১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল সাফার

  • ইউরোপে যাওয়ার পথে মিসরীয় সৈন্যের গুলিতে নিহত সিরীয় শিশু

গভীর শোকে কাতর এক সিরীয় পিতা গত মাসে মিসর থেকে পালানোর চেষ্টার সময় তাঁর ৮ বছর বয়সী কন্যার মৃত্যুর করুণ কাহিনী বর্ণনা করেছেন। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে তিনি বলেছেন, পাচারকারীরা তার পরিবারকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার পথে তারা ধরা পড়ে যান। সৈন্যরা মেয়েটিকে গুলি করে, তারপর মরণাপন্ন শিশুটিকে চিকিৎসায় সাহায্যের জন্য তার কাতর মিনতি অগ্রাহ্য করে। এ্যামনেস্টির আগস্ট মাসের রিপোর্টে বলা হয়, সিরিয়ার প্রায় ৩ লাখ শরণার্থী বর্তমানে মিসরে বসবাস করছে এবং সেখানে তারা বারবার ‘বৈষম্যমূলক আচরণ এবং মানবাধিকার লংঘনের শিকার হয়ে থাকে।’ মিসরে তাদের গণমাধ্যম এবং সরকারী কর্মকর্তাদের গালিগালাজ এবং হুমকি থেকে শুরু করে ইচ্ছামতো গ্রেফতার ও আটক এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সিরিয়া ও ওই অঞ্চলের সন্নিহিত দেশগুলোতে বলপূর্বক নির্বাসনের শিকার হতে হচ্ছে। খবর ইয়াহু নিউজের।

জাতিসংঘ গত বছর জানায় যে, সাহায্য হ্রাস সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে আশ্রয় নেয়া ১০ লক্ষাধিক বাস্তচ্যুত সিরীয়দের উপর ‘সর্বনাশা প্রভাব’ ফেলেছে। এর ফলে অনেকেই পরিণতির কথা না ভেবে ইউরোপে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেয়েটি তার পিতামাতা এবং ছয় ভাইবোনের সঙ্গে গত তিন বছর ধরে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় বাস করছিল। তার অজ্ঞাত পরিচয় পিতা এ্যামনেস্টিকে জানায়, শরণার্থী হিসেবে তার ‘দুঃসহ’ জীবন তাকে চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে। ‘প্রায় কোন চাকরি ছাড়া এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগের মধ্যে আমি আর মিসরে থাকতে পারছিলাম না। তাই আমি আমাকে এবং আমার পরিবারকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাচারকারীদের অর্থ দেই।’ ভূমধ্যসাগরের কাছে উপকূলীয় অবকাশ যাপনের শহর বালটিমে পাচারকারীদের সঙ্গে পরিবারটির দেখা হয়। সেখানে তারা সিরিয়া, সুদান ও ইরিত্রিয়ার প্রায় ১শ’ অভিবাসন প্রত্যাশীর একটি দলের সঙ্গে যোগ দেয়। তবে সুয়েজ খালের কাছে একটি সম্পর্কহীন ঘটনার জন্য সেখানে অস্বাভাবিক কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। ওই পিতা জানান, ‘ওইদিন একটি পোকার পক্ষেও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়া সম্ভব ছিল না।’ পাচারকারীরা একপর্যায়ে রাত দু’টার দিকে সাগর তীরের কাছ থেকে দৃশ্যত দলটিকে ফেলে রেখে চলে গেলে তারা সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে যান। পরিবারটি মাটিতে মুখ লুকালে অন্য শরণার্থীরা পালানোর চেষ্টা করে। সে সময় সৈন্যদের গুলি শুরু হয়ে যায়। ‘এক সময় গুলিবর্ষণ থামলে আমি আমার ৮ বছরের মেয়ে সাফা’র আর্তচিৎকার শুনি ‘আমার বুক গেল, আমার বুক গেল।’

‘আমি বুঝতে পারিনি কি ঘটছে। আমি তার পরনের জ্যাকেটটা খুলে ফেলি। দেখলাম তার পেটে গুলি করা হয়েছে এবং বুলেট ডান দিক দিয়ে ঢুকে বিপরীত দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। আমি আর্তনাদ করে মেয়েটির চিকিৎসায় একটি এ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য সৈন্যদের কাছে অনুময়-বিনয় করলাম।’ পিতা বলেন, সৈন্যরা চিকিৎসা সাহায্যের আবেদন শুধু প্রত্যাখ্যানই করল না বরং একপর্যায়ে তার স্ত্রী, মেয়েটির মাকে বন্দুক উচিয়ে হুমকিও দিল।

নির্বাচিত সংবাদ