২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিবন্ধন না থাকলেও সিম বন্ধ করছে না অপারেটররা

  • ১৬ ডিসেম্বর থেকে সময়সীমা বেঁধে এসএমএস পাঠানো হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিবন্ধন না থাকলেও এখনই কোন সক্রিয় সিম বন্ধ করতে চায় না মোবাইল অপারেটররা। প্রক্রিয়াটি বড় হওয়ায় গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সুযোগ ও সম্মান দেখিয়ে আপাতত কোন সিম বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটর বাংলাদেশ (এ্যামটব)।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে সংগঠনটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান এ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নুরুল করিব। মোবাইল সিম পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে নিজেদের অবস্থান জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠান ছয় মোবাইল কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভুয়া পরিচয়ে অথবা নিবন্ধন না করে সিম কিনে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি গ্রাহকদের তথ্য যাচাই ও সিম পুনর্নিবন্ধনের এই নির্দেশনা জারি করে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে অপারেটরদের সিম নিবন্ধন তথ্যের সঙ্গে এনআইডি ডাটাবেসের তথ্য মিলিয়ে দেখে বৈধভাবে নিবন্ধিত সিম কার্ড যাচাইয়ের জন্য অপারেটর ও সরকার সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।

নূরুল কবির জানান, অনিবন্ধিত সিম বা রিম কার্ড নিবন্ধনের আওতায় আনতে ১ নবেম্বর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে নিজ নিজ আউটলেট থেকে গ্রাহকদের এই সেবা দেবে মোবাইল অপারেটরগুলো। এদিন থেকেই মোবাইল অপারেটরগুলোর ডাটাবেজে যেসব সিমের বিপরীতে এনআইডির (জাতীয় পরিচয়পত্র) তথ্য নেই ওই সব সিমে এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিবন্ধন বিষয়ক আপডেট জানানো হবে। এসএমএস বাংলায় পাঠানো হবে, যাতে সব স্তরের গ্রাহক নিবন্ধনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। এছাড়া মোবাইল অপারেটরগুলোর ওয়েবসাইটে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়ার তথ্য থাকবে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয়পর্যায়ে মোবাইল অপারেটরগুলোর নিজস্ব ও মনোনীত আউটলেট থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বিনামূল্যে সিম নিবন্ধন করতে পারবেন গ্রাহকরা। একই সঙ্গে সিম পুনর্নিবন্ধনও করা যাবে।

নূরুল কবির আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা করে গ্রাহকদের সিম নিবন্ধনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এসএমএস পাঠানো হবে। এছাড়া ভয়েস মেসেজ পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে সিম নিবন্ধন কোথায়, কিভাবে করতে হবে তা শুনতে পারবেন গ্রাহকরা। এ সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নিতে ব্যর্থ হলে সিম বন্ধ করে দেয়া হবে।

লিখিত বক্তব্যে নূরুল কবির বলেন, এতদিন পর্যন্ত জাতীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে পরিচয় মিলিয়ে দেখার সুযোগ ছিল না। ফলে অপারেটররা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সত্যতা যাচাই করার সুযোগ পায়নি। এর আগে ২০০৮ সালে সিম পুনর্নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তথ্য যাচাইয়ের কোন সুযোগ না থাকায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। সরকারের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের ফলে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে অপারেটরদের সিম রেজিস্ট্রেশনের তথ্যের সঙ্গে এনআইডি ডাটাবেজের তথ্য মিলিয়ে দেখে বৈধভাবে নিবন্ধিত সিম কার্ড যাচাইয়ের জন্য মোবাইল অপারেটর ও সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া মোবাইল ফোন নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ আপডেট জানতে চাইলে নুরুল কবির বলেন, এই সংখ্যা প্রতিদিন পরিবর্তন হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়ার পরই এ তথ্য দেয়া যাবে।

পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে- জানতে চাইলে এ্যামটব মহাসচিব বলেন, এটি সরকার চূড়ান্ত করবে। তবে আমরা নবেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাব। এরপর ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ছয় মাস এ কার্যক্রম চলবে। তখনই বোঝা যাবে কত সময় লাগবে। সেটি সরকার আমাদের চূড়ান্ত করে দেবে। এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি কঠিন কাজ। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা গ্রাহককে সব ধরনের সুযোগ দিতে চাই। তাকে (গ্রাহককে) এসএমএস করা হবে। ফোন করে জানতে পারবেন। সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হবে। টেলিভিশনে সচেতন করা হবে। সব ধাপ সম্পন্ন করে গ্রাহককে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়ে সিম বন্ধ করা হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সহসা নয়। তবে গ্রাহক সিম বন্ধ করার পর যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসেন সেটি আমরা আবার সচল করে দেব।

সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়Ñ এটি দীর্ঘায়িত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে কি-না। জবাবে নুরুল কবির বলেন- না, সেটি নয়। আমরা গ্রহণযোগ্য কম সময়ে কাজটি করতে চাই। সেটি ছয় মাসের মধ্যে বোঝা যাবে। তাছাড়া আমরা নিয়মিতভাবে সরকার, বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটররা একসঙ্গে বসছি। প্রতি মাসে এটি ফলোআপ করা হবে। তবে পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সিম কত হারে কমে যেতে পারে- এমন প্রশ্নে সোজা উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, আমরা কোন সিম বন্ধ হোক সেটি চাই না। তবে নির্দিষ্ট সময় পর অনিবন্ধিত সিম বন্ধ হয়ে গেলেও সেই গ্রাহক তার সঠিক তথ্য দিয়ে আবার সিম চালু করার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।