২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাতা সহযোগিতার লক্ষ্যে নবেম্বরে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক

  • সাতটি সেশনে ৭ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ অবশেষে বসছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক। চার বছর ধরে ঝুলে থাকার পর বার বার তারিখ পরিবর্তন হলেও চূড়ান্ত করা হয়েছে এ বৈঠকের দিনক্ষণ। আগামী ১৫ ও ১৬ নবেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিডিএফের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে কর্মরত উন্নয়নসহযোগী (দাতা) দেশ ও সংস্থাগুলোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ দুই দিনে সাতটি সেশনে ৭ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় দাতাদের সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন হবে বলে আশা করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

ইআরডি সূত্র জানায়, বৈঠকের প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পর পর তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হচ্ছে, মাইক্রো ইকনোমিক ম্যানেজমেন্ট : এ জার্নি ফর্ম লোয়ার টু হায়ার মিডল ইনকাম কান্ট্রি থ্রোড এন ইনক্লোসিভ গ্রোথ স্ট্রাটেজি ইনসিওরিং এসডিজি শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। সোশাল প্রটেকশন : লিভিং নো অন বিহাইন্ড শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। হেলথ এ্যান্ড কোয়ালিটি এডুকেশন : অফারিং এ সিকিউর ফিউচার ফর অল শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্ট্রেংদেনিং দ্য ইকনোমিক ফাউন্ডেশন : স্ট্রাটেজিস ফর ডেভেলপমেন্ট অব ইনফ্রাসটাকচার শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবে পরিকল্পনা কমিশনর ভৌত অবকাঠামো বিভাগ। এগ্রিকালচার, ফুড সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করবেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী অথবা অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। গবর্ন্যান্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট: স্ট্রেংদেনিং পার্টনারশিপ ফর ইফেকটিভ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। মেইনস্টিরিমিং জেন্ডার ইন ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অথবা মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। শেষদিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী বিডিএফের সমাপ্তি ঘটবে।

সূত্র জানায়, এ অক্টোবর মাসে বিডিএফ অনুষ্ঠানের জন্য এর আগে তাগিদ দিয়েছিল দাতারা। এ নিয়ে প্রস্তুতিও নেয়া শুরু করেছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। অক্টোবরে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। তার আগে কয়েকবার প্রস্তুতি নিয়েও নানা কারণে পিছিয়ে যায় এ বৈঠক। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে এ বৈঠকটি জরুরী। বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠকে দাতা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। ফলে সেখানে উভয় পক্ষের আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি সমন্বিত সহায়তার পথ প্রশস্ত হবে। গত কয়েক বছর ধরে এ বৈঠক না হওয়ায় এ ধরনের সমন্বিত সহায়তা থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ।

ইআরডির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, এতদিন ধরে বিডিএফ না হওয়ায় সমন্বিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গত কয়েক বছরে একেবারেই যে দাতাদের সমন্বিত সহায়তা থেকে বাদ পড়েছিল সেটি বলা যাবে না। কেননা বিডিএফ না হলেও নিয়মিতভাবে ইআরডি লোকাল কন্সালটেটিভ গ্রুপের (এলসিজি) বৈঠকের মাধ্যমে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সফলতাও এসেছে।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ দাতাদের কাছ থেকে সম্মতি পাওয়ার পর গত বছরের নবেম্বর অথবা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিডিএফ বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। তবে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যদাতা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ যাতে নিশ্চিত হয় সেজন্য তখন দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হতে হতে একসময় জাতীয় নির্বাচনের কারণে এ বৈঠক পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে যায়। প্রতিবছর দাতাদের সঙ্গে বিডিএফ বৈঠকের কথা থাকলেও গত চার বছর সেটি হয়নি। এ বছর বিডিএফ বৈঠকের বিষয়ে দাতাদের জানানো হয়েছিল। ইআরডির দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, পলিসি গত নানা বিষয় এবং বৈদেশিক অর্থছাড় বাড়ানোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিডিএফ বৈঠক হওয়া জরুরী। এ বিবেচনায় গত বছর ১৪ জুন অনুষ্ঠিত লোকাল কন্সালটেটিভ গ্রুপের (এলসিজি) বৈঠকে দাতাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিডিএফ বৈঠকের প্রস্তাব করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর দাতারা একমত হয়ে সম্মতি দিয়েছিল। তারা বলেছিল তাদের কেন্দ্রীয় অফিসের সঙ্গে কথা বলে কবে এ বৈঠক অনুষ্ঠান করা যায় সে বিষয়ে ইআরডিকে শীঘ্রই জাবাবে। কিন্তু তারপর আর জানায়নি।

সর্বশেষ ২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ বৈঠক। সেখানে সাতটি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। এর জন্য সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের ৭ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ মূল্যায়ন বৈঠক। সূত্র জানায়, ২০০২ সালে প্যারিসে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এখন থেকে প্যারিসে নয় উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। সে হিসাবে ২০০৩ এবং ২০০৪ সালে ঢাকাতেই বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর বৈঠক হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সময়ে এ ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ওই সরকারের জনভিত্তি না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীরা বিডিএফ বৈঠকে বসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। এর পর দীর্ঘ ৫ বছর পর ২০১০ সালে এসে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক।