১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় দল নিয়ে ভাবছে না অস্ট্রেলিয়া

জাতীয় দল নিয়ে ভাবছে না অস্ট্রেলিয়া
  • বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে;###;রাজ্য দলে ফিরে গেছেন স্মিথরা, ম্যাটাডোর কাপে মনোযোগী অসি ক্রিকেটাররা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ বোধ হয় বাতিলই হয়ে যাচ্ছে। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) সেই ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের রাজ্য দলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিএ। আর তাতেই বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সফরে আসার কোন সম্ভাবনাই নেই।

এখন তো এমন অবস্থা হয়েছে, বাংলাদেশ সফর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটারদের ভেতর থেকে ভাবনাই দূর হয়ে গেছে। সব ভাবনা এখন ম্যাটাডোর কাপ নিয়ে। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টে খেলার জন্য এরইমধ্যে রাজ্য দলগুলোর অনুশীলনে যোগ দেয়াও শুরু করে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। সিএ’র এমন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সফরে যে আপাতত আসছে না অস্ট্রেলিয়া, তা বোঝাই যাচ্ছে। অবশ্য বুধবার বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত কোন সিদ্ধান্তই সিএ থেকে আসেনি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘোষিত টেস্ট স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের রাজ্য দলে ফিরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আসন্ন স্থানীয় ‘ম্যাটাডোর কাপ’ এ অংশ নেয়ার জন্য খেলোয়াড়দের এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমন খবর শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা বেড়ে গেছে।

হতাশা ঘিরে ধরবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদেরও। তারা যে মানষিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য সব প্রস্তুতিই শেষ করে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। বিসিবির কর্মকর্তারাও হতাশ। তবে এখনও আশায় আছে বিসিবি।

গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি জানান, ‘তারা (অস্ট্রেলিয়া) আসবে না- এমন কিছু তো এখনও বলেনি। আমরা অপেক্ষা করছি। আমাদের ওরা বলেছে দেশে ফিরে যাওয়ার পর দুই-এক দিন সময় লাগতে পারে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া দল রওনা দেয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তাদের সফর স্থগিত করা, এটাতেই তো আমি অবাক হয়েছি। ওরা বার বার যেটা তুলে ধরছে সিকিউরিটির জন্য আসতে পারছে না- এই ভিত্তিটাই তো আমি মানি না। একটা তথ্যের উপর ভিত্তি করে তারা সিদ্ধান্ত নেয় এখানে সিকিউরিটি টিম পাঠাবে, সেটা আমরা জানতে পেরেছি। সেটাও বিশ্বস্ত কোন উৎস থেকে আসেনি। তাদের কাছে তথ্য হলো, অস্ট্রেলিয়ানরা (যারা বাংলাদেশে থাকেন) প্রতিবছরের অক্টোবরে এখানে ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় কোন হোটেলে অনুষ্ঠান করে, অফিসিয়াল কোন কিছু না। সেখানে সমস্যা হতে পারে। ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশে কোন কারণে সমস্যা হতে পারে- এটা আমি বিশ্বাস করি না। এমনকি বিএনপির তরফ থেকেও প্রেস রিলিজ দেয়া হয়েছে। এমন ঘটনা বাংলাদেশে আমরা চিন্তাই করতে পারি না। কিন্তু এখানে ক্রিকেট ইস্যু বলেই সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কখনও অপ্রীতিকর কোন কিছু করতে দেবে না।’

বাংলাদেশে গত দশ বছরে এমন কিছু ঘটেনি যার কারণে ক্রিকেট সিরিজ বাতিল হতে পারে উল্লেখ করে নাজমুল হাসান পাপন আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা হুমকি সব দেশেই আছে। আমেরিকাতে নাই? ওখানে তো আরও বেশি। ইউরোপের দেশগুলোতে নাই? আছে। দেখতে হবে কোন কোন দেশগুলো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কি এ্যাকশন নিচ্ছে। কোন সমস্যা হলে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কতটা প্রস্তুত। শেষ দশ বছরে এমন কোন সন্ত্রাসী কর্মকা- হতে দেখিনি, যাতে ক্রিকেটের সফর বাতিল হতে পারে। ক্রিকেট নিয়ে নিরাপত্তার দিক থেকে অনেক দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। নিরাপত্তা সতর্কতা সেটা ভ্রমণকারীদের জন্য। এটা সব দেশেই দেয়া হয়। তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তাদের সিকিউরিটি প্ল্যান দেয়া হয়েছে। গত রবিবার দুপুর থেকে পরদিন, এই দেড় দিনের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিকিউরিটি যারা দেখেন পুলিশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিজিএফআই, এনএসআই, র‌্যাব এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা পরামর্শক, সবার সঙ্গে দেখা করা এবং প্রত্যেকের নিশ্চয়তা পেয়েছে তাদের পর্যবেক্ষক দল। সবাই বলেছেন আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি এখানে কোন ধরনের সমস্যা হতে দেয়া হবে না, যতই হুমকি থাক। সাধারণত যে ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হয় তার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তা তাদের দিতে চেয়েছি। চার স্তরের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছি। এরপরও যদি তারা না আসে, তবে সেটা নিরাপত্তাজনিত কারণে নয়।’ ঢাকার গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ইতালির নাগরিককে হত্যার সঙ্গে সিরিজ বাতিল হওয়ার আশঙ্কার কোন সম্পৃক্ততা থাকতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যার সময় এক ইতালি প্রবাসী আততায়ীর গুলিতে মারা যাওয়ার পরে এটা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটা আওয়াজ হচ্ছে। এমন ঘটনা আমাদের দেশে বিরল। বিদেশীদের উপরে সাধারণত এখানে হামলা হয় না। এটা দেখছেন গোয়েন্দারা। এটার সঙ্গে পুরোপুরি কোন প্রটেক্টটেড টিমের তুলনা হয় না। শুধু বিসিবি না, সরকার যে প্রটেকশন দিচ্ছে তারপর অস্ট্রেলিয়ার ভয় পাওয়ার কারণ আমি দেখছি না। সিকিউরিটি এজেন্সি শুধু না, এখানে মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে সময় দিয়েছে তাতে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে কোন ক্রটি থাকবে না।’

নতুন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বে দুটি টেস্ট খেলতে গত সোমবার অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু দলের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ সফরে আসার বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার কোন তথ্য এখনও দেয়নি কর্তৃপক্ষ। সফরে আসার দুদিন আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসছে না অসিরা। এ প্রসঙ্গে সাদারল্যান্ড জানান, ‘পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের পরামর্শে আমরা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাংলাদেশ সফর সাময়িক স্থগিত করেছি। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কাদেশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখান থেকে একটি বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তা দল বাংলাদেশে যাবে। তাদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে সংশোধিত তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।’

পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টায় অস্ট্রেলীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের প্রধান শন ক্যারলসহ দু’জন ঢাকায় পৌঁছান। দলটি ২৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করে। এ সময় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশে খেলতে এলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু উত্তরে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক খান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি, সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম, সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়াসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারল, বাংলাদেশে নিযুক্ত সে দেশের হাইকমিশনার এইচইমি গ্রেগ উইলককসহ মোট ৬ জন। শন ক্যারল চলেও গেছেন মঙ্গলবার। কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত এখনও জানানো হয়নি। উল্টো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের রাজ্য দলের অনুশীলনে যোগ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। যাতে করে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর বাতিল হওয়ার ইঙ্গিতই মিলছে।