২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শত বছরের খাল দখল করে রাইস মিল

  • রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতা

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ ১ অক্টোবর ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট এলাকার শত বছরের পুরনো সরকারী খাল দখল করে রাইস মিল নির্মাণ করেছেন এক প্রভাবশালী। কোন প্রকার নিয়ম না মেনে প্রায় আড়াই বিঘা খালের জমি দখল করে রাইস মিলটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের। খাল দখল করে রাইস মিল নির্মাণ করায় খালের উভয় পাশের পানি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাওঘাট এলাকাসহ আশপাশের এলাকার পানি আটকা পড়ে গেছে। এতে করে সামনে ইরি ধান চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাওঘাট এলাকার রফিকুল ইসলাম নামে এক প্রভাবশালী শত বছরের পুরনো খাল বালু দিয়ে ভরাট করেছেন। প্রায় আড়াই বিঘা খাল ভরাট করে আরসিসি পিলার স্থাপন করে একটি শেড নির্মাণ করা হয়। ওই শেডে শিখা রাইস মিল নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বালু ভরাট করে রাইস মিল নির্মাণ করায় এ খালটির উভয় পাশের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। খাল দখল করায় সাওঘাট, মাহনা, গোলাকান্দাইল, আধুরিয়া, ডহরগাঁও, দরিকান্দিসহ আশপাশের এলাকার কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কৃষক আয়েত আলী, ওমর আলী, হালিম মিয়া, ইদ্রিস আলীসহ আরও অনেকেই অভিযোগ করে জানান, খাল দখল করে বালু ভরাট ও রাইস মিল নির্মাণের সময় তারা বাধা দিয়েছিলেন কিন্তু প্রভাবশালী রফিকুল ইসলাম কৃষকদের বাধা না মেনে তিনি রাইস মিলটি নির্মাণ করেছেন। শুধু তাই নয়, কৃষকসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর অনেকেই খাল দখলের প্রতিবাদ করায় তাদের হুমকি দেয়া হয়েছিল। তাই কেউ ভয়ে এখন আর প্রতিবাদ করেন না। ইরি মৌসুমে একমাত্র সেচ খাল এটি। বর্তমানে খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় ধানের ফসলি জমির জন্য পানির অভাবের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। তাই খালটি দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। এ বিষয়ে দখলকারী রাইস মিলের মালিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খাল দখলের বিষয়টি সঠিক নয়। আমার নিজের জমিতেই আমি রাইস মিল করেছি। এছাড়া সরকারী খালের এখানে সরকারী কোন খাল নেই বলে দাবি করেন তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, পুরনো খালটি দখল করে রাইস মিল নির্মাণের বিষয়টি জেনেছি।