২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাত নিরাপদ নয়, চালে রয়েছে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান আর্সেনিক

দেলওয়ার হোসেন, সুইডেন থেকে ॥ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত স্বাস্থ্যের জন্যে নিরাপদ নয়! ভাতের উৎস চালে রয়েছে বিপজ্জনক মাত্রার ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান আর্সেনিক। এই উপাদানটি সর্বাধিক মাত্রায় রয়েছে চাল কিংবা চাল থেকে উৎপাদিত নানান খাদ্য পণ্যে। এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মাত্রার মধ্যে চালে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রা তিন। তাই ভাত বা চাল থেকে উৎপাদিত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য আর নিরাপদ নয়। সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই তথ্যটি প্রকাশ করে সুইডেনের খাদ্যপণ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এর সূত্র ধরে সুইডেনের বিখ্যাত ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের অধীনস্থ পরিবেশ বান্ধব ওষুধবিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক কারিন ব্রুবেরি জানান, প্রতিদিন অধিক পরিমাণে নিয়মিত ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই বিপজ্জনক। মরণব্যাধি ক্যান্সারের দিকে ঠেলে দিতে পারে এই খাদ্য নির্ভরশীলতা।

তিনি জানান, এতদিন পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা নিয়ে নিরলস গবেষণা হয়েছে ব্যাপকভাবে। কিন্তু ধান উৎপাদনে প্রয়োজনীয় এবং ব্যবহৃত পানি ও মৃত্তিকার ওপর গবেষণা করা হয়নি। কারণ এতদিন গবেষণার পদ্ধতি ছিল অজানা। এখন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার ফলে ঝুঁকির বিষয়টি বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই আরও ব্যাপক গবেষণা চালাতে হবে এ বিষয়ে এবং একই সঙ্গে চাল উৎপাদনকারীর ওপর বাধ্যতামূলক চাপ প্রয়োগ করে সর্বনিম্ন মাত্রার বিপজ্জনক উপাদান বিদ্যমান থাকার বিষয়টি নির্ধারণ করে দিতে হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের চালে বিদ্যমান আর্সেনিকের মাত্রাও বিভিন্ন রকম। তবে ভারত, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশে উৎপাদিত বাসমতি এবং থাইল্যান্ডের জেসমিন ব্রান্ডের চালে রয়েছে অধিক মাত্রার আর্সেনিক।

খাদ্যতালিকা থেকে চাল সম্পূর্ণরূপে বাদ দেয়া উচিত কিনা- তার জবাবে খাদ্য অধিদফতরের টোক্সিকোলজিস্ট রিকারড বিয়েসেলিউস বলেন, সুইডিশদের খাদ্য তালিকায় ভাত বহু পরে এসে যুক্ত হলেও তা নিয়মিত গ্রহণের পর্যায়ে যায়নি। তাদের রয়েছে ভাত ছাড়াও রকমারী খাদ্য তালিকা। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খাদ্য তালিকায় ভাত বা চাল থেকে উৎপাদিত অন্য খাদ্যদ্রব্য অপরিহার্য ঐতিহ্য হিসেবে চলে আসছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

নির্বাচিত সংবাদ