২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই ইংলিশ পরাশক্তির লজ্জার রাত

  • আর্সেনাল ও চেলসির হার, বেয়ার্নের বিশাল জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলে ইংলিশ পরাশক্তিরা লজ্জায় ডুবেছে। মঙ্গলবার রাতে দুই পরাশক্তি চেলসি ও আর্সেনাল নিজ নিজ ম্যাচে হেরেছে। ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে পর্তুগালের ক্লাব এফসি পোর্তোর কাছে ২-১ গোলে হেরেছে চেলসি। আর ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে গ্রীসের অলিম্পিয়াকোসের কাছে নিজেদের মাঠে ৩-২ গোলে হেরেছে আর্সেনাল।

ইংলিশ দলগুলো লজ্জায় ডুবলেও বিশাল জয় পেয়েছে জার্মান পরাশক্তি বেয়ার্ন মিউনিখ। বাভারিয়ানরা ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার ডায়নামো জাগরেবকে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের বাজে অবস্থা চ্যাম্পিয়ন্স লীগেও টেনে এনছে চেলসি। এস্টাডিও ডো ড্রাগাওয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পোর্তোর আন্দ্রে আন্দের ও মাইকন একটি করে গোল করেন। চেলসির একমাত্র গোলদাতা ব্রাজিলের উইলিয়ান। মাক্কাবি তেল আবিবকে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হারিয়ে আসা চেলসি পোর্তোর বিপক্ষে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। কিন্তু গোলরক্ষক ক্যাসিয়াসকে পরাস্ত করতে পারেননি মরিনহোর শিষ্যরা।

২০০৪ সালে মরিনহোর অধীনেই পোর্তো দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা জিতেছিল। পোর্তোর মাঠে আন্দ্রে আদর প্রমার্ধের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। যদিও বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে উইলিয়ানের দুর্দান্ত ফ্রিকে সমতা ফেরায় চেলসি। এরপর মাইকনের ৫২ মিনিটের হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগীজ ক্লাবটি। গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেলসির কাছে হেরে আসা তেল আবিব নিজেদের মাঠেও ২-০ গোলে কিয়েভের কাছে হেরেছে। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে শীর্ষে উঠে এসেছে পোর্তো। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে ডায়নামো কিয়েভ। আর ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন চেলসি তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে। পরশু রাতে সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে গ্রীক চ্যাম্পিয়ন অলিম্পিয়াকোস। লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে তারা আর্সেনালকে ৩-২ গোলে হারায়। এর ফলে ‘এফ’ গ্রুপে দুটি ম্যাচেই হেরে টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে গানার্সরা। এই জয়ে গ্রীকসরা ইংল্যান্ডে টানা ১২ ম্যাচ পরাজয়ের খড়াও কাটিয়েছে। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে ফিলিপ পারডোর গোলে অলিম্পিয়াকোস এগিয়ে যাওয়ার দুই মিনিট পর থিও ওয়ালকট আর্সেনালকে সমতায় ফেরান। কিন্তু ৪০ মিনিটে কোসটাসা ফোরটোনিসের কর্ণার থেকে গোলরক্ষক ডেভিড অসপিনার মারাত্মক ভুলে বল জালে জড়ালে আত্মঘাতী গোলের লজ্জায় ডুবে আর্সেন ওয়েঙ্গারের শিষ্যরা। বিরতির পরে ৬৫ মিনিটে এ্যালেক্সিজ সানচেজ স্বাগতিদের সমতায় ফেরালেও পরের মিনিটেই আইসল্যান্ডের স্ট্রাইকার আলফ্রেড ফিনবোগাসন জয়সূচক গোল করে স্বাগতিক সমর্থকদের হতবাক করে দেন। ম্যাচের বাকি সময়ে সমতায় ফেরার সুযোগ কয়েকবার পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি আর্সেনাল। শেষ পাঁচ মিনিটেই দারুণ দুটি সুযোগ পায় তারা, কিন্তু প্রথমবার চেম্বাররলেইন, দ্বিতীয়বার ওয়ালকট সেই সুযোগ নষ্ট করলে ইউরোপ সেরার মঞ্চে টানা দ্বিতীয় হারের হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় লন্ডনের ক্লাবটিকে। আর ১২ বারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে অলিম্পিয়াকোস।