক হাজার ৯৬০ সহকারী অধ্যাপক এবারই ১ জুলাই পঞ্চম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্য ছিল। একদিনের জন্য তারা পঞ্চম গ্রেড প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই কথা প্রযোজ্য প্রভাষক পর্যায়ে। শিক্ষকরা বছরে শনিবারসহ ৫২ দিন অতিরিক্ত ক্লাস নেন। জাতীয় দিবসসমূহে সবাই ছুটি ভোগ করলেও শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। পদ ও স্কেল অবনমনের ফলে শিক্ষকরা অবসরের সময় পেনশনের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হবেন।

কর্মসূচী ॥ ৭ অক্টোবর সারাদেশে সকল সরকারী কলেজ, বাণিজ্যিক কলেজ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা, শিক্ষা অধিদফতর, শিক্ষাবোর্ড, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অফিসে মানববন্ধন ও জেলা উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়।

১০ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বা আশ্বাস পাওয়া না গেলে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর সকল সরকারী কলেজে, বাণিজ্যিক কলেজ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও সরকারী আলিয়া মাদ্রাসায় পূর্ণ দিবস ক্লাস বর্জন। ১৮ অক্টোবর শিক্ষা ভবনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী করে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।