১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিস্তায় বিলীন ডাউয়াবাড়ি স্কুল ॥ পড়াশোনা অনিশ্চিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ১ অক্টোবর ॥ চোখের সামনে মুহূর্তে তিস্তার বিলীন হয়ে গেল ডাউয়াবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। চরের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে গেল। গ্রামের মানুষের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, বসতভিটা, কবরস্থান, মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ নদীগর্ভে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি গ্রামে তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ডাউয়াবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। নদীপাড় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এসে পড়েছে ডাউয়াবাড়ি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। যে হারে ভাঙছে দুই-চার দিনের মধ্যে রাক্ষসী তিস্তা এই স্কুলটিকেও গিলে খাবে। এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সাইয়াকুল ইসলাম। তীব্র নদীভাঙ্গন ঠেকাতে সরকারীভাবে এখনও কোন জোরালো ভূমিকা গ্রহণ করা হয়নি। ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বাবলা জানান, নদীভাঙ্গন ঠেকাতে সরকারীভাবে কোন কার্যকর ভূমিকা এখনও নেয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ রিলিফ চায় না। তারা তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি রক্ষায় বাঁধ চায়। এই চরের উত্তর ডাউয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে কয়েক মাস আগে চলে গেছে। এখন চরের শিশুদের শিক্ষার কোন জায়গা থাকল না। তীব্র নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে শতশত পরিবার গৃহহীন হয়ে রাস্তায় ঝুঁপড়িঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছে। এই এলাকায় ঈদে কোন আনন্দ ছিল না। হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান তারিকুল রহমান বলেন, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। খুব দ্রুত টিনশেড ঘর তৈরি করে শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

বাগেরহাটে সড়ক-বাড়ি পানগুছিতে

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট থেকে জানান, মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদী ভয়াবহ ভাঙ্গনে পাকা সড়ক ও বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। চালতেবুনিয়া এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এ নদীর আকস্মিক ভাঙ্গনে তিনটি বসতবাড়িও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মোরেলগঞ্জ-খাউলিয়া-সন্ন্যাসী-বানিয়াখালী-শরণখোলা পুরাতন সড়কটি বন্ধ হয়ে গেছে। এ সড়ক দিয়ে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নৌকায় পারাপার হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে পানগুছি নদীর পাড়ে ওই এলাকার মূল সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার সংস্কারের অভাবে নদীতে বিলীন হয়েছিল। পরে স্থানীয় উদ্যোগে সেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি মাটি দিয়ে উঁচু করে ইট দিয়ে বিকল্প রাস্তা করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু আকস্মিক ভাঙ্গনে তাও ভেঙ্গে গেছে।

বুধবার মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভাঙ্গনে ঘর হারানো সামছু তালুকদার বলেন, ভোর রাত থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে চার কাঠা জমিসহ বসতঘর সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তেমন কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। ছেলেমেয়ে নিয়ে এখন তিনি রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।

নির্বাচন কর্মকর্তাকে শোকজ

কক্সবাজারে আইডি কার্ড উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ২ হাজার ২শ’ ভোটার আইডি কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় নির্বাচন কর্মকর্তা বেদারুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সোম ও মঙ্গলবার দৈনিক জনকণ্ঠে ‘বাঁকখালী নদী থেকে ভোটার আইডি কার্ড উদ্ধার’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদের সূত্র ধরে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, আইডি কার্ডগুলো কোথা থেকে এবং কিভাবে এসেছে, তা জবাব দিতে বলা হয়েছে ৪ অক্টোবরের মধ্যে। একই সঙ্গে নদীতে ভাসমান অবস্থায় আইডি কার্ড পাওয়ার কারণ জানাতেও বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাঁকখালী নদীর ফিশারিঘাট মগচিতাপাড়া পয়েন্ট থেকে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে অসংখ্য ভোটার আইডি কার্ড।