২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

'বাংলাদেশে প্রবীণদের মেধা ও যোগ্যতা ব্যবহারের সুযোগ কম'

'বাংলাদেশে প্রবীণদের মেধা ও যোগ্যতা ব্যবহারের সুযোগ কম'

অনলাইন ডেস্ক॥ প্রবীণদের অধিকার রক্ষা ও পুনর্বাসনের দাবিতে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী আজ উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। নগর পরিবেশে প্রবীণদের জন্য সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এবছর দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ বলছে দেশে ষাটোর্ধ প্রবীণদের সংখ্যা রয়েছে এক কোটি ত্রিশ লাখ এবং ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা তিন গুন ছাড়িয়ে যাবে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ও প্রবীণদের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে সম্মানের পাশাপাশি যানবাহনে যাতায়াতে, স্বাস্থ্যসেবায়, ব্যাংকের লেনদেন কার্যক্রমে বিশেষভাবে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে বয়স্কদের জন্য সামাজিক প্রেক্ষাপটটি কেমন? বাংলাদেশের সরকারের তরফ থেকে ৩০ লাখ দু:স্থ প্রবীণ প্রতি মাসে ৪০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পান।

তবে সমাজের একটি বড় অংশই বৃদ্ধ বয়সে থাকছেন একেবারেই সহায়হীন অবস্থায়।

তবে অনেক প্রবীণ মনে করছেন, বয়স্কদের অসহায়ত্ব কিংবা দুর্বলতাকেই বড় করে না দেখে তাদের যোগ্যতা ও মেধাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেদিকে নজর দেয়া দরকার। সে ধরনের উদ্যোগ বা সুযোগ খুবই কম।

ঊনসত্তর বছর বয়সী সাবেক একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান তার চাকুরী থেকে অবসরের ১০ বছর পরে এখনও নিজেকে এখনও কাজের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন।

বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মোহাম্মদ শাহজাহান, বলছেন, নিজের মনোবলের কারণে তিনি কর্মক্ষম রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তারই আশেপাশে তার বয়সী অনেকেই রয়েছেন যারা নিজেদের বঞ্চিত এবং অবহেলিত মনে করছেন। তাদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারলে প্রবীণদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

মিস্টার শাহজাহান বলছিলেন, একেক শ্রেণীর প্রবীণদের সংকট একেক রকম। অনেকে আর্থিক অনটনে ভুগছেন। আবার অনেকে নি:সঙ্গতায়। কারও কারও ক্ষেত্রে হয়তো চলাফেরায় সাহায্য করারও কেউ নেই।

বাংলাদেশে বাবা-মায়েদের দেখভালের জন্য সরকার আইন করেছে।

কিন্তু অনেক প্রবীণ নি:সঙ্গ থাকেন, সন্তানরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই শুধু আইন করলেই হবে না, তাদের পাশে দাঁড়াতে ছোটবেলা থেকেই সেই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন মি শাহজাহান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা