২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পলাতক জেএমবি সদস্যকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতের সন্ত্রাস দমন এজেন্সি এনআইএ বলছে, তারা তরিকুল ইসলাম নামে জামিয়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবির এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়ে এক বিস্ফোরণে তরিকুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাকে ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে গ্রেফতার করার পর বুধবার কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এনআইএ বলছে, ঝাড়খণ্ড পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখার সঙ্গে এক যৌথ অভিযান চালিয়ে তারা রাঁচি আর রামগড় জেলার সীমান্ত থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে তরিকুল ইসলামকে।

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে গত বছর ২ অক্টোবর বিস্ফোরণের পরেই আত্মগোপন করেছিলেন তরিকুল। রায়হান শেখ নাম নিয়ে তিনি ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার একটি গ্রামে থাকছিলেন। সেখানকারই এক স্থানীয় নারীকে তিনি বিয়েও করেছিলেন।

এনআইএ’র কয়েকটি সূত্র বলছে, কিছুদিন আগে শেখ সালাউদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর খান নামে দুজন গ্রেফতার হন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই সাহেবগঞ্জের একটি মাদ্রাসার কথা জানা যায়।

আবার জেএমবি’র গ্রেফতার হওয়া আরেক সদস্য সাজিদ শেখও জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাহেবগঞ্জের ওই মাদ্রাসার সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথা জানিয়েছিলেন।

এই সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়েই এক বছর ধরে পালিয়ে থাকা তরিকুল ইসলাম গ্রেফতার হন।

এনআইএ এই মামলাটিতে যে অতিরিক্ত চার্জশীট পেশ করেছে গত জুলাই মাসে, সেখানে তরিকুল ইসলামের নাম ২৭ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছিল আর তার সম্বন্ধে খবরাখবর দিতে পারলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

আনুষ্ঠানিকভাবে এনআইএ জানিয়েছে যে সাদিক, সুমন আর রায়হান শেখ এই তিনটি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন তরিকুল ইসলাম। তার আসল বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানা এলাকায়। তিনি ২০০৮-৯ সাল থেকেই বেআইনীভাবে ভারতে যাতায়াত করতেন এবং তারপরে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্বের জাল নথিও যোগাড় করেন।

এনআইএ বলছে, খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকেই এই তরিকুল ইসলামই প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। সাহেবগঞ্জের মাদ্রাসাতেই চলত মূল প্রশিক্ষণ।