১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঘ পাচারের তথ্য দিলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাঘ পাচারের গোপন তথ্য উদ্ঘাটন বা প্রদানকারীকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেবে সরকার। এছাড়া কুমির ও হাতির জন্য দেয়া হবে ৩০ হাজার টাকা। অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন হারে এ অর্থপুরস্কার দেয়া হবে। তথ্য প্রদানকারীর দেয়া তথ্যে অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব হলে দেয়া হবে সম্মানসূচক পদকও। অপরাধীর তথ্য দিলে গোপন রাখা হবে তথ্য প্রদানকারীর নাম-ঠিকানা। এমন ব্যবস্থা রেখে ‘বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ উদ্ঘাটনে তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কার প্রদান বিধিমালা-২০১৫’ এর খসড়া প্রস্তুত করেছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য খুব শীঘ্রই এটি মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে। বিধিমালাটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলে বিষয়টি কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের স্বার্থে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। তাই বনপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ উদ্ঘাটনে গণসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন। এ কারণে জনসধারণকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও রক্ষার জন্য উৎসাহিত করতে বিধিমালা করা হচ্ছে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর ৫২ ধারার ক্ষমতাবলে বিধিমালাটি করছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। আসামি ও বাঘসহ বনাঞ্চলের অভ্যন্তরের তথ্যের জন্য আর্থিক পুরস্কার দেয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। আর আসামি ও বাঘসহ বনাঞ্চলের বাইরের তথ্যের জন্য দেয়া হবে ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া আসামিবিহীন অপরাধ উদ্ঘাটনের তথ্যের জন্য দেয়া হবে ১০ হাজার টাকা।

একইভাবে আসামি ও কুমির বা হাতিসহ বনাঞ্চলের অভ্যন্তরের তথ্যের জন্য ৩০ হাজার, বাইরের তথ্যের জন্য ১৫ হাজার ও আসামিবিহীন অপরাধ উদ্ঘাটনের তথ্য দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। হরিণের জন্য পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার এবং ৫ হাজার টাকা দেয়া হবে। কচ্ছপ ও সাপের জন্য ১৫ হাজার, ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।

পাখি ও অন্য বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে প্রাণী ও আসামিসহ বনের অভ্যন্তরীণ তথ্যের জন্য ১০ হাজার, বাইরের তথ্যের জন্য ৮ হাজার ও আসামিবিহীন অপরাধ উদ্ঘাটনের তথ্যের জন্য ৪ হাজার টাকা দেয়া হবে।

খসড়া বিধিমালায় বলা হয়, তথ্য অনুসন্ধান চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তা সব বিষয়ের গোপনীয়তা বজায় রাখবে। বাইরে প্রকাশ করবে না, যাতে তথ্য প্রদানকারীকে কোন হুমকির সম্মুখীন হতে না হয়।

তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কার দেয়ার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। প্রধান বন সংরক্ষক এর সভাপতি হবেন। সদস্য সচিব থাকবেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। অন্য সদস্যদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি ও বন অধিদফতরের চারজন কর্মকর্তা থাকবেন।

কোন তথ্য প্রদানকারীর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোন বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হলে ওই তথ্য প্রদানকারীকে পদকের জন্য বিবেচনা করা যাবে। অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পরেও আলামতসহ অপরাধ উদঘাটন বা অপরাধ শনাক্ত সম্ভব হলে সেক্ষেত্রে তথ্য প্রদানকারীকে পদকের জন্য বিবেচনায় আনা যাবে।

অপরাধ সংঘটনকারীকে শনাক্ত করা না গেলেও, তথ্য প্রদানকারীর তথ্যমতে বন্যপ্রাণী বা তার অংশ জব্দ করা সম্ভব হলে আর্থিক ও গুরুত্ব বিবেচনায় তথ্য প্রদানকারীকে পদকের জন্য পর্যালোচনা করে বিবেচনায় আনা যাবে।

প্রাথমিক পর্যালোচনায় যে তথ্যে মেধার অভাব আছে, যে তথ্য সুনির্দিষ্ট নয়, যে তথ্য অবিশ্বাসযোগ্য, যখন কোন তথ্য বেনামে জমা দেয়া হয়, যে তথ্য আগে প্রকাশিত হয়েছে, তথ্য প্রদানকারী নিজেই অপরাধে জড়িত থাকলে অথবা অন্য কোন বৈধকারণে তথ্য প্রদানকারী আর্থিক পুরস্কার নাও পেতে পারেন।