২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে সোয়া কোটি প্রবীণের স্বাস্থ্যসেবা খুবই নাজুক

দেশে সোয়া কোটি প্রবীণের স্বাস্থ্যসেবা খুবই নাজুক
  • আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস

নিখিল মানখিন ॥ সাতষট্টি বছর বয়সে অসহায় হয়ে পড়েছেন মোঃ মোস্তফা। স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের বয়সও ষাট পেরিয়েছে। এগার বছর হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকা থানাধীন মল্লিকবাড়ী গ্রামের বসতবাড়ি ছেড়েছেন। ঋণে জর্জরিত হয়ে বসতভিটা বিক্রি করতে বাধ্য হন। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে বিয়ে করে পৃথক হয়ে গেছেন। বাঁচার তাগিদে রাজধানীতে পাড়ি জমান মোস্তফা ও সুফিয়া দম্পতি। বর্তমানে চা দোকান সাজিয়েছেন রাজধানীর মগবাজার পেয়ারাবাগ রেলগেটের পাশে। মাঝে মধ্যে মৌসুমী ফল বিক্রি করেন। আত্মীয়স্বজনরা তাঁদের খোঁজখবর রাখেন না। অসুস্থ হলে বিপাকে পড়েন এই প্রবীণ দম্পতি। আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা। মোস্তফা-সুফিয়া দম্পতির মতো জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বেশি মাত্রায় স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়েন দেশের অনেক নারী-পুরুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট্ট দেশের প্রায় সোয়া কোটি প্রবীণ নর-নারীর স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি বড়ই নাজুক অবস্থা। গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হওয়ায় সাধারণ চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না। রাজধানীতে সরকারের আর্থিক সাহায্যপুষ্ট প্রবীণ হাসপাতালেরও বেহাল অবস্থা। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ দিবস। তবে সারাদেশে সরকারের বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩তে ৬০ বছর এবং তদুর্ধ বয়সীদের প্রবীণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। ১৯৭৪ সালে এ দেশের ষাটোর্ধ প্রবীণদের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ ৫৬ হাজার। এ সংখ্যা বেড়ে ১৯৮১ সালের লোক গণনায় দাঁড়ায় ৪৯ লাখ তিন হাজার। ১৯৯১ সালের লোক গণনায় ৬০ লাখ ৪৫ হাজারে পৌঁছায়। এই সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ ছিল। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি, যা মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ এবং বর্তমানে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রবীণদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে ২০২৫ সালে হবে ১৭ দশমিক ৬২ মিলিয়ন (মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ) এবং ২০৫০ সালে ৪৩ দশমিক শূন্য ২ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ হবে বলে মনে করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, কোন অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ থেকে ১২ ভাগ প্রবীণ হলে ওই জনসংখ্যাকে বার্ধক্য জনসংখ্যা ধরা হয়। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে বার্ধক্য জনসংখ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ বলছে, দেশে ষাটোর্ধ প্রবীণদের সংখ্যা রয়েছে এক কোটি ত্রিশ লাখ।

চলতি বছরের ১৪ জুলাই প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে এখন ৭০ দশমিক ৪ বছর। পাঁচ বছর আগেও এটা ছিল ৬৭ বছর। পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি দীর্ঘায়ু। পুরুষরা গড়ে ৬৮ বছর ৮ মাস বাঁচে, নারীরা বাঁচে ৭১ বছর ২ মাস। গড় আয়ুর দিক দিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এসভিআরএস রিপোর্ট ২০১৩)’ শিরোনামে উক্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ১১ শতাংশ। ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৩৯ দশমিক ৯৩ বছর। ১৯৮০ সালে এটা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫ দশমিক ২৪ বছর। ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় আয়ু ছিল ৬০ বছর।

বয়স্ক নাগরিকদের রোগের সংখ্যাও বাড়তে থাকে ॥ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রবীণদের স্বাস্থ্য সমস্যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বিশেষায়িত বিভাগ। কিছু কিছু রোগ আছে যা শুধু বয়স্কদেরই হয়। তাই ওষুধ ও খাবার দুটির ক্ষেত্রেই বয়স্কদের সতর্ক থাকতে হবে। গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রবীণদের নির্ভর করতে হয় সাধারণ চিকিৎসার ওপর। এতে বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি নিশ্চিত হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্ক ও অন্য বয়সী রোগীর রোগ ও রোগের চিকিৎসার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। বয়স হলে এমন অনেক রোগ দেখা যায় যার সুনির্দিষ্ট উপসর্গ থাকে না বা বয়স্করা সেগুলো ঠিকমতো অনুভব করেন না।

বয়স্কদের রোগ ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডিন অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন, চুল পেকে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়া, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, সঙ্গে পেশী দুর্বল, হাড়ের ক্ষয় হয়, যকৃৎ এবং বৃক্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকা-বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রকম নানা সমস্যা দেখা দেয়। শারীরিক পরিবর্তনের কারণে রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়াসহ কিছু কিছু রোগ প্রকৃতিগতভাবে বয়স্কদেরই হয়ে থাকে। এর প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি হতে পারে। প্রবীণদের মস্তিষ্ক ছোট হয়ে আসে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ব্রেন এট্রফি’। এতে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কেউ কেউ আলঝেইমার বা ডিমেনসিয়ায় আক্রান্ত হন। সরকারী হাসপাতালে তাদের জন্য আলাদা বিছানা বরাদ্দ থাকা উচিত। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ তাদের বিনামূল্যে বা অল্প দামে দেয়া উচিত। এছাড়া প্রবীণদের চিকিৎসার জন্য বড় পরিবারের সদস্যদের বা ছেলেমেয়েদের মনে রাখা উচিত, তারা যেন তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ।

সমাজসেবা অধিদফতর বিভাগীয় শহরগুলোতে শিশু সদন ও শিশু পরিবার সংলগ্ন ‘শান্তি নিবাস’ প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম শুরু করেছে। সেখানে প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য মনোবিজ্ঞানী নিয়োগেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশু সদন ও শিশু পরিবারের নিবাসী শিশুদের সঙ্গে প্রবীণদের সংযুক্ত করে স্নেহ, মমতা এবং সেবাযতেœর মাধ্যমে পারিবারিক চেতনায় শিশু-কিশোরদের গড়ে তোলা। দেশে সরকারী হাসপাতালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া কোথাও আলাদা কোন জেরিয়াট্রিক ওয়ার্ড চালু নেই। এমনকি দু’-একজন ছাড়া জেরিয়াট্রিক বিশেষায়িত ডাক্তারও নেই। সরকার প্রবীণদের কল্যাণে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচী চালু করেছে। প্রতিমাসে একজন দুস্থ প্রবীণকে ৩শ’ টাকা করে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে সাড়ে ২৫ লাখ প্রবীণ এ ভাতা পেয়ে থাকেন। যা মোট প্রবীণ জনগোষ্ঠীর এক-পঞ্চমাংশ।

বেহাল প্রবীণ হাসপাতাল ॥ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রবীণ হাসপাতালটিরও বেহাল দশা। বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান দ্বারা এটি পরিচালিত হয়। ‘প্রচারণার অভাবে বেশিরভাগ মানুষ হাসপাতালটি সম্পর্কে জানেনই না’ উল্লেখ করে প্রবীণ হিতৈষী সংঘের চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালটির নামে মনে হয় এটি শুধু প্রবীণদের জন্য, মানুষও মনে করে। কিন্তু এটা আসলে একটা জেনারেল হাসপাতাল। এই হাসপাতালের সঙ্গে বৃদ্ধাশ্রমের সংযুক্তি রয়েছে। তাই না জানার কারণে মানুষকে হাসপাতালটির ব্যাপারে আগ্রহী করানো কঠিন। হাসপাতালটি সরকার থেকে প্রতিবছর সাড়ে তিন কোটি টাকা পেয়ে থাকে। এ হাসপাতালে বর্তমানে মেডিসিন, জেরিয়েট্রিক মেডিসিন, কার্ডিওলজি, ইএনটি, সার্জারি, ফিজিওথেরাপি, অর্থোপেডিকস, ডায়াবেটিক, গাইনি, চর্ম, ডেন্টাল ও আয়ুর্বেদিক বিভাগে কনসালটেন্টসহ মেডিক্যাল অফিসাররা নিয়মিত সেবা দিয়ে থাকেন। বহির্বিভাগে এসব শাখায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রবীণ রোগীদের খরচ হয় মাত্র ১৫ টাকা ও অন্যান্য বয়সীদের ক্ষেত্রে তা ৪০ টাকা। এছাড়া গরিব রোগীদের জন্য হাসপাতালে বিনামূল্যে সেবা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সরেজমিন ঘুরে হাসপাতালের নাজুক অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। রোগী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালটিতে বৃদ্ধদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা নেই। এখানকার কর্মীদের কাছ থেকে সার্ভিস পেতেও অনেক সমস্যা হয়। ওয়ার্ডবয় ও আয়ার স্বল্পতা নিয়ে অভিযোগ করেন এখানকার একজন নার্স। তিনি বলেন, কেবিন ও ওয়ার্ডসহ প্রতি শিফটে মাত্র একজন করে তিন শিফটে তিনজন ডিউটি করেন। তারা এক ওয়ার্ডে গেলে প্রয়োজনে অন্য ওয়ার্ডের রোগীর জন্য পাওয়া যায় না। ন্যূনতম ২ জন করে স্টাফ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। পর্যাপ্ত ফান্ডিং না থাকায় হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, এখানে কিডনি রোগীর জন্য ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া এক্স-রে পরীক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিয়মানুযায়ী ৫০ বেডের হাসপাতালে ২১ জন ডাক্তার এবং ১৫ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২৪ জন ডাক্তার, ৫ জন নার্সসহ মোট ৯৮ জন স্টাফ কর্মরত রয়েছেন।

এদিকে, ঢাকা শহরের গরিব পরিবারের মধ্যে হেল্প এইজ ইন্টারন্যাশনাল’র প্রবীণদের নিয়ে এক গবেষণায় দেখা যায়, ৮৮ শতাংশ ঢাকার প্রবীণরা বিভিন্নভাবে তথা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। প্রবীণ ফেডারেশনের সভাপতি সাহাবুদ্দীন সরদার বলেন, প্রবীণদের জাতীয় নীতিমালা অনুসারে আইন প্রণয়ন এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরী। তিনি বলেন, রাস্তায় বা ময়লার স্তূপে একটি পরিচয়হীন শিশু পড়ে থাকতে দেখলে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ তাকে বুকে আগলে রেখে বড় করার চেষ্টা করে। অথচ একজন প্রবীণ যদি রাস্তায় পড়ে থাকে তবে তার দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না। এমনকি গণমাধ্যমেও প্রবীণদের কোন খবর প্রকাশ পায় না। সাহাবুদ্দীন সরদার বলেন, দেশে শিশুনীতি আছে, স্বাস্থ্যনীতি আছে, নারীনীতি এমনকি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য নীতিমালা আছে; কিন্তু প্রবীণদের জন্য কোন নীতিমালা নেই। তারা বলেন, উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেও প্রবীণদের বিশেষ মর্যদা প্রদান করা হয়েছে। সকল গণপরিবহন, হাসপাতাল তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ আমাদের দেশে এ ধরনের কোন ব্যবস্থাই নেই।

নির্বাচিত সংবাদ